এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (9)
রেফারির পকেটে আর লাল-হলুদ কার্ড নয়, থাকবে যন্ত্র!
News Photocard (8)
টেস্ট ক্রিকেটে ‘চা-বিরতি’ শুরু হয়েছিল যেভাবে
News Photocard (16)
মেসির কীর্তি ভেঙে রোনালদোয় চোখ কেইনের
News Photocard (6)
বাংলাদেশ সফরের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ঘোষণা, কে আছেন, কে নেই
News Photocard (6)
হামজাকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ

মেসিহীন আর্জেন্টিনার নতুন যাত্রার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত

মেসিহীন আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় শুরু করছে নভেম্বরে। লিওনেল স্কালোনির দল ১৩ নভেম্বর উরুগুয়ে ও ১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রীতি ম্যাচ।

লিওনেল মেসিকে ছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আগামী নভেম্বরে দুটি প্রীতি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর বুয়েনস অ্যাইরেসে উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৭ নভেম্বর কর্ডোবায় কোস্টারিকার মুখোমুখি হবে কোচ লিওনেল স্কালোনির দল। মেসির বিদায়ের পর এই ম্যাচ দুটি হবে আর্জেন্টিনার প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতির প্রীতি ম্যাচ, যেখানে দলটিকে মাঠে নামতে হবে তাদের দীর্ঘদিনের অধিনায়ককে ছাড়াই।

দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁর নেতৃত্বে দলটি বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে। চলতি মাসের শুরুতে জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। এবার নতুন বাস্তবতায় নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার সামনে।

মেসিহীন আর্জেন্টিনার প্রথম দুই প্রীতি ম্যাচের সূচি

মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সামনে এখন দলকে নতুনভাবে প্রস্তুত করার সুযোগ। নভেম্বরে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি সেই প্রস্তুতির অংশ। এএফএর ঘোষণায় দুটি ম্যাচের তারিখ ও ভেন্যু সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলবে দলটি। দুই ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনার মাটিতে।

আন্তর্জাতিক বিরতির এই ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা কীভাবে নিজেদের শক্তি ও দলীয় সমন্বয় ধরে রাখে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ থাকবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অধিনায়ক মেসি না থাকায় দলের নেতৃত্ব ও আক্রমণভাগের দায়িত্ব কীভাবে ভাগ করা হয়, সেটিও আলোচনায় আসতে পারে।

তবে ঘোষিত সূচিতে মেসির অনুপস্থিতিতে নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্য নেই। ফলে নেতৃত্বের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না।

১৩ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে লড়াই

নভেম্বরের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। এএফএর ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বর বুয়েনস অ্যাইরেসে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ম্যাচটির ভেন্যু হবে বুয়েনস অ্যাইরেসের বিখ্যাত লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়াম। তবে এএফএর উদ্ধৃত ঘোষণায় শুধু বুয়েনস অ্যাইরেসের কথা বলা হয়েছে; স্টেডিয়ামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন পথচলার গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হতে পারে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন মেসির উপস্থিতি আর্জেন্টিনার খেলার পরিচিত অংশ ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে সতীর্থদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও দলীয় সমন্বয় কতটা কার্যকর থাকে, তা দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় এই লড়াইয়ের ফলাফলের পাশাপাশি দলের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা

উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের চার দিন পর কোস্টারিকার সঙ্গে খেলবে আর্জেন্টিনা। ১৭ নভেম্বর কর্ডোবায় অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচটি হবে কর্ডোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে। ফলে নভেম্বরে আর্জেন্টিনার দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দুটি আলাদা শহরে—প্রথমটি বুয়েনস অ্যাইরেসে এবং দ্বিতীয়টি কর্ডোবায়।

দুটি ম্যাচের সূচি নির্ধারণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতির একটি প্রাথমিক রূপরেখা সামনে এসেছে। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে দলটি কীভাবে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে।

মেসিকে ছাড়া নতুন করে দলীয় কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ম্যাচগুলো কোচ লিওনেল স্কালোনিকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সুযোগ দিতে পারে। তবে কোন খেলোয়াড়রা দলে থাকবেন, কিংবা ম্যাচ দুটিতে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মেসিহীন আর্জেন্টিনা: শেষ ম্যাচে কী হয়েছিল?

আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় গত ৬ অক্টোবর। বুয়েনস অ্যাইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলকে বিদায় জানান এই আর্জেন্টাইন তারকা।

সেই ম্যাচে ৩-০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা। বিদায়ী ম্যাচেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। নিজে পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ের সময় মেসির বয়স ছিল ৩৯ বছর। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ যাত্রার শেষ ম্যাচটি তাই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করার পর এবার নতুন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে এবার দলের পরিচিত দৃশ্যপটে থাকবেন না দীর্ঘদিনের অধিনায়ক মেসি।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পরিসংখ্যান ও অর্জন

লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে ২০৮টি ম্যাচ খেলেছেন। এই ম্যাচগুলোতে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৬। দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশের হয়ে একাধিক বড় শিরোপা জিতেছেন।

মেসির আন্তর্জাতিক অর্জনের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা। এসব সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে মেসির বিদায় শুধু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নয়; এটি দলের পরিচিত নেতৃত্বব্যবস্থারও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর বিদায়ের পর আর্জেন্টিনাকে এখন ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে।

তবে মেসির বিদায়ের অর্থ এই নয় যে দলটির আগের সাফল্য বা শক্তি একেবারে হারিয়ে যাবে। বরং নতুন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের ভূমিকা, কোচের পরিকল্পনা এবং দলীয় সমন্বয় কেমন হয়, তা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

লিওনেল স্কালোনির সামনে নতুন বাস্তবতা

কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা নভেম্বরে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচগুলোতে দলকে মেসির অনুপস্থিতিতে মাঠে নামতে হবে, যা কোচের জন্য নতুন পরিস্থিতি তৈরি করবে।

দীর্ঘদিনের অধিনায়ককে ছাড়া দল সাজানোর ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া এবং দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে মেসির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও গোল করা ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর মাধ্যমে তিনি নিজের অবদান রেখেছেন।

তবে আগামী ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা কোন খেলোয়াড়কে বেশি দায়িত্ব দেবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, এএফএ শুধু নভেম্বরে দুটি প্রীতি ম্যাচের সূচি প্রকাশ করেছে।

এই পর্যায়ে ম্যাচ দুটিকে মেসির উত্তরসূরি নির্ধারণের পরীক্ষা হিসেবে দেখার চেয়ে দলটির সামগ্রিক প্রস্তুতি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা বেশি যুক্তিযুক্ত।

আর্জেন্টিনার সামনে কী অপেক্ষা করছে?

নভেম্বরে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আর্জেন্টিনার জন্য মেসি-পরবর্তী অধ্যায়ের প্রথম আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। দুটি ম্যাচের ফলাফল দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট না হলেও, নতুন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে।

আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে মেসির বিদায় আবেগের বিষয়। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর উপস্থিতি, গোল এবং নেতৃত্ব দলটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। সেই পরিচিত অধ্যায় শেষ হওয়ার পর এখন নতুন খেলোয়াড়দের দায়িত্ব নেওয়া এবং দলীয় কাঠামো ধরে রাখার বিষয়টি সামনে আসবে।

১৩ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে এবং ১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা কীভাবে মাঠে নামে, সেটিই হবে এই নতুন যাত্রার প্রথম পর্যবেক্ষণযোগ্য দিক। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, এএফএ দুটি ম্যাচের সূচি ঘোষণা করেছে এবং মেসির বিদায়ের পর এই ম্যাচগুলোতে তাঁকে ছাড়াই মাঠে নামবে দল।

সর্বাধিক পঠিত