ইতিহাস বলছে আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে, শেষ চারের প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে দলটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন লড়াইয়ের আগে ইতিহাস কতটা আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে জানুন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নামার আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মিশরের বিপক্ষে জয় পাওয়ার পর লিওনেল মেসিদের সামনে এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। অতীতের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এখন পর্যন্ত কখনও হারেনি আর্জেন্টিনা। সেই ইতিহাসই এবারও দলটির সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে।
মিশরের বিপক্ষে জয় শেষে সতীর্থরা লিওনেল মেসিকে শূন্যে তুলে উদযাপন করেন। সেই জয় দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেয় এবং নতুন করে সামনে আসে আর্জেন্টিনার শেষ চারের সাফল্যের ইতিহাস।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ইতিহাস কী বলছে?
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দলটি এখন পর্যন্ত ছয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলেছে এবং প্রতিবারই জয় পেয়েছে। ফলে সপ্তমবারের মতো শেষ চারে খেলতে নামার আগে অতীতের এই পরিসংখ্যান তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

তবে কেবল ইতিহাসের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ এবং দলের অন্য ফুটবলারদের।
১৯৩০: প্রথম সেমিফাইনালে বড় জয়
আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে আয়োজিত বিশ্বকাপে।
সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা। শেষ চারে এটি ছিল দলটির সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
১৯৮৬: বেলজিয়ামকে হারিয়ে শিরোপার পথে
প্রথম সেমিফাইনালের পর দ্বিতীয়বার শেষ চারে উঠতে আর্জেন্টিনাকে অপেক্ষা করতে হয় ৫৬ বছর।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে দলটি। পরে সেই আসরেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনা প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও সেই টুর্নামেন্টে বর্তমানের মতো সেমিফাইনাল ফরম্যাট ছিল না।
১৯৯০: টাইব্রেকারের নাটকীয় জয়
১৯৯০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতালির মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তারা।
২০১৪: মারাকানার পথে মেসিদের অগ্রযাত্রা
দীর্ঘ ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় দলটি।
এর মাধ্যমে মারাকানা স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলার সুযোগ পান লিওনেল মেসিরা। যদিও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
২০২২: ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে
সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে আবারও নিজেদের সেমিফাইনাল সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে আর্জেন্টিনা।
ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দল। পরে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা এবং মেসির ক্যারিয়ারে যোগ হয় সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি।
এবার সপ্তম সেমিফাইনাল
এবার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ইতিহাস নতুন অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয় পেলে দলটি আবারও ফাইনালে উঠবে এবং নিজেদের শতভাগ সেমিফাইনাল জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখবে।
তবে ইতিহাস অনুপ্রেরণা দিলেও ফল নির্ধারণ হবে মাঠের পারফরম্যান্সে। লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও সতীর্থদেরই সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
১৫ জুনের অপেক্ষা
সবশেষে চোখ থাকবে ১৫ জুন রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনাল ম্যাচের দিকে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরই জানা যাবে, আর্জেন্টিনা কি তাদের সেমিফাইনাল জয়ের ইতিহাস ধরে রেখে আবারও ফাইনালে উঠতে পারবে, নাকি ইংল্যান্ড সেই ধারাবাহিকতায় ইতি টানবে।





