এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে
Website Feature Image
ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর প্রশংসায় ট্রাম্প
News Photocard (45)
ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
News Photocard (42)
মক্কা-মদিনায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, হামলার দাবি অস্বীকার হুতির
News Photocard (18)
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্পের সাফাই, জেলেনস্কিকে কটাক্ষ

অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প

অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ৩.৭% মূল্যবৃদ্ধি, শুল্ক ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এমন এক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ইতিবাচক চিত্রের পরও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ কমছে না। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো মোটামুটি শক্তিশালী থাকলেও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানির ব্যয় এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব ভোটারদের মনোভাবকে নেতিবাচক করে তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংকট শুধু অর্থনৈতিক সূচকের প্রশ্ন নয়, বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি দ্রুত দ্রব্যমূল্য কমাবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ কমেনি। ফলে সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংকট কেন বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও শেয়ারবাজারের অবস্থান ইতিবাচক হলেও মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২.২ শতাংশ এবং বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশ। অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির তুলনায় এই প্রবৃদ্ধিকে সম্মানজনক বলে বিবেচনা করা যায়। বেকারত্বের এই হারও এমন কোনো পরিস্থিতি নির্দেশ করে না, যেখানে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।

তবে অর্থনৈতিক সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সরকার ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। প্রশাসন প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সকে অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষ সুপারমার্কেটে পণ্যের দাম, পেট্রল কেনার খরচ এবং মাসিক বিল পরিশোধের সক্ষমতার ভিত্তিতে অর্থনীতির অবস্থা বিচার করছেন।

এই পার্থক্যই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র ভালো থাকলেও মানুষের আয় যদি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে প্রবৃদ্ধির সুফল তাদের কাছে দৃশ্যমান হয় না।

মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না আয়

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ। একই সময়ে পণ্যের দাম বেড়েছে ৩.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যবৃদ্ধির হারের চেয়ে কম।

এই ব্যবধানের অর্থ হলো, আয় বাড়লেও সেই আয় দিয়ে আগের তুলনায় সমপরিমাণ পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ফলে চাকরি থাকা কিংবা বেতন বাড়ার পরও অনেক পরিবারের আর্থিক স্বস্তি তৈরি হচ্ছে না।

ভোটারদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ বোঝার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ব্যক্তিগত ক্রয়ক্ষমতার উন্নতির নিশ্চয়তা দেয় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকলে পরিবারের বাজেটে চাপ থেকেই যায়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ভোটারদের ভিন্ন ধারণা

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। অর্থনৈতিক তথ্য শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও অনেক ভোটার মনে করেছিলেন, অর্থনীতি তাদের স্বার্থে কাজ করছে না। এখন ট্রাম্প প্রশাসনও একই ধরনের অসন্তোষের মুখে পড়েছে।

প্রবীণ ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী সেলিন্ডা লেকের মতে, অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ ভোটাররা মূল্যস্ফীতি শব্দটিকে ভিন্নভাবে বোঝেন। অর্থনীতিবিদরা যখন বলেন মূল্যস্ফীতি কমেছে, তখন সাধারণত বোঝানো হয় যে পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমেছে। কিন্তু ভোটারদের অনেকেই মনে করেন, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ হলো দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।

বাস্তবে মূল্যবৃদ্ধির হার কমে গেলেও পণ্যের দাম আগের পর্যায়ে ফিরে আসে না, যদি না দাম প্রকৃতপক্ষে কমে। ফলে মূল্যস্ফীতির হার কমার খবর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত স্বস্তি তৈরি করতে পারে না।

লেকের বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ অর্থনীতিকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে মূল্যায়ন করেন না; বরং নিজেদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। বাজারে কেনাকাটা, জ্বালানি কেনা এবং নিয়মিত খরচ মেটানোর অভিজ্ঞতা তাদের অর্থনৈতিক মনোভাব নির্ধারণ করে।

এই বাস্তবতা ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংকট আরও জটিল করে তুলেছে। সরকার প্রবৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরলেও মানুষের ব্যয়ের চাপ কমাতে না পারলে সেই বার্তা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান সংঘাতের প্রভাব

ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, বাণিজ্যনীতি এবং অভিবাসননীতির কিছু নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের নিজস্ব নীতিরও ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে শুল্ক আরোপের ফলে ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ পিটার মরিসি, যিনি রিপাবলিকানদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও যুদ্ধের প্রভাবকে দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, এসব সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক পরিণতি সাধারণ মানুষও বুঝতে পারছেন এবং দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন।

তবে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। তাই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সময় শুল্ক, জ্বালানির দাম এবং অন্যান্য নীতিগত প্রভাবকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘লিবারেশন ডে’ শুল্কে ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধি

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ‘লিবারেশন ডে’ নামে পরিচিত শুল্কনীতি ঘোষণা করে। এর উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই শুল্ক ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়েছে।

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুল্কের কারণে ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ২.৯ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যসহ বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যের ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

