আরও খবর

News Photocard (27)
বিদেশ সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি, নানা সমালোচনা
News Photocard (12)
নতুন পে স্কেলে গ্রেড বদলালেই কমে বাড়িভাড়া
News Photocard (3)
গাজী নজরুলের বাসায় পাওয়া ‘মরিয়মের চিঠি’তে যা লেখা
News Photocard
বাংলাদেশিদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় বাড়ছে কড়াকড়ি
News Photocard (15)
প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন

অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির ২ কিশোরকে পাঠানো হচ্ছে সংশোধনাগারে

অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির ২ কিশোরকে পাঠানো হচ্ছে সংশোধনাগারে, অন্য দুই আসামি থাকবেন কুমিল্লা কারাগারে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের অনুমতি অনুযায়ী বয়স কম হওয়ায় দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। অন্য দুই আসামি তুহিন ও সিয়াম কুমিল্লা কারাগারে থাকবেন।

অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার আসামির বর্তমান অবস্থান

অপ্রতিম হত্যা ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও একজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার রাতে পুলিশ তাদের কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

তবে চার আসামির মধ্যে দুইজন কিশোর হওয়ায় তাদের কারাগারে না রেখে সংশোধনাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে চারজনকে কুমিল্লা কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপর দুই আসামি তুহিন (১৯) ও সিয়াম (১৯) কুমিল্লা কারাগারে থাকবেন বলে তিনি জানান।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার একটি মামলায় পুলিশ রোববার রাতে চার আসামিকে কারাগারে হস্তান্তর করে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে সোমবার গাজীপুর জেলার টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম।

অপ্রতিম ছিলেন কুমিল্লা কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

নিখোঁজ হওয়ার দিন শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের একটি ডায়েরি করেন।

এর পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম তুহিন নামের একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। এভাবে ঘটনায় মোট চারজন পুলিশের হেফাজতে আসে।

চারজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ও আদালত কার্যক্রম

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা পরে হত্যার দায় স্বীকার করেন। এরপর অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, কামরুল হাসান ও মো. সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রোববার বিকেলে চার আসামিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতে সিয়াম ছাড়া বাকি তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং অন্য দুই আসামিকে কুমিল্লা কারাগারে রাখা হয়।

বয়স কম হওয়ায় দুই কিশোরের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

অপ্রতিম হত্যা মামলায় চার আসামির মধ্যে দুইজন কিশোর হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি অনুযায়ী তাদের গাজীপুর জেলার টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে তুহিন ও সিয়ামকে কুমিল্লা কারাগারে রাখা হয়েছে। ফলে চার আসামির মধ্যে দুইজন কারাগারে এবং দুই কিশোর সংশোধনাগারে থাকবেন।

অপ্রতিম নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাক্রম

ঘটনার সময়রেখা অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে কোটবাড়ী এলাকা থেকে অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে যাওয়ার পর সে আর বাড়িতে ফেরেনি।

পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে পুলিশ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে একজনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে চারজনকে অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

এই ধারাবাহিকতায় আদালতে জবানবন্দি এবং আসামিদের বয়স বিবেচনায় নিয়ে দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসে।

মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যা জানা গেল

অপ্রতিম হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খানের বক্তব্যে দুই কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

অপ্রতিমের পরিবার ও স্থানীয়দের জন্য ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। উৎসে এর বাইরে মামলার পরবর্তী তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত