কোর্তোয়াকে কেন তুলে নিয়েছিলেন, জানালেন কোচ,কোর্তোয়া বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো স্পেনের বিপক্ষে। চোটের কারণে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত, কোচের ব্যাখ্যা ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জানুন।
বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কোর্তোয়া বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়েছে স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচের ৭১ মিনিটে চোটের কারণে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ রুডি গার্সিয়া। ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া জানান, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তবে দলের স্বার্থে কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে কোচ জানিয়েছেন, শতভাগ ফিট না থাকা খেলোয়াড়কে মাঠে না রাখার নীতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বেলজিয়াম শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। কোর্তোয়া মাঠ ছাড়ার সময় স্কোরলাইন ছিল ১-১। তবে তার বদলি হিসেবে নামা গোলকিপার সেনে লামেন্সের ভুলে ম্যাচের শেষ দিকে দ্বিতীয় গোল হজম করে বেলজিয়াম।
কোর্তোয়া বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো চোটের কারণে

স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন থিবো কোর্তোয়া। স্প্যানিশ আক্রমণ সামলাতে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লং কিক নেওয়ার সময় ঊরুর সামনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন তিনি।
কিছুক্ষণ মাঠে থাকার পরও কোর্তোয়া বুঝতে পারেন, লং কিক নিতে তার সমস্যা হচ্ছে। যদিও গোলপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে কোনো অসুবিধা হচ্ছিল না বলে জানান তিনি।
ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া বলেন, ঊরুর সামনের পেশিতে অনেক ব্যথা ছিল। তবে গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে সমস্যা হচ্ছিল না, শুধু লং কিক নেওয়ার সময় ব্যথা বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত কোচ তাকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও জানান, দলের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।
কোচ রুডি গার্সিয়ার ব্যাখ্যা
কোর্তোয়াকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশ্নের মুখে পড়েন বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই তার পরিকল্পনা ছিল শতভাগ ফিট নয় এমন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে না রাখা।
কোচের মতে, কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেছিলেন, চোট নিয়ে খেলোয়াড়কে মাঠে রাখলে দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে ম্যাচের ফল বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। কারণ কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে নামা গোলকিপার সেনে লামেন্সের ভুলেই শেষ পর্যন্ত স্পেন এগিয়ে যায়।
বদলি গোলকিপারের ভুলে বেলজিয়ামের হার
২৪ বছর বয়সী সেনে লামেন্সের জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার ভুল বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই গোলকিপার পাউ কুবারসির শট ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বল তার হাত থেকে ছুটে গেলে সুযোগ কাজে লাগান স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
মেরিনো সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন এবং স্পেন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আর কমাতে পারেনি বেলজিয়াম।
কোর্তোয়ার মানবিক আচরণ, পাশে দাঁড়ালেন লামেন্সের
হার এবং হতাশার মধ্যেও সতীর্থ সেনে লামেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন থিবো কোর্তোয়া।
ম্যাচ শেষে তিনি লামেন্সকে জড়িয়ে ধরেন এবং তাকে সমর্থন জানান। কোর্তোয়া বলেন, ওই মুহূর্তে এর বেশি কিছু করার ছিল না। তিনি লামেন্সকে একজন দুর্দান্ত গোলকিপার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
সেনে লামেন্সের জন্য অভিজ্ঞতাটি কঠিন হলেও কোর্তোয়ার এই সমর্থন দলের ভেতরের ঐক্যের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
কোর্তোয়া বিশ্বকাপ যাত্রায় ছিল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স
কোর্তোয়া বিশ্বকাপ যাত্রা শুধু বিদায়ের গল্প নয়, বরং দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেরও সাক্ষী। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পাওয়ার আগে তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন।
স্পেনের একমাত্র গোলটি আসে ৩০ মিনিটে। ফাবিয়ান রুইজের শট দিক পরিবর্তন করে কোর্তোয়ার জালে ঢুকে যায়। এর বাইরে স্পেনের আক্রমণের বিপক্ষে তিনি বেশ কয়েকবার দলকে রক্ষা করেন।
বল নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ম্যাচে তার ২৯টি পাসের মধ্যে ২২টি সফল হয়, যা বেলজিয়ামের বিল্ডআপ খেলায় তার অবদানের প্রমাণ দেয়।
বিশ্বকাপে কোর্তোয়ার রেকর্ড
চলতি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী থিবো কোর্তোয়া।
স্পেনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলরক্ষকদের তালিকায় এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। তার বিশ্বকাপ ম্যাচ সংখ্যা ২৩টি।
কোর্তোয়ার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পারফরম্যান্স বেলজিয়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এবার তার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো একটি চোট এবং কঠিন বিদায়ের মধ্য দিয়ে।