পরবর্তীতে ট্রাম্প কিছু শুল্ক স্থগিত করেন, নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেন এবং জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে কিছু শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বাধার মুখে পড়েন। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তন না হলে শুল্কের প্রভাব আরও বড় হতে পারত।

শুল্কনীতির অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্যের উৎপাদন ও আমদানির খরচ বাড়লে তার একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকেই উচ্চমূল্যের চাপে থাকা পরিবারগুলোর ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ইরান সংঘাতে জ্বালানির ব্যয় বেড়েছে

শুল্কনীতির পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে সংঘাতও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পেট্রলের খরচেও পড়েছে, যা সাধারণ পরিবারের বাজেটকে আরও চাপে ফেলেছে।

জ্বালানির ব্যয় মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পেট্রলের দাম বাড়লে ব্যক্তিগত যাতায়াতসহ বিভিন্ন নিয়মিত খরচ সামলানো কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যয় ব্যবসা ও পণ্য পরিবহনের খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে।

ফলে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় শুধু সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নাও হতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনৈতিক স্বস্তি পৌঁছাতে হলে দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

বাইডেনের অভিজ্ঞতা থেকে কী শিক্ষা পাচ্ছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বাইডেনের প্রেসিডেন্সির শেষ পর্যায়ের অর্থনৈতিক বিতর্কের মিল রয়েছে। বাইডেনের সময় করোনা মহামারির পরবর্তী পরিস্থিতি ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করেছিল। অর্থনীতির শক্তিশালী সূচক থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের একটি অংশ তাঁর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় অসন্তুষ্ট ছিলেন।

বাইডেনের সমালোচকেরা মূল্যস্ফীতির জন্য তাঁর প্রশাসনকে দায়ী করেছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসন মহামারি ও সরবরাহব্যবস্থার সমস্যার মতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরতে পারত।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বাহ্যিক কারণ রয়েছে। কিন্তু শুল্কনীতির মতো কিছু সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের প্রশাসনের নেওয়া। ফলে মূল্যবৃদ্ধির দায় এড়ানোর সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এই পার্থক্যটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভোটাররা যদি মনে করেন যে সরকারের নিজস্ব নীতির কারণে তাদের ব্যয় বেড়েছে, তাহলে অর্থনৈতিক অসন্তোষ আরও সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেতে পারে।

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের উদ্যোগ

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নীতির ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউস কর কমানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় কমানোর বিষয়গুলোকে আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য সরকারের কাজ করার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

প্রশাসনের যুক্তি হলো, এসব উদ্যোগ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এসব পদক্ষেপের বাস্তব সুফল ভোটাররা কতটা অনুভব করছেন, সেটিই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারের ওপর সীমা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার একটি ধারণাও সামনে এসেছে।

প্রতিবেদনে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন, অর্থায়ন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই এটিকে কার্যকর হয়ে যাওয়া কোনো কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

তবে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে—দৈনন্দিন ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ কমানো এখন রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অর্থনীতি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কম বেকারত্ব প্রশাসনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকা এবং আয় বৃদ্ধির তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ার অভিজ্ঞতা ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো, মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল নিজেদের জীবনে অনুভব করছেন কি না। প্রবৃদ্ধি বাড়লেও যদি পরিবারের মাসিক বাজেটের চাপ কমে না, তাহলে অর্থনৈতিক সাফল্যের সরকারি ব্যাখ্যা ভোটারদের মনোভাব বদলাতে ব্যর্থ হতে পারে।

ট্রাম্পের জন্য চ্যালেঞ্জটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি দ্রব্যমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার তুলনা করে ভোটাররা তাঁর প্রশাসনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের জন্যও এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে পরিচিত। বাইডেন প্রশাসনের সময় অর্থনৈতিক সূচক ও জনমতের ব্যবধান দলটির জন্য সমস্যা তৈরি করেছিল। এখন ট্রাম্প একই ধরনের ব্যবধান কীভাবে মোকাবিলা করেন, তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অর্থনৈতিক সূচকের চেয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, একটি দেশের অর্থনীতির মূল্যায়ন শুধু মোট দেশজ উৎপাদন, বেকারত্বের হার কিংবা শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না। মানুষের আয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলানোর সক্ষমতাও অর্থনৈতিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে ২.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ৪.২ শতাংশ বেকারত্বের হার অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় ৩ শতাংশ বাড়ার বিপরীতে পণ্যের দাম ৩.৭ শতাংশ বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ থেকে যেতে পারে।

এ কারণেই ট্রাম্পের অর্থনৈতিক সংকট বোঝার জন্য অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জনমত ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারের নীতি কতটা কার্যকর, তা শুধু সামগ্রিক সূচক দিয়ে নয়, বরং মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন দিয়েও বিচার করা হয়।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যবধান কমাতে পারবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয়, অর্থনীতি বাস্তবে কতটা শক্তিশালী—তার পাশাপাশি ভোটাররা অর্থনীতিকে কীভাবে অনুভব করছেন, সেটিও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত