প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন—জানুন বিস্তারিত।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মরত দেশের আইন মেনে চলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করতে পারে বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করা এবং আইনগত জটিলতা এড়াতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা কী?

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের অবশ্যই কর্মরত দেশের আইন, বিধি-বিধান এবং কর্মস্থলের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সাইবার আইন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পরিবার, বন্ধু ও ইতিবাচক যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা উচিত। তবে অনলাইনে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কী নির্দেশনা?
প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
- চাকরি, নিয়োগকর্তা বা কর্মস্থল-সংক্রান্ত তথ্য, ছবি কিংবা ভিডিও প্রকাশের আগে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
- অপরিচিত ব্যক্তি, অজানা লিংক, ফাইল বা বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।
- অনলাইন স্ক্যাম ও ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক কার্যক্রম থেকে দূরে থাকতে হবে।
- কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।
- সন্দেহজনক বা উসকানিমূলক অনলাইন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
যেসব বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে
বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কর্মীদের জন্য বেশ কয়েকটি বর্জনীয় বিষয়ও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠন-সম্পর্কিত কোনো পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা বার্তা শেয়ার, লাইক, মন্তব্য বা প্রচার না করা।
- গুজব, ভুয়া তথ্য বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার না করা।
- ধর্মীয়, জাতিগত বা বর্ণগত বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে এমন পোস্ট বা বিতর্কে অংশ না নেওয়া।
- কোনো অপরাধ, সহিংসতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডকে সমর্থন বা প্রশংসা করে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া না দেওয়া।
আন্তর্জাতিক সংঘাত ও রাজনৈতিক বিষয়ে সতর্কতা
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন, ইরান-ইসরায়েল কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে এমন কোনো উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার বা প্রচার করা যাবে না, যা কর্মরত দেশের আইন লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া কর্মরত দেশে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম বা অনলাইন প্রচারণায় অংশগ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যথাযথ যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা অনলাইন তহবিলে অনুদান না দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশনা
প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা-এ ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
- কর্মস্থল, বিমানবন্দর, বন্দর, সরকারি স্থাপনা বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থানের ছবি বা ভিডিও ধারণ কিংবা প্রকাশ করা যাবে না।
- নিজের বা অন্যের পাসপোর্ট, ভিসা, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক তথ্য অথবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রতারণামূলক প্রলোভন সম্পর্কে সতর্কবার্তা
মন্ত্রণালয় প্রবাসী কর্মীদের ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, অবৈধ ভিসা, দ্রুত অর্থ আয়ের প্রলোভন, সন্দেহজনক বিনিয়োগ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত প্রতারণা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের আগে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রবাসীদের জন্য ১০ জরুরি নির্দেশনা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপদ, আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, স্থানীয় আইন মেনে চলা এবং অনলাইন প্রতারণা এড়িয়ে চলার বিষয়ে এসব নির্দেশনা অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সম্ভব হতে পারে।





