আরও খবর

News Photocard (18)
এআইয়ের ভুল তথ্যে চীনের সঙ্গে প্রায় যুদ্ধে জড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র: সিএনএন
News Photocard (15)
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনে চালু নতুন হিউম্যানয়েড কারখানা
News Photocard
বিদেশি শিক্ষার্থীদের লাগাম টানছে অস্ট্রেলিয়া, বন্ধ হচ্ছে পরিবার আনার সুযোগ
News Photocard (3)
বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
News Photocard
ইরান যুদ্ধে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের, অস্ত্রসংকটের আশঙ্কা

সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

সিএনএনসহ ৩ গণমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন ট্রাম্প, সিদ্ধান্ত ঘিরে বড় আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ‘মিথ্যা’ ও ‘কল্পনাশ্রিত’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদনের উদাহরণ দেননি। পরে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটি কোনো একটি তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয়; বরং কয়েক বছর ধরে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে জমে থাকা বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ।

ট্রাম্পের গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা

ট্রাম্পের ঘোষণায় তিনটি সংবাদমাধ্যম—সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও—সরাসরি হোয়াইট হাউসের প্রবেশাধিকার হারানোর কথা বলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে তাঁর প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ‘ভুয়া’ তথ্য প্রকাশ করে আসছে।

তবে ঘোষণার সময় ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন বা ঘটনার উল্লেখ করেননি, যেটিকে তিনি নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। বরং পরে ওভাল অফিসে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটির পেছনে কয়েক বছরের সংবাদ কাভারেজ নিয়ে তার অসন্তোষ কাজ করেছে। Reuters-এর প্রতিবেদনেও একইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বদলে আগের কয়েক বছরের প্রতিবেদনকে সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে অন্য কিছু গণমাধ্যমও এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। Reuters-এর প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টের নামও তাঁর বক্তব্যে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়

ঘোষণাটি ‘অবিলম্বে’ কার্যকর করার কথা বলা হলেও বাস্তবে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস চত্বরে প্রবেশ কীভাবে বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ঘোষণার পরও সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের ভেতরে কাজ করতে দেখা যায় বলে Reuters জানিয়েছে। ফলে ঘোষণার বাস্তব প্রয়োগের পরিধি এবং প্রশাসন কী ধরনের প্রবেশ-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেবে, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে কারা থাকবে এবং কোন সংবাদমাধ্যম প্রেস সুবিধা পাবে—এ বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে শুধু ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য নয়, এর বাস্তব ও আইনি প্রয়োগ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিক্রিয়া

সিএনএন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মার্কিন সংবিধানের অধীনে সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবেদন করার অধিকার তাদের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেটিকে তারা ওই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর বেআইনি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা হোয়াইট হাউস এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসন সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে প্রথম সংশোধনীতে থাকা তাদের অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এমএস নাও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

প্রথম সংশোধনী নিয়ে আইনি বিতর্ক

ট্রাম্পের গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া সাংবিধানিকভাবে কতটা বৈধ।

মার্কিন সংবিধানের ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বা প্রথম সংশোধনী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়। প্রেস স্বাধীনতার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবাদ প্রকাশের ধরন বা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি প্রেস সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

‘হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’সহ সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেস পুল একটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ফোরামের বৈশিষ্ট্য বহন করে। তাই রাজনৈতিক বা সম্পাদকীয় অবস্থানের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া প্রথম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় অবশ্য হোয়াইট হাউসের সব ধরনের সংবাদ কাভারেজের সুযোগকে একইভাবে দেখা হয় না। Reuters জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট কিছু সীমিত আয়োজন বা নির্দিষ্ট ইভেন্টে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি discretion বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু ব্যাপকভাবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সুবিধা বা পরিচয়পত্র থেকে সংবাদমাধ্যমকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বেশি।

ট্রাম্প ও মার্কিন গণমাধ্যমের দীর্ঘদিনের টানাপড়েন

ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমের মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এই টানাপড়েন আরও প্রকাশ্য হয়েছে।

এর আগে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপির সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস, এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং কিছু সরকারি অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে এপির বিরোধের একটি কারণ ছিল মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসরণ না করা।

প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরোধ হয়েছিল। Reuters জানিয়েছে, সে সময় প্লেবয়-এর সংবাদদাতা ব্রায়ান কারেম এবং সিএনএনের সাংবাদিক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস পাস নিয়ে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং আদালতের হস্তক্ষেপে পাস পুনর্বহাল করা হয়।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প বিভিন্ন সময় তাঁর পছন্দের বাইরে থাকা সংবাদ ও সম্প্রচার নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর বিরোধ আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে।

আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা

বর্তমান নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে মূল আইনি প্রশ্ন নির্ভর করতে পারে প্রশাসন বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তার ওপর। শুধু সীমিত কোনো অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা এবং হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস সুবিধা থেকে কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া—এই দুই পরিস্থিতির সাংবিধানিক মূল্যায়ন এক নয়।

Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে প্রথম সংশোধনী এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পর পরবর্তী পদক্ষেপ আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ট্রাম্পের গণমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা সামনে যে প্রশ্নগুলো তুলেছে

এই সিদ্ধান্ত শুধু তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেনি; বরং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেস স্বাধীনতা, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং প্রশাসনের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের অধিকারের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

একদিকে ট্রাম্প বলছেন, তাঁর প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ভুল বা মিথ্যা তথ্য প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন। অন্যদিকে সিএনএন, পলিটিকো এবং প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

এ অবস্থায় ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগ, প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সম্ভাব্য আদালত-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে বিষয়টি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেস স্বাধীনতা নিয়ে এই বিরোধ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ হোয়াইট হাউস বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র এবং সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে আদালত, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর পদক্ষেপ পরিস্থিতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে কয়েক বছরের সংবাদ কাভারেজের কথা উঠে এলেও নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদনের উদাহরণ তিনি দেননি। একই সময়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে এবং আইন বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় প্রথম সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এখন মূল বিষয় হলো নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সেটি আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে মার্কিন বিচারব্যবস্থা কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে।

সর্বাধিক পঠিত