এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (3)
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে হতাশ করে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন
News Photocard (15)
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের এল ক্লাসিকো জয়
News Photocard
আজ কার হাতে উঠবে ব্যালন ডি’অর, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
News Photocard (56)
মাঠে নেমেই ‘হাস্যকর’ লাল কার্ড দেখলেন নেইমার
News Photocard (28)
মেসিহীন আর্জেন্টিনার নতুন যাত্রার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত

এমবাপ্পে–হলান্ডকে পেছনে ফেলার রাতে বার্সার ৯১ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

এমবাপ্পে–হলান্ডকে পেছনে ফেলার রাতে বার্সার ৯১ বছর পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল, ৫০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক বার্সেলোনার রাতে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে রাউল, মেসি, এমবাপ্পে ও হাল্যান্ডকে পেছনে ফেললেন ইয়ামাল।

ন্যু ক্যাম্পে রায়ো ভায়েকানোকে ৫-২ গোলে হারানোর রাতে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল গড়েছেন ব্যক্তিগত ও ক্লাব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে স্প্যানিশ ফুটবলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করে তিনি ভেঙেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসের রেকর্ড। একই সঙ্গে বার্সেলোনার ৯০ বছর ধরে টিকে থাকা একটি রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন ইয়ামাল।

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-২ ব্যবধানের জয়ে ইয়ামাল ও ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়া দুজনই জোড়া গোল করেন। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত বড় জয় তুলে নেয় হান্সি ফ্লিকের দল।

রায়োর গোল দিয়ে শুরু, দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বার্সা

ন্যু ক্যাম্পে ম্যাচের শুরুটা বার্সেলোনার জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১২তম মিনিটে রায়ো ভায়েকানোর হয়ে গোল করেন সের্হিও ক্যামেলো। তাঁর লক্ষ্যভেদে অতিথিরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে পিছিয়ে পড়ার পর বার্সেলোনা দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে স্বাগতিকরা।

১৯তম মিনিটে রাফিনিয়া বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। এরপর ২১তম মিনিটে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তরুণ উইঙ্গারের প্রথম গোল।

এরপর ম্যাচে বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা।

ইয়ামালের ৫০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলক

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে গোল করার মধ্য দিয়ে ইয়ামাল স্প্যানিশ ফুটবলে সব মিলিয়ে ৫০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছান। এই অর্জনের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন।

এই বয়সে ৫০ গোল করে ইয়ামাল পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেসকে। রাউল ১৯ বছর ২৪৯ দিন বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন।

আতলেতিকো মাদ্রিদের সাবেক তারকা ফার্নান্দো তোরেসও এই তালিকায় ইয়ামালের পেছনে রয়েছেন। তোরেসের ৫০ গোল পূর্ণ হয়েছিল ২০ বছর ২২১ দিন বয়সে।

ফলে ইয়ামালের ৫০ গোল শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং স্প্যানিশ ফুটবলে তরুণ খেলোয়াড়দের দ্রুত গোল করার রেকর্ডের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

বার্সেলোনার ৯০ বছরের পুরোনো রেকর্ডও ভাঙলেন ইয়ামাল

ইয়ামালের এই কীর্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে বার্সেলোনার ক্লাব রেকর্ড ভাঙার কারণে।

১৯৩৫ সালে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড জোসেফ এসকোলা ২০ বছর ৩৫৬ দিন বয়সে ক্লাবটির হয়ে ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন। এরপর প্রায় ৯০ বছর ধরে সেই রেকর্ড তাঁর দখলে ছিল।

রায়োর বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে ৫০ গোল পূর্ণ করে তিনি এসকোলার চেয়ে অনেক কম বয়সে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন।

এটি বার্সেলোনার ইতিহাসে ইয়ামালের অবস্থানকে আরও উজ্জ্বল করেছে। বিশেষ করে ক্লাবটির দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরে।

মেসিকেও পেছনে ফেলেছেন তরুণ এই তারকা

বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিও ইয়ামালের মতো এত কম বয়সে ক্লাবটির হয়ে ৫০ গোল করতে পারেননি।

মেসির ৫০তম গোল এসেছিল ২১ বছর ১২০ দিন বয়সে। অন্যদিকে ইয়ামাল সেই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে।

অর্থাৎ বার্সেলোনার জার্সিতে গোলের এই মাইলফলক স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ইয়ামাল মেসির চেয়েও কম বয়সী।

এতে বার্সেলোনায় ইয়ামালের দ্রুত উত্থানের আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে তাঁর এই অর্জনকে মূলত একটি পরিসংখ্যানগত মাইলফলক হিসেবেই দেখা যায়।

এমবাপ্পে-হাল্যান্ডকেও ছাড়িয়ে গেলেন ইয়ামাল

ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের হিসাবেও ইয়ামালের রেকর্ডটি উল্লেখযোগ্য। কিলিয়ান এমবাপ্পে ১৯ বছর ২৪১ দিন বয়সে ৫০ গোল পূর্ণ করেছিলেন। আর্লিং হাল্যান্ডের ক্ষেত্রে এই বয়স ছিল ২০ বছর ১৯৬ দিন।

ইয়ামাল ১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সেই ৫০ গোল পূর্ণ করে দুজনকেই পেছনে ফেলেছেন।

এর ফলে আধুনিক সময়ের তারকাদের মধ্যে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সবচেয়ে কম বয়সে ৫০ গোল পূর্ণ করার কৃতিত্ব এখন ইয়ামালের।

এখানে বয়সের ব্যবধানও গুরুত্বপূর্ণ। এমবাপ্পের চেয়ে ১৯২ দিন এবং হাল্যান্ডের চেয়ে আরও বেশি সময় আগে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন ইয়ামাল।

রায়োর বিপক্ষে বার্সার বড় জয়

ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ম্যাচের ফলও বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাফিনিয়া ও ইয়ামাল দুজনই জোড়া গোল করেন। রায়োর হয়ে সের্হিও ক্যামেলো দুটি গোল করেন।

এ ছাড়া রায়োর ডিফেন্ডার ফ্লোরিয়ান লেজেউনের একটি আত্মঘাতী ভুল থেকেও বার্সেলোনা গোল পায়। শেষ পর্যন্ত ৫-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এই জয়ের ফলে হান্সি ফ্লিকের দল টানা তিন ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। শেষ তিন ম্যাচে বার্সেলোনা প্রতিপক্ষের জালে মোট ১২টি গোল করেছে।

বার্সার জার্সিতে ইয়ামালের পরিসংখ্যান

এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে ১৫৪ ম্যাচ খেলেছেন ইয়ামাল। এর মধ্যে ১২৬ ম্যাচে তিনি ছিলেন শুরুর একাদশে।

এই সময়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১টি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন ৪৫টি।

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তাঁর গোলের মাধ্যমে ৫০ গোলের যে মাইলফলক সামনে এসেছে, সেটি শেষ পর্যন্ত ৫১ গোলে পৌঁছেছে তাঁর মোট বার্সেলোনা গোলসংখ্যা।

তাই ইয়ামালের ইয়ামালের ৫০ গোল অর্জন শুধু একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের ঘটনা নয়; তাঁর বার্সেলোনা ক্যারিয়ারে গোল ও অ্যাসিস্ট—দুই ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক অবদানের একটি পরিসংখ্যানগত প্রতিফলন।

কেন এই রেকর্ডটি গুরুত্বপূর্ণ

একজন তরুণ ফুটবলারের জন্য ৫০ গোলের মাইলফলক নিজেই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইয়ামালের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে তাঁর বয়স এবং ভাঙা রেকর্ডগুলোর কারণে।

প্রথমত, স্প্যানিশ ফুটবলে তিনি রাউল ও তোরেসের মতো পরিচিত তারকাদের ছাড়িয়ে গেছেন। দ্বিতীয়ত, বার্সেলোনায় জোসেফ এসকোলার দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙেছেন। তৃতীয়ত, লিওনেল মেসির ৫০ গোলের বয়সের রেকর্ডও পেছনে ফেলেছেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমবাপ্পে ও হাল্যান্ডের মতো আধুনিক সময়ের দুই বড় তারকার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি।

সব মিলিয়ে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানের জয় বার্সেলোনার জন্য যেমন লিগের গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টের রাত, তেমনি ইয়ামালের ক্যারিয়ারের জন্যও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।

সামনে ইয়ামালের নতুন চ্যালেঞ্জ

১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে ৫০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছানোর পর ইয়ামালের সামনে এখন আরও বড় সংখ্যায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরবর্তী অর্জন কী হবে বা ভবিষ্যতে তিনি কোন রেকর্ড ভাঙবেন—এ বিষয়ে এই ম্যাচের তথ্য থেকে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া যায় না।

এ মুহূর্তে নিশ্চিত বিষয় হলো, বার্সেলোনার হয়ে ১৫৪ ম্যাচে ৫১ গোল ও ৪৫ অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে ক্লাবটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছেন।

রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে তাঁর গোলটি তাই একই সঙ্গে ম্যাচের ফল, ব্যক্তিগত মাইলফলক এবং বার্সেলোনার দীর্ঘদিনের রেকর্ড—তিনটি দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।

ন্যু ক্যাম্পে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানের জয় বার্সেলোনাকে টানা তৃতীয় জয় এনে দিয়েছে। একই রাতে লামিনে ইয়ামাল পূর্ণ করেছেন ৫০ গোলের মাইলফলক এবং ভেঙেছেন রাউল গঞ্জালেস ও জোসেফ এসকোলার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড।

১৯ বছর ৪৯ দিন বয়সে এই অর্জন তাঁকে মেসি, এমবাপ্পে ও হাল্যান্ডের মতো তারকাদেরও পেছনে নিয়ে গেছে। ফলে ইয়ামালের ৫০ গোল এখন শুধু একটি সংখ্যা নয়; বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ ফুটবলের রেকর্ড বইয়ে এটি একটি উল্লেখযোগ্য নতুন অধ্যায়।

সর্বাধিক পঠিত