এইমাত্র

আরও খবর

Website Feature Image (15)
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা, বাস্তবায়নে ৩ দিন সময় দিল মাউশি
Website Feature Image (12)
আতঙ্ক ছড়াতেই পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ : ডিএমপি
Website Feature Image
জানা গেলো সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয়
Website Feature Image (4)
এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন যারা
Website Feature Image (1)
আদালত অবমাননার ব্যাখ্যা দিতে এক মাস সময় চান ব্যারিস্টার ফুয়াদ

প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর

প্রভিডেন্ট ফান্ড নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর, চলতি অর্থবছরেও ১১ থেকে ১৩ শতাংশ হার নির্ধারণ করেছে সরকার। জমার পরিমাণভেদে তিন স্তরে মুনাফা পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল বা জিপিএফে চলতি অর্থবছরেও প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা ১১ থেকে ১৩ শতাংশ হারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা অর্থের পরিমাণের ভিত্তিতে তিনটি স্তরে এই মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর চলতি অর্থবছরের জন্য এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগ।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি অথবা চলতি অর্থবছরে জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যাবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে মুনাফার হার হবে ১২ শতাংশ। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি হলে প্রযোজ্য হবে ১১ শতাংশ হার।

প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফায় তিন স্তরের হার

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জমার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপিএফের অর্থের ওপর প্রযোজ্য হার তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রারম্ভিক স্থিতি/চাঁদামুনাফার হার
১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত১৩ শতাংশ
১৫ লাখের বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত১২ শতাংশ
৩০ লাখ টাকার বেশি১১ শতাংশ

অর্থাৎ, জিপিএফে তুলনামূলক কম পরিমাণ অর্থ জমা থাকা অংশগ্রহণকারীদের জন্য নির্ধারিত হার ১৩ শতাংশ। জমার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফার হার ধাপে ধাপে কমে ১২ ও ১১ শতাংশ হয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরেও একই হারে প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা দেওয়া হয়েছিল। ফলে চলতি অর্থবছরে হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জিপিএফে কারা কীভাবে জমা রাখেন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার সঙ্গে জিপিএফ বা সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিলের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের মূল বেতনের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখতে পারেন।

অন্যদিকে, প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদা জমা দিতে পারেন।

জিপিএফ ও সিপিএফ—দুই ব্যবস্থাতেই কর্মীর নিজের জমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত অংশও প্রদান করে। এর ফলে কর্মজীবনে নিয়মিতভাবে জমা হওয়া অর্থ সময়ের সঙ্গে একটি তহবিল হিসেবে গড়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠানের অবদানও যুক্ত হয়

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত কর্মীর মূল বেতনের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ এই তহবিলে দেয়। কর্মীর জমা এবং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অর্থ মিলিয়ে মোট তহবিলের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে মুনাফা হিসাব করা হয়।

এই ব্যবস্থায় কর্মীর জন্য শুধু নিজের নিয়মিত চাঁদাই নয়, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত অবদানও ভবিষ্যৎ আর্থিক সুবিধার অংশ হয়ে থাকে। প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা যুক্ত হওয়ার ফলে সময়ের সঙ্গে জমা অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ে।

তবে মুনাফার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে জিপিএফে জমা অর্থের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত তিন স্তরের হার সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করে।

সিপিএফের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা

জিপিএফের পাশাপাশি প্রদেয় ভবিষ্যৎ তহবিল বা সিপিএফও কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে সিপিএফের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা নির্ধারণের নিয়ম জিপিএফের মতো এককভাবে নির্ধারিত নয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জিপিএফের আদলে পরিচালিত সিপিএফের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণ করতে পারবে। ফলে সিপিএফভুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিই মুনাফার হার নির্ধারণের ভিত্তি হবে।

এ কারণে জিপিএফ ও সিপিএফ একই ধরনের ভবিষ্যৎ তহবিল হলেও দুটির ব্যবস্থাপনা ও মুনাফা নির্ধারণের কাঠামোতে পার্থক্য রয়েছে।

চাকরি শেষে জমা অর্থ কীভাবে পাওয়া যায়

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত প্রভিডেন্ট ফান্ডকে জিপিএফ বলা হয়। আর যেসব প্রতিষ্ঠান বা সরকারি চাকরিতে পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেখানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য সিপিএফসহ এ ধরনের তহবিল চালু রয়েছে।

কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে বা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কর্মীকে তাঁর নিজের জমা অর্থের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থ এবং অর্জিত মুনাফা একত্রে পরিশোধ করা হয়।

অর্থাৎ, প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা শুধু বার্ষিক হিসাবের একটি হার নয়; এটি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি আর্থিক সুবিধা। নিয়মিত চাঁদা, প্রতিষ্ঠানের অবদান এবং অর্জিত মুনাফা মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মীর প্রাপ্য অর্থ তৈরি হয়।

অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে

২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের জন্য জিপিএফ-সংক্রান্ত মুনাফার হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার জন্য ১৩ শতাংশ, ১৫ লাখের বেশি থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১২ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি জমার জন্য ১১ শতাংশ হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা হার গত অর্থবছরের মতোই রাখা হয়েছে। ফলে জিপিএফে অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মুনাফার কাঠামোয় নতুন কোনো হার পরিবর্তন হয়নি।

জমার পরিমাণ অনুযায়ী তিনটি স্তর নির্ধারণ করায় প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হার তাঁর তহবিলের নির্ধারিত সীমার ওপর নির্ভর করবে। ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ হার প্রযোজ্য হবে। এরপরের দুই স্তরে হার যথাক্রমে ১২ ও ১১ শতাংশ।

সব মিলিয়ে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপিএফে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রভিডেন্ট ফান্ড মুনাফা ১১ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সিপিএফভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিজস্ব বিধি অনুযায়ী মুনাফার হার নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত