এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (2)
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (27)
৫ প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন
News Photocard (13)
আমদানি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
News Photocard (3)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি যত
News Photocard (4)
কমল সোনার দাম, ভরি কত

অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের ৫৭টির সরবরাহ বন্ধ

অত্যাবশ্যকীয় ১১৭ ওষুধের ৫৭টির সরবরাহ বন্ধ, এতে নিম্ন আয়ের ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে, তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি।

বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ে নতুন করে বড় সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। রাজধানীর মিডফোর্ট, কলাবাগান, গুলশান ও শাহবাগ এলাকার আটটি ফার্মেসিতে ১০ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় থাকা ১১৭টি ওষুধের মধ্যে ৬০টি বর্তমানে বাজারে পাওয়া গেলেও ৫৭টির সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়ছে।

সরকার সম্প্রতি তিন দশক আগের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধনীতির তালিকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তালিকার প্রায় অর্ধেক ওষুধই বাজারে না থাকায় সেই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, অতীতে ১৯৯৪ সালের তালিকায় থাকা ওষুধ উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা কার্যকরভাবে মানা হয়নি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনে অবহেলা রয়েছে এবং কেবল কমিটি গঠন না করে প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

কোন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলো বাজারে নেই

বাজারে না থাকা ৫৭টি ওষুধের তালিকায় বিভিন্ন গুরুতর রোগ ও জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রয়েছে। তীব্র ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত পেথিডিন, মানসিক রোগের চিকিৎসায় ক্লোরপ্রোমাজিন ও প্রোক্লোরপেরাজিন পাওয়া যাচ্ছে না।

ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোরোকুইন, কুইনাইন, মেফ্লোকুইন, পাইরিমেথামিন-সালফাডক্সিন এবং মেফ্লোকুইন-পাইরিমেথামিন-সালফাডক্সিনও বাজারে সরবরাহ নেই।

যক্ষ্মার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ইথামবিউটল ও আইসোনিয়াজিড এবং কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্লোফাজিমিন ও ড্যাপসোনও অনুপস্থিত ওষুধের তালিকায় রয়েছে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ওষুধেও ঘাটতি

অসংক্রামক রোগের চিকিৎসাতেও একই ধরনের সংকট দেখা যাচ্ছে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত গ্লিবেনক্লামাইড বাজারে নেই।

উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত নিফেডিপিন, মেথাইলডোপা, বেন্ড্রোফ্লুয়াজাইড এবং আইসোসরবাইড ডাইনাইট্রেট/মনোনাইট্রেটও সরবরাহ বন্ধ থাকা ওষুধের তালিকায় রয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রেও ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। ক্লক্সাসিলিন, অ্যামক্সিসিলিন, অ্যাম্পিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল, বেঞ্জাথিন পেনিসিলিন, বেঞ্জিল পেনিসিলিন এবং প্রোকেইন বেঞ্জিল পেনিসিলিনের মতো ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহ অনিশ্চিত হলে রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

জরুরি চিকিৎসায়ও নেই গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ

বাজারে না থাকা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে পলিভ্যালেন্ট অ্যান্টিভেনম। বিষধর সাপের কামড়ে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যান্টিভেনমের সরবরাহও বন্ধ।

প্রসবকালীন জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত অক্সিটোসিন ও এরগোমেট্রিনও বাজারে নেই। প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে এসব ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ। তাই জরুরি প্রসূতি সেবায় এগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

শুধু ওষুধ নয়, কয়েক ধরনের টিকার সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। তালিকায় থাকা ডিপথেরিয়া-পারটুসিস-টিটেনাস, ডিপথেরিয়া-টিটেনাস, হাম, পোলিও, ইয়েলো ফিভার ও মেনিনজোকক্কাল টিকাও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ছাড়া যক্ষ্মা শনাক্তের ত্বক পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিউবারকিউলিন এবং বিভিন্ন ইমেজিং পরীক্ষায় ব্যবহৃত মেগলুমিন আয়োগ্লাইকামেট, সোডিয়াম ডায়াট্রিজোয়েট ও সোডিয়াম আইওথালামেটের মতো কনট্রাস্ট এজেন্টও বাজারে নেই।

জেনেরিক নাম থাকলেও রোগীর কাছে ওষুধ খুঁজে পাওয়া কঠিন

রাজধানীর ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ নেওয়ার সময় আরেকটি সমস্যা সামনে এসেছে। বিক্রেতাদের একটি বড় অংশ পুরনো তালিকায় থাকা জেনেরিক নামের সঙ্গে পরিচিত নন। এর কারণ, একই ওষুধ বিভিন্ন কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করে।

ফলে সরকারি তালিকায় থাকা জেনেরিক নাম ধরে রোগী বা স্বজন ওষুধ চাইলে অনেক সময় ফার্মেসিতে সেটি পাওয়া যায় না। বিকল্প ব্র্যান্ড থাকলেও তার দাম কোম্পানি ও বাজারভেদে আলাদা হতে পারে।

এর ফলে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য—সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধের সহজলভ্যতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দেশে অনুমোদিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ৩০১টি। তবে নিয়মিত উৎপাদন করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি ওষুধ বিভিন্ন কোম্পানি উৎপাদন করে না। আবার কিছু ওষুধ ভিন্ন নামে বাজারজাত হওয়ায় সরকারি তালিকার জেনেরিক নামের সঙ্গে বাজারের ব্র্যান্ডের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

১৯৯৪ সালের তালিকা ও বর্তমান বাস্তবতা

১৯৯৪ সালের গেজেট অনুযায়ী, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৩০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদনের আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বাধ্যবাধকতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আকতার হোসেন বলেন, অতীতে এই বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি। তাঁর মতে, আধুনিক বা হাইটেক ওষুধের উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হলেও সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদনে চরম অবহেলা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কতগুলো অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তার সঠিক তথ্য ঔষধ প্রশাসনের কাছে নেই। তবে তাঁর ধারণা, ৫০ শতাংশের বেশি ওষুধ বাজারে নেই। কিছু ওষুধ কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে উন্নত বিকল্প ওষুধ বাজারে এসেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বে তালিকা বাড়লেও বাংলাদেশে হালনাগাদ নিয়ে প্রশ্ন

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের ধারণা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৭৭ সালে প্রথম মডেল তালিকা প্রকাশ করে। তখন তালিকায় প্রায় ২০০টি জেনেরিক ওষুধ ছিল। এরপর রোগের ধরন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দেশগুলোকে নিজেদের জাতীয় তালিকা তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি দুই বছর পরপর তাদের মডেল তালিকা হালনাগাদ করে। সংস্থার ২০২৫ সালের মডেল তালিকায় ৫২৩টি ওষুধ এবং শিশুদের জন্য পৃথক তালিকায় ৩৭৪টি ওষুধ রয়েছে। ১৫০টির বেশি দেশ জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা তৈরিতে WHO-এর মডেল তালিকাকে অনুসরণ করে।

বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালে প্রথম ১১৭টি ওষুধ অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০০৮ সালে ২০৯টি ওষুধ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তালিকা প্রকাশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর ২০১৬ সালের জাতীয় ওষুধনীতিতে তালিকায় ২৮৫টি ওষুধ রাখা হয়।

২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার তালিকাটি নতুন করে হালনাগাদ করে। আগে প্রায় ১৬০টি ওষুধ থাকা তালিকায় আরও ১৩৫টি যুক্ত করে মোট সংখ্যা ২৯৫ করা হয়। তবে আইন না মানার কারণে গত দুইবারের হালনাগাদ তালিকা সরকার বাতিল করে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, রোগের ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা জরুরি। তবে কোনো রিভিউ কমিটি বা নির্ধারিত সময় ছাড়া আকস্মিকভাবে তালিকা বাতিল করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তালিকা কার্যকর থাকলে বাজারে ওষুধের প্রাপ্যতা বাড়তে পারত এবং প্রতিযোগিতার কারণে দাম কমার সুযোগ তৈরি হতো। তিনি দ্রুত নতুন ও আধুনিক তালিকা তৈরি করে তা বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনও ১৯৯৪ সালের তালিকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, দেশীয় ওষুধশিল্প ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ২০২৬ সালের তালিকা পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে তালিকায় সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যেতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক জানান, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মানুষ নিজের পকেট থেকে ব্যয় করে। দুর্বল রেফারেল ব্যবস্থা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করার প্রবণতাও ব্যয় বাড়াচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ এবং জেনেরিক নামে ওষুধ বিক্রিতে নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ওষুধশিল্পের প্রবৃদ্ধি, তবু প্রয়োজনীয় ওষুধে ঘাটতি

বাংলাদেশের ওষুধশিল্প গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। একসময় দেশের ওষুধের চাহিদা পূরণে বিদেশের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকলেও এখন স্থানীয় উৎপাদকরা দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা পূরণের সক্ষমতা অর্জন করেছেন।

দেশের ওষুধের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলারের। পাশাপাশি বাংলাদেশি ওষুধ বিশ্বের ১৩২টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

গত ১০ বছরে ওষুধ রপ্তানি ৮৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৬৭ শতাংশ।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জেনেরিক ওষুধ এবং ৪৫ হাজার ব্র্যান্ড রয়েছে। ১৯৯৩ সালে জেনেরিক ওষুধ ছিল ৭০০টি এবং ব্র্যান্ড ছিল ২০ হাজারের কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে ২৩৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ২১৩ মিলিয়ন ডলার।

রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, কম্বোডিয়া, আফগানিস্তান, কেনিয়া, পাকিস্তান, চিলি ও যুক্তরাজ্য।

সামনে মূল চ্যালেঞ্জ সরবরাহ নিশ্চিত করা

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়লেও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ বাজারে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সাপের কামড়ের অ্যান্টিভেনম, প্রসবকালীন জরুরি ওষুধ, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ার ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে।

একই সঙ্গে পুরনো তালিকার জেনেরিক নাম ও বাজারের ব্র্যান্ড নামের মধ্যে ব্যবধান রোগী ও ফার্মেসি—উভয় পক্ষের জন্য বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ফলে শুধু তালিকা তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; তালিকায় থাকা ওষুধের উৎপাদন, সরবরাহ, মূল্য ও বাজারে প্রাপ্যতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও জরুরি।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা মূলত সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কিন্তু ১১৭টি ওষুধের মধ্যে ৫৭টির সরবরাহ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার তথ্য সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের বড় ঘাটতি তুলে ধরছে।

দেশের ওষুধশিল্প যখন স্থানীয় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ছে, তখন জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রোগের ধরন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক তালিকা তৈরি এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সর্বাধিক পঠিত