এনসিপিসহ ৭ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়ায় ব্যবস্থা নেবে ইসি। ১৩ দল সময় চেয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছে তারা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সাতটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার জন্য ৫৯টি দলকে সময় দেওয়া হলেও সাতটি দল কোনো হিসাব জমা দেয়নি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি। একই সময়ে আরও ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
এনসিপিসহ ৭ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা পড়েনি

ইসি সূত্র অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩৮টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) পরে ১৩ আগস্ট হিসাব জমা দেয়।
অন্যদিকে, সাতটি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দেওয়ার পাশাপাশি সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি। এই সাত দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল ও আমজনতার দল রয়েছে। বাকি দলগুলো হলো বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।
এ সাতটি দলই ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিলেও বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে জমা দেয়নি তারা।
কেন হিসাব জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল ইসি
এর আগে ৭ জুলাই ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫৯টি দলকে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই হিসাব জমা দেওয়ার কথা ছিল।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটিকে এই নির্দেশের আওতায় রাখা হয়নি। আবার ৩১ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস, অর্থাৎ ২ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বিধি অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে আগের পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের হিসাব জমা দেওয়ার জন্যই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নতুন নিবন্ধিত দলগুলোর হিসাবের বিষয়টি কী
হিসাব জমা না দেওয়া সাত দলের মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। গত বছরের শেষভাগে নিবন্ধন পাওয়া দল তিনটি হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল ও আমজনতার দল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি গত বছরের ১৯ নভেম্বর নিবন্ধন পায়। ফলে আগের পঞ্জিকাবর্ষে দলটির কার্যক্রমের সময় ছিল এক মাস ২১ দিন।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। তাঁর জানা মতে, দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা ইসিতে হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আমজনতার দল গত বছরের ২১ ডিসেম্বর নিবন্ধন পায়। আগের পঞ্জিকাবর্ষে দলটির কার্যক্রম ছিল মাত্র ১০ দিন।
দলটির সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে তারা জানেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দলের নয় দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
জনতার দল ১১ ডিসেম্বর নিবন্ধন পেয়েছে। আইন অনুযায়ী দলটিকে ২০ দিনের হিসাব দিতে হবে। দলটির মহাসচিব আজম খান বলেন, তারা নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবগত। তবে ইসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি।
১৩ দলকে সময় বাড়িয়ে দিয়েছে ইসি
শুধু সাতটি দলই নয়, আরও ১৩টি রাজনৈতিক দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে পারেনি। তবে এসব দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।
ইসি তাদের আবেদন বিবেচনা করে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। ফলে সময় বাড়ানোর আবেদন করা দলগুলো ওই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে, জাগপা নির্ধারিত সময়ের পরে ১৩ আগস্ট হিসাব জমা দিয়েছে। এর বাইরে সাতটি দল কোনো হিসাব জমা দেয়নি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি।
আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নিতে পারে ইসি
রাজনৈতিক দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়টি আইন ও বিধির আওতাভুক্ত। ইসি সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না দেওয়া দলগুলো আইন লঙ্ঘন করছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, হিসাব জমা না দেওয়া দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল টানা তিন বছর প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ইসি যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে, তা আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নেওয়া হবে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে ইসির অবস্থান
এনসিপিসহ ৭ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না পড়ার বিষয়টি সামনে আসার পর ইসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কারণ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া নির্ধারিত নিয়মের অংশ।
এখানে সাতটি দলের মধ্যে নতুন নিবন্ধিত দলের কার্যক্রমের সময় তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এনসিপির ক্ষেত্রে আগের পঞ্জিকাবর্ষে কার্যক্রম ছিল এক মাস ২১ দিন। আমজনতার দলের কার্যক্রম ছিল মাত্র ১০ দিন এবং জনতার দলকে আইন অনুযায়ী ২০ দিনের হিসাব দিতে হবে।
তবে ইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে যেসব দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে, তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতার গুরুত্ব
নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিধান দলগুলোর আর্থিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক হিসাব সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নির্ধারিত সময়ে হিসাব জমা দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত তদারকির অংশ।
২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে ৫৯টি দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৮টি দল সময়মতো হিসাব জমা দিয়েছে, জাগপা পরে হিসাব দিয়েছে এবং ১৩টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। বাকি সাতটি দল হিসাব জমা দেয়নি।
ইসি এখন এসব দলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে।
এনসিপিসহ ৭ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেদন জমা না দেওয়া দলগুলোকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, সময় বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলের জন্য নতুন সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সামনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এনসিপিসহ ৭ দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ার বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দেওয়ায় এনসিপিসহ সাতটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি। সাতটি দলের মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত দল রয়েছে। এদিকে, সময় বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
ইসির বক্তব্য অনুযায়ী, হিসাব জমা না দেওয়া দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আরপিওর ৯০(এইচ) ধারায় টানা তিন বছর প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।





