কেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে রেফারি হতে পারবেন না ইংল্যান্ডের কেউ, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি নিয়োগে ফিফার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হওয়ায় রেফারি নিয়োগে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ইংল্যান্ডের দুই রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর। ফিফার নিয়ম এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ইতিহাস বিবেচনায় তাঁদের আর ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
আটলান্টায় আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের পাশাপাশি ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালেও মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলরের দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ ফাইনালে ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার যেকোনো একটি দল উঠবে এবং প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ী দল। ফলে ফিফার নির্ধারিত নীতির কারণে ইংলিশ এই দুই রেফারি বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি নিয়ে ফিফার নিয়ম কী বলছে

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রেফারি নিজের দেশের জাতীয় দলের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন না। সম্ভাব্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এই নিয়মের কারণে ইংল্যান্ডের রেফারি মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলর সেমিফাইনালে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। যদিও এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড গড়েছেন অলিভার।
এর আগে ইংল্যান্ডের রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড ছিল হাওয়ার্ড ওয়েবের। এবার সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছেন মাইকেল অলিভার।
তবে শুধু জাতীয় দলের বিষয় নয়, ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কও রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
ফকল্যান্ডস যুদ্ধের ইতিহাসও বিবেচনায় ফিফার
ইএসপিএনকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেফারি নিয়োগের সময় প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে ফিফা। সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়ও সেখানে গুরুত্ব পায়।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতার অন্যতম কারণ ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস যুদ্ধ। দক্ষিণ আটলান্টিকের ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলে।
এই যুদ্ধে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মোট ৯০৭ জন মানুষ প্রাণ হারান।
এ কারণে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ইংল্যান্ডের রেফারিদের দায়িত্ব না দেওয়ার নীতি আগেও দেখা গেছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
২০২২ বিশ্বকাপেও একই পরিস্থিতিতে ছিলেন অ্যান্থনি টেলর
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচেও অ্যান্থনি টেলরের নাম আলোচনায় ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠায় সেই ম্যাচ পরিচালনার দৌড় থেকে তিনি বাদ পড়ে যান।
ইএসপিএনের সূত্র জানিয়েছিল, যদি ফাইনালে ফ্রান্সের পরিবর্তে ক্রোয়েশিয়া প্রতিপক্ষ হতো, তাহলে টেলরের ম্যাচ পরিচালনার সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল।
এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠার কারণে আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে ইংলিশ রেফারিদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে রেফারি সংকটের কারণ
শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ‘মুচাচোস’ গান গাওয়ার একটি ভিডিও সামনে আসে। সেই গানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
ফকল্যান্ডস ইস্যু ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের আবেগ ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে রেফারি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে ফিফা।
এমনকি ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে হেরে গেলেও মাইকেল অলিভার ও অ্যান্থনি টেলরের ফাইনালে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি সিদ্ধান্তে ফাইনালের পথও বন্ধ
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি আলোচনায় শুধু ইংল্যান্ডের দুই রেফারিই নন, আর্জেন্টিনার রেফারি ফাকুন্দো তেল্লোর নামও রয়েছে।
ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে ওঠায় ফাকুন্দো তেল্লোর জন্যও ফাইনালের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু ফাইনাল নয়, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও মাইকেল অলিভার, অ্যান্থনি টেলর কিংবা ফাকুন্দো তেল্লোর কেউই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত মূলত নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য বিতর্ক এড়ানোর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্পেন-ফ্রান্স সেমিফাইনালের রেফারি চূড়ান্ত
বিশ্বকাপের অন্য সেমিফাইনালে স্পেন ও ফ্রান্স মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন।
ফিফা ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয় বিবেচনা করেই রেফারি নির্বাচন করছে।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে রেফারি নিয়োগ সবসময়ই আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। এবারও ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার কারণে বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল ম্যাচ ঘিরে রেফারি নিয়োগে ফিফার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ রেফারি প্রসঙ্গে ফিফার নীতি, দুই দেশের ইতিহাস এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
মাইকেল অলিভার, অ্যান্থনি টেলর ও ফাকুন্দো তেল্লো—তিন রেফারিই এবার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ থেকে বাইরে থাকছেন।





