আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক অগ্রযাত্রা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তাঃ দেশজুড়ে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (36)
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বিরোধীদলীয় নেতার শোক
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (31)
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার

সেই দিনই বুঝেছিলাম শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত: সাদিক কায়েম

সেই দিনই বুঝেছিলাম শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত: সাদিক কায়েম। ডাকসু ভিপি ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি নিয়ে সতর্ক করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেদিন ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল, সেদিনই বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক, যিনি সাদিক কায়েম নামে পরিচিত। শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ক্যাম্পাস নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডাকসুর উদ্যোগে ‘জুলাইয়ে সঞ্চারিত সাহস: গণরুম-গেস্টরুম পেরিয়ে নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

শেখ হাসিনার পতন নিয়ে সাদিক কায়েমের বক্তব্য

সভাপতির বক্তব্যে সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেদিন ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল, সেদিনই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ই শেখ হাসিনার পতন সুনিশ্চিত বলে মনে হয়েছিল।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে এখন আর গণরুম বা গেস্টরুম নেই। একই সঙ্গে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির চর্চাও নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সাদিক কায়েমের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জোর করে কোনো কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া, তাদের অধিকার হরণ করা কিংবা এ ধরনের অপরাজনীতির চর্চা বর্তমানে আর নেই। তার দাবি, ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশে এসব পরিবর্তন এসেছে জুলাই-পরবর্তী সময়ে।

ডাকসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর সহিংসতা কমেছে: ভিপি

ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ডাকসু কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আবাসনসংকট দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসনসংকট দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কোনো ধরনের জোরপূর্বক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থাকা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রশাসনকে সাদিক কায়েমের সতর্কবার্তা

আলোচনা সভা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন ডাকসু ভিপি। তিনি ১৭ জুলাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী দিবস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাদিক কায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আবার কোনো সংগঠনকে ছাত্রলীগের মতো পদ্ধতিতে ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি তৈরি করার সুযোগ দেয়, তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না।

তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, ক্যাম্পাসে কোনো সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা জোরপূর্বক সাংগঠনিক সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

হাসনাত ও সারজিসকে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আবদুল কাদের তাদের উদ্দেশে যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন নিয়ে তাদের অবস্থান কী ছিল, সেটি পরিষ্কার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সানাউল্লাহ হকের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা যদি শেখ হাসিনার পতন-এর পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যদি তারা ওই আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন, তাহলেও তা জানানো উচিত। তার মতে, অবস্থান পরিষ্কার না হলে বাংলাদেশের মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।

আবদুল কাদেরের সাক্ষাৎকার ঘিরে প্রশ্ন

হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের অবস্থান স্পষ্ট করার এই আহ্বানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম আন্দোলনের গতিবিধি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।

আবদুল কাদেরের অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে হাসনাত ও সারজিস অন্য সমন্বয়কদের বলেছিলেন, তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন এবং বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে আন্দোলন করছেন। একই সঙ্গে কাদেরকে থামানোর কথাও বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

এই বক্তব্যের পরই হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হলো আলোচনা সভা থেকে।

ক্যাম্পাসে আবাসন ও শিক্ষার পরিবেশের দাবি

আলোচনা সভায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিকও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিবিরের দূরত্ব তৈরি করতে একটি একমুখী বয়ান তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনসংকট দূর করার পাশাপাশি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানান।

সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসরাও বক্তব্য দেন। আলোচনায় ক্যাম্পাসে নির্যাতন বন্ধ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, আবাসনসংকট এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শেখ হাসিনার পতন প্রসঙ্গে আলোচনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাদিক কায়েমের বক্তব্যে শেখ হাসিনার পতন প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও জুলাই-পরবর্তী ক্যাম্পাস পরিস্থিতির আলোচনার সঙ্গে। তিনি ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন।

তবে আলোচনার বড় একটি অংশ ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, পেশিশক্তির রাজনীতি এবং জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বক্তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকটের স্থায়ী সমাধান এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও সভায় গুরুত্ব পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সাদিক কায়েম শেখ হাসিনার পতন নিয়ে তার উপলব্ধির কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি জুলাই-পরবর্তী ক্যাম্পাস পরিস্থিতি, সহিংসতা কমানো, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট সমাধানের বিষয়ে ডাকসুর অবস্থান তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমকে ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং শেখ হাসিনার পতন প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। ফলে আলোচনা সভায় ক্যাম্পাস সংস্কারের পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়।

সর্বাধিক পঠিত