ব্রাজিলের ভারত সফরের দল ঘোষণা করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। ২৬ সদস্যের দলে ৮ নতুন মুখ, বিশ্বকাপে খেলা একাধিক তারকা বাদ। কলকাতায় ৩ অক্টোবর ভারতের মুখোমুখি ব্রাজিল।
হতাশার ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিল জাতীয় দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা শুরু করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন তিনি। ব্রাজিলের ভারত সফরের দলে জায়গা পেয়েছেন আটজন নতুন খেলোয়াড়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে খেলা একাধিক পরিচিত তারকাকে এবারের দলে রাখা হয়নি।
আনচেলত্তির ঘোষিত দলকে সামনে রেখে ব্রাজিলের নতুন যাত্রার আভাস মিলেছে। বিশ্বকাপের হতাশাজনক অভিজ্ঞতার পর ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলে পরিবর্তনের কাজ শুরু করতে চান এই ইতালিয়ান কোচ।
ব্রাজিলের ভারত সফরের দল ও নতুন মুখ

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে আনচেলত্তি যে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে আটজন নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন। তারা হলেন—পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও, আর্থুর দিয়াস, ম্যাথিউজিনহো, মাউরো জুনিয়র, জাইর, ব্রেনো বিডন ও গ্যাব্রিয়েল বোনটেম্পো।
নতুন মুখ যুক্ত করার মধ্য দিয়ে দলটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে আনচেলত্তির পরিকল্পনার একটি দিক স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বকাপে থাকা দলের বাইরে নতুন খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ম্যাচগুলোতে নতুন খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ ও নতুনদের সমন্বয়ে ব্রাজিলের পরবর্তী দল গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বকাপে খেলা একাধিক তারকা নেই
নতুন ঘোষিত দলে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সুযোগ পাননি। তিন গোলরক্ষক আলিসন, ওয়েভারতন ও এদেরসন—কেউই এবারের দলে নেই।
এ ছাড়া কাসেমিরো, লুকাস পাকেতা, ফাবিনিও, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও মাতেউস কুনিয়াও এই দলে জায়গা পাননি।
ফলে বিশ্বকাপের দল থেকে পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচের দলে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো পরিচিত খেলোয়াড়রা দলে রয়েছেন।
ব্রাজিলের ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই দল বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য গঠিত হয়েছে।
বিশ্বকাপ নিয়ে আনচেলত্তির হতাশা
২৬ সদস্যের দল ঘোষণার পর আনচেলত্তি ২০২৬ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাকে হতাশাজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্রাজিল খেলতে পারেনি এবং বিষয়টি তাঁর নিজের জন্যও হতাশার ছিল।
তবে বিশ্বকাপের ফলাফলকে পেছনে রেখে সামনে এগোনোর কথাই জানিয়েছেন তিনি। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় ২০২৮ কোপা আমেরিকা এবং ২০৩০ বিশ্বকাপ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে রয়েছে।
অর্থাৎ, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলো শুধু প্রীতি ম্যাচ হিসেবেই নয়, বরং পরবর্তী আন্তর্জাতিক চক্রের দল গঠনের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত
নতুন আট খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করা আনচেলত্তির পরিকল্পনায় তরুণ ও নতুন মুখদের গুরুত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তথ্যেও বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ-পরবর্তী এই দলে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমন্বয়ের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এভাবে একটি আন্তর্জাতিক দলের পরিবর্তনের সময় নতুনদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের রাখার মাধ্যমে দলটির ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ
ব্রাজিলের নতুন যাত্রার প্রথম পরীক্ষাগুলোর একটি হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর।
প্রথম ম্যাচটি ২৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। চার দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর দুই দল আবার মুখোমুখি হবে।
এই দুই ম্যাচের পর ব্রাজিল দল ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করবে। অর্থাৎ, ভারত সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরপর দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে আনচেলত্তির দল।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও নিশ্চিত করেছে, বিশ্বকাপের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই দুটি ম্যাচই দলের প্রথম আন্তর্জাতিক পরীক্ষার অংশ।
৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিল-ভারত ম্যাচ
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ শেষে ব্রাজিল যাবে ভারতে। সেখানে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কলকাতার ম্যাচটি ব্রাজিলের নতুন আন্তর্জাতিক চক্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। ব্রাজিলের ভারত সফরের দলে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এন্দ্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রোসহ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ওপরও নজর থাকবে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি বিশ্বকাপ-পরবর্তী নতুন দলকে মূল্যায়নের আরেকটি সুযোগ দেবে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার এই ম্যাচটি দুই দেশের জাতীয় দলের প্রথম মুখোমুখি লড়াই।
পুরো ব্রাজিল দল
গোলরক্ষক
হুগো সুজা, পেদ্রো মরিসকো ও ওতাভিও।
ডিফেন্ডার
আর্থুর দিয়াস, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস, জাইর, মার্কিনিওস, ম্যাথিউজিনহো, মাউরো জুনিয়র, ভিতর রেইস ও ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার
আন্দ্রেই সান্তোস, ব্রুনো বিডন, ব্রুনো গিমারাইস, দানিলো, ডগলাস লুইজ ও গ্যাব্রিয়েল বোনটেম্পো।
ফরোয়ার্ড
এন্দ্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, রাফিনিয়া, পেদ্রো, রায়ান, স্যামুয়েল লিনো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
নতুন চক্রে আনচেলত্তির সামনে বড় পরীক্ষা
২০২৬ বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের সামনে এখন নতুন দল গঠনের চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপে থাকা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে আটজন নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আনচেলত্তি দলটির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
তবে এই পরিবর্তনের ফলাফল কতটা কার্যকর হবে, সেটি বোঝার জন্য আসন্ন ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচের পর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে নতুন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ থাকবে।
আনচেলত্তির ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পথচলার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০২৮ কোপা আমেরিকা ও ২০৩০ বিশ্বকাপ। ফলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে ব্রাজিলের নতুন দলটি কীভাবে নিজেদের গড়ে নেয়, সেটিই এখন নজরের বিষয়।





