এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (5)
ভারতের উপকূলে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, সরানো হচ্ছে হাজারো মানুষ
Website Feature Image (3)
কেন আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ আনলেন নেতানিয়াহু
Website Feature Image
ভোটে অমীমাংসিত ফলাফল: ইসরায়েলের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে নেতানিয়াহু
Website Feature Image (33)
অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকটে ট্রাম্প
Website Feature Image (8)
ইসরায়েল সবেমাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তবে চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হতে সময় লাগবে

সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা, ৫ পুলিশ আহত

সিজেপির বিক্ষোভে আবারও সহিংসতা, ৫ পুলিশ আহত, যন্তর মন্তরের কাছে সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস ও সীমিত শক্তি প্রয়োগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।

দিল্লির যন্তর মন্তরের কাছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে দিল্লি পুলিশের দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), দুই পরিদর্শক এবং আরও একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ) ও দিল্লি পুলিশ সীমিত শক্তি ব্যবহার করে এবং দুই থেকে তিনটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

সিজেপির বিক্ষোভে সহিংসতা, আহত ৫ পুলিশ সদস্য

দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কানাট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যন্তর মন্তরে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পরে ওই এলাকায় চলে যায়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে কানাট প্লেস এলাকার এসিপি বিবেক ভগতকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া (আরএমএল) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু বিক্ষোভকারীর হাতে লাঠি ছিল। কয়েকজনকে তলোয়ার ও খুকরি প্রদর্শন করতেও দেখা গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

সংঘর্ষের আগে শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরুতে তারা বলপ্রয়োগ করেনি। বরং বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।

আন্দোলনের আয়োজক এবং সিজেপির নেতাদেরও ঘটনাস্থলে ডেকে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একটি অংশ আয়োজকদের কথাও শোনেনি।

পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বড় পাথর ছোড়া হয়। এরপর র‌্যাফ ও দিল্লি পুলিশ সীমিত শক্তি প্রয়োগ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এলাকা খালি করে।

দিল্লি পুলিশের আরও অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ওই কর্মকর্তাকে চারদিক থেকে ঘিরে হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে কিছু মানুষ গালিগালাজ ও উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ।

টানা তৃতীয় দিন সংঘর্ষের দাবি পুলিশের

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ ঘিরে এটি টানা তৃতীয় দিনের মতো নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা। পুলিশের দাবি, সন্ধ্যার পর কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি বিক্ষোভে ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সিজেপি

সংঘর্ষের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে দলটির শর্ত, আলোচনা কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা দপ্তরে নয়, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে।

বুধবার যন্তর মন্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি জানান, পুলিশ তাদের বলেছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তার বাসভবনে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে সিজেপি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

দলটির বক্তব্য, সরকারের প্রতিনিধিদের বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানে এসে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরে বৈঠক সম্ভব না হলে কাছাকাছি অন্য কোনো স্থানে আলোচনার আয়োজন করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে দলটি।

সিজেপি আরও জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন লিখিত আশ্বাস তারা সরকারের কাছে চাইবে।

২০ জুন থেকে শুরু আন্দোলন

গত ২০ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তারা।

পরবর্তীতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

সিজেপির পক্ষ থেকে ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। তার বক্তব্য, সরকার স্পষ্টভাবে নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তা চান তিনি।

দিল্লির বাইরে ছড়িয়েছে বিক্ষোভ

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন এখন দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিহার, তামিলনাড়ু, গোয়া, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ও সংহতি কর্মসূচি হয়েছে।

বিহারের রাজধানী পাটনায় রাজ্যপালের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে।

এ ছাড়া অন্য রাজ্যগুলোতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ এবং সংহতি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আদালতে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

একই সঙ্গে পুলিশের অভিযানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

অন্যদিকে, পুলিশের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি আবেদনের জরুরি শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

সিজেপির বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে এখন একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবির সমাধান চাচ্ছে। ফলে আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করছে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, আদালতের কার্যক্রম এবং সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত