আরও খবর

News Photocard (28)
ঝুঁকিতে হিমালয়ের ২০০ হিমবাহ হ্রদ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ১৫
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (7)
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি মা-মেয়ে নিহত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
নেপাল-চীনে নিহত বেড়ে ৭৯৭, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘বিশ্ব ইতিহাসের বৃহত্তম তেল চুক্তি’ ঘোষণা ট্রাম্পের

ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে রাশিয়া : পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে রাশিয়া—পুতিনের দাবি, আগস্টে দোনেৎস্কে ২৭০ বর্গকিমি দখল করেছে রুশ বাহিনী। আলোচনা নিয়ে সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিস্তারিত খবর পড়ুন।

ইউক্রেনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে রাশিয়া জয়ী হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানে একটি সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের সেনারা ভেঙে পড়বে।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এটি পুতিনের সবচেয়ে বিস্তারিত বক্তব্যগুলোর একটি। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনের নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের সঙ্গে মস্কোর পক্ষে সরাসরি আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি রুশ প্রেসিডেন্ট। সংঘাতের সমাধানে নতুন গতি আনা গেলে মস্কো ‘সুনির্দিষ্ট’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতির দাবি

পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী,

রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে। শুধু আগস্ট মাসেই রুশ সেনারা ওই অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া ইউক্রেনের বিপুলসংখ্যক সেনা রুশ বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে বলেও দাবি করেন পুতিন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। ফলে এগুলোকে রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পুতিন আরও জানান, রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি রাশিয়া নিচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

‘শত্রুপক্ষ ভেঙে পড়বে’—পুতিন

সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেনীয় বাহিনীর ভবিষ্যৎ নিয়েও দৃঢ় বক্তব্য দেন। তার ভাষ্য, শত্রুপক্ষ শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে—এ বিষয়ে তার কোনো সন্দেহ নেই।

তবে কখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি। অর্থাৎ রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতির দাবি করলেও যুদ্ধের সমাপ্তির নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস দেননি পুতিন।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়েও স্বীকারোক্তি

রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন পুতিন। তিনি বলেন, এসব হামলা রাশিয়ার জন্য একটি বিশেষ ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তবে ড্রোন হামলা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুতিনের বক্তব্যে একদিকে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে এখানে উপস্থাপিত মূল বক্তব্য অনুযায়ী, পুতিন এসব হামলাকে রাশিয়ার জন্য বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নতুন সেনা সমাবেশের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন পুতিন

রাশিয়াকে আবার বড় আকারে সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিতে হতে পারে—এমন আলোচনা ও গুঞ্জনও প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন।

তিনি এ ধরনের আলোচনা ‘পুরোপুরি অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের সেনা সমাবেশের প্রয়োজন হতে পারে—এমন ধারণাকে তিনি গুরুত্ব দেননি।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে রুশ বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তার দাবি অব্যাহত রয়েছে।

দোনেৎস্কে ২৭০ বর্গকিলোমিটার দখলের দাবি

পুতিনের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দোনেৎস্ক অঞ্চলের ভূখণ্ড দখলের দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে রুশ বাহিনী ওই অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর বড় অংশ রুশ সেনাদের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পুতিনের বক্তব্যের পাশাপাশি স্বাধীন উৎসের তথ্যও প্রয়োজন।

মলার প্রস্তুতি

ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন। তার বক্তব্যে যুদ্ধের সামরিক অগ্রগতির পাশাপাশি ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জেলেনস্কির এই সতর্কবার্তাকে পুতিন ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের’ মতো বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে মস্কো তার জবাব দেওয়ার উপায় খুঁজে নেবে।

এতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির মধ্য দিয়ে সংঘাতের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়

ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করলেও সংঘাতের সমাধানে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করেননি পুতিন।

তিনি বলেন, ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন গতি আনা গেলে মস্কো ‘সুনির্দিষ্ট’ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। অর্থাৎ ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি থাকলেও যুদ্ধের সমাধানের জন্য একটি আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায় রাশিয়া—পুতিনের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এই অবস্থানকে যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অগ্রগতির দাবি এবং কূটনৈতিক সম্ভাবনা—দুই দিকের সমন্বিত বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে আলোচনার বিষয়ে কোনো নতুন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা সময়সূচি পুতিন উল্লেখ করেননি।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী দাবির প্রেক্ষাপট

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব পেয়েছে—যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি, ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলার চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতে আলোচনার সম্ভাবনা।

একদিকে পুতিন দাবি করেছেন, রুশ বাহিনী দোনেৎস্কে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইউক্রেনীয় সেনারা শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে। অন্যদিকে তিনি স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

তৃতীয়ত, ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সম্ভব নয় বললেও সংঘাতের সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এলে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তিনি খোলা রেখেছেন।

ফলে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জয়ী—পুতিনের এই বক্তব্যের পাশাপাশি তার বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন দাবির স্বাধীন যাচাই না হওয়ায় পরিস্থিতি মূল্যায়নে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সামনে কী বার্তা দিলেন পুতিন

পুতিনের বক্তব্যে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও অগ্রগতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় রাশিয়াকে যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।

দোনেৎস্কের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল, ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘেরাও এবং স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার দাবির পাশাপাশি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় হামলার প্রস্তুতির কথাও এসেছে তার বক্তব্যে। এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

সব মিলিয়ে পুতিনের বক্তব্যে রাশিয়ার সামরিক অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের একটি সীমিত সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ কী হবে, তা এই বক্তব্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

কিরগিজস্তানে সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া জয়ী হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। তিনি দোনেৎস্কে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি, ইউক্রেনীয় সেনাদের ঘেরাও এবং স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ও চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতির বিষয়ে তার করা দাবিগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি জানালেও সংঘাতের সমাধানে নতুন গতি আনার মতো উদ্যোগ এলে ‘সুনির্দিষ্ট’ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন পুতিন। ফলে সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্ভাবনাও তার বক্তব্যে জায়গা পেয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত