সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা, মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি করে ৩ কার্যদিবসে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) মাউশির জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু কমিটি গঠন করলেই হবে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কার্যদিবসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

মাউশির চিঠি অনুযায়ী, দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে বাধ্যতামূলকভাবে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগে বিভিন্ন পক্ষকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ রাখা এবং মাদক ও ইভটিজিংয়ের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ বলে এ কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়েছে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে
মাউশির নির্দেশনায় কমিটি গঠনের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।
দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ই-মেইলে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন পাঠানোর নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা:
ad-admin@dshe.gov.bd
অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমে কমিটি গঠন করতে হবে এবং এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কার্যক্রমের তথ্য মাউশির কাছে পাঠাতে হবে।
কেন মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত
মাউশির চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) একটি সভার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠি অনুযায়ী, গত ৫ নভেম্বর এনএসআইয়ের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, কমিটি গঠনের বিষয়টি কেবল মাউশির নিজস্ব প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ নির্দেশনা এসেছে।
৫ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উদ্যোগ
৫ নভেম্বরের মাসিক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৮ নভেম্বর মাউশি এ বিষয়ে চিঠি জারি করে।
চিঠিটি মাউশি অধিদপ্তরের সব অঞ্চলের পরিচালক, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর মাধ্যমে অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একই নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা থাকবেন প্রতিরোধ কমিটিতে
মাউশির নির্দেশনায় কমিটির সদস্য হিসেবে চারটি পক্ষের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এগুলো হলো—
শিক্ষক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শিক্ষক প্রতিনিধিরা কমিটিতে থাকবেন।
অভিভাবক: শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতিনিধিদের যুক্ত করতে হবে।
স্থানীয় কর্মকর্তা: সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি: স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও কমিটিতে রাখতে হবে।
এ ধরনের সমন্বিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের একই উদ্যোগের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা, নির্দিষ্ট পদবিন্যাস, সভাপতির দায়িত্ব কিংবা সভা আয়োজনের নিয়ম সম্পর্কে সরবরাহ করা চিঠির তথ্যে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব বিষয়ে আলাদা নির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন কী করণীয়
মাউশির নির্দেশনার পর দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর প্রধান কাজ হলো দ্রুত কমিটি গঠন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানো।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।
1. মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে।
2. কমিটিতে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
3. কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
4. তিন কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধের বিষয়টি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় শুধু শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে অভিভাবক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাউশির এই উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণের একটি কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে কমিটি গঠন এবং বাস্তবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা দুটি আলাদা বিষয়। নির্দেশনায় আপাতত কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি কিংবা নিয়মিত তদারকির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চিঠিতে উল্লেখ নেই।
মাউশির নির্দেশনা: এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| নির্দেশদাতা | মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) |
| নির্দেশনার তারিখ | ৮ নভেম্বর ২০২৬ |
| প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠান | দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ |
| কমিটির নাম | মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি |
| সদস্য | শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধি |
| সিদ্ধান্তের ভিত্তি | এনএসআইয়ের ৫ নভেম্বরের মাসিক সভা |
| প্রতিবেদন জমার সময় | ৩ কার্যদিবস |
| ই-মেইল | ad-admin@dshe.gov.bd |
মাদক ও ইভটিজিং প্রতিরোধে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা
মাউশির এই নির্দেশনার মাধ্যমে দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজকে একই ধরনের প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়টি নির্দেশনার প্রধান দুটি দিক।
এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন জমা দেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসব কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।





