মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ইশরাক, পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র ব্যবহারের বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়। আত্মরক্ষার যুক্তি দিলেও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মাদকবিরোধী অভিযানে হাতে পিস্তল নিয়ে মাঠে নামা থেকে শুরু, পদত্যাগের গুঞ্জন, আর শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিজের অবস্থানও ব্যাখ্যা করলেন ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থেই মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন তিনি। তবে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও নিজের পদক্ষেপকে ভুল বলে মনে করেন না ইশরাক।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি নিজেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যা, মাদকবিরোধী অভিযানে সম্ভাব্য হামলা থেকে আত্মরক্ষার জন্যই অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
অভিযানের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল, ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই কি একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে পারেন? এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে যাচ্ছেন না ইশরাক। বরং আরও বিস্তৃতভাবে এ কাজে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে চান বলে জানান।
ঢাকার মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গেও নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন ইশরাক। এর আগে মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, দল চাইলে আবারও মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত তিনি।
তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা কোন দিকে যায়, আর অস্ত্র হাতে অভিযানের ঘটনায় আইনি পর্যালোচনার ফল কী হয়—সেদিকেই এখন নজর।





