এইমাত্র

আরও খবর

Untitled design (6)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ প্রসঙ্গে যা বললেন মামুনুল হক
Untitled design (3)
দেশে ফিরেছেন ২১৩৪৩ বাংলাদেশি হজযাত্রী
Untitled design
আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন জমা আজ
Untitled design (18)
মির্জা আব্বাস জুনের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন
Untitled design (6)
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা জামায়াত আমিরের

ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগর এলাকার বাইরে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুনর্বাসন ও যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ জানুন।

ঢাকার যানজট কমানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সমাধান খুঁজছে যাতে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের কর্মসংস্থান বজায় থাকে, আবার মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাও উন্নত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি কেবল যানজট নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগরের বাইরে নেওয়ার চিন্তা কেন?

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন একই সঙ্গে রাজধানীতে বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কতটা সম্ভব।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় নেমে এসেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে এগুলো সরিয়ে দেওয়া সহজ নয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বেকারত্ব এবং মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাতারাতি এসব যানবাহন উচ্ছেদ করা বাস্তবসম্মত হবে না। কারণ এতে বহু মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন।

পুনর্বাসনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সরকারের লক্ষ্য কোনোভাবেই চালকদের কর্মহীন করে দেওয়া নয়। বরং এমন একটি পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে তারা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পান অথবা মহানগরের বাইরের এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ করে তাদের কর্মহীন করে দিলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে বেকারত্ব না বাড়ে এবং একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর চাপও কমে।

এআই প্রযুক্তিতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আশা

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, রাজধানীর যানজট নিরসনে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর কাজ শুরু হয়েছে।

তার মতে, এই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি “বৈপ্লবিক পরিবর্তন” আসতে পারে। ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার কিছু সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কারা কাজ করছে এই প্রযুক্তি উন্নয়নে?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজে একসঙ্গে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞরা।

তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা রাজধানীর যান চলাচল আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

রাতের ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাতের বেলায়ও এখন অনেক বেশি চালক ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন। এর পেছনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা দায়েরের ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতাও বাড়ছে।

ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থার প্রভাব

ডিজিটাল বা স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থার ফলে চালকদের মধ্যে নিয়ম ভঙ্গের বিষয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সরকারের পর্যবেক্ষণ। এতে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হচ্ছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে একদিকে রাজধানীর যানজট কমানো এবং অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকা সুরক্ষিত রাখা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার তাৎক্ষণিক উচ্ছেদের পথে না গিয়ে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন ও ব্যবস্থাপনার কৌশল গ্রহণ করতে চায়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাটারিচালিত রিকশা মহানগরের বাইরে পরিচালনার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, তা রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা, একই সঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

সর্বাধিক পঠিত