এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (3)
ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর উদ্যোগ, ঢাকায় শুরু হচ্ছে বৈঠক
News Photocard (24)
‘ওরা বাবাকে মেরে ফেলতে চাইছে’—ইমরান খানের ছেলের শঙ্কা
News Photocard (21)
চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (15)
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা, পাল্টা মার্কিন অভিযানে ৩ ট্যাংকার ধ্বংস

অ্যামাজনে বিধ্বস্ত বিমানটি যেভাবে রূপান্তরিত হয়েছিল কার্গোতে

অ্যামাজনে বিধ্বস্ত বিমানটি যেভাবে রূপান্তরিত হয়েছিল কার্গোতে, বিমান দুর্ঘটনায় মায়ামিতে ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। ৩২ বছরের বোয়িং ৭৬৭টি ২০১৫ সালে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়েছিল। তদন্ত চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে বিমানটির অবতরণ, রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া এবং দুর্ঘটনার সময়কার আবহাওয়া নিয়ে তদন্ত চলছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ২টার দিকে। পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামি যাওয়ার পথে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর বিমানবন্দরের পাশের একটি সড়ক পার হয়ে কয়েকটি যানবাহনে সজোরে আঘাত করে। এ অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা ঘিরে পরে মায়ামি বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।

অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনার বিমানের ইতিহাস

দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল প্রায় ৩২ বছর বয়সী বোয়িং ৭৬৭। বিমানটি শুরুতে যাত্রী পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বিভিন্ন এয়ারলাইনসে ব্যবহৃত হয়।

বিবিসির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিমানটিকে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ থেকে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়। অর্থাৎ দুর্ঘটনার সময় এটি মূল নির্মাণপর্বের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না; বরং পণ্য পরিবহনের জন্য পরিবর্তিত কাঠামোয় পরিচালিত হচ্ছিল।

বিমানটি পরিচালনা করছিল নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক কার্গো পরিবহন সংস্থা ২১ এয়ার। বিমানটি অ্যামাজনের প্রাইম এয়ারের হয়ে চলাচল করছিল।

কীভাবে ঘটে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা

সান হুয়ান থেকে মায়ামির উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়।

এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের পাশের একটি সড়ক অতিক্রম করে কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

মায়ামি-ডেড ফায়ার সার্ভিসের প্রধান রে জাদাল্লাহ জানান, দুর্ঘটনার পর বিমানের ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়েছিলেন। একই সময়ে কয়েকজন গাড়ির ভেতরেও আটকা পড়েন। দমকলকর্মীদের একটি গাড়ির নিচে চাপা পড়া একজনকেও উদ্ধার করতে হয়।

প্রায় ২০০ জন জরুরি উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে কাজ করেন। তারা পৌঁছে বিমানটিকে আগুন ও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান। জানা গেছে, বিমানের ইঞ্জিনের অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল।

নিহত ও আহতদের বিষয়ে যা জানা গেছে

এই অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। মায়ামি-ডেড কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বাকি দুজন তুলনামূলক কম গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে নিহতদের সবাই গাড়িতে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর বিমানের দুই পাইলটের অবস্থা সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারীরা ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলট আটকা পড়ার কথা জানিয়েছিলেন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ছিল জ্বালানি লিকের উদ্বেগ

দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের বিশেষায়িত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পরও বিমান থেকে জ্বালানি লিক হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে ছিল।

ছবিতে দেখা যায়, অ্যামাজনের প্রাইম এয়ারের বিমানটি একটি সড়কের পাশে পেটের অংশের ওপর পড়ে আছে। কাছাকাছি দুটি বড় ট্রাকও দেখা যায়। আগুন লাগলেও বিমানের কাঠামো অনেকটাই অক্ষত ছিল।

এই অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা-র পর উদ্ধারকাজে আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আবহাওয়া কি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে?

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে তদন্তকারীরা ওই সময়ের আবহাওয়াও খতিয়ে দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় বজ্রঝড় ছিল। পাশাপাশি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ মাইল বা প্রায় ৪৮ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাসও ছিল।

তবে এসব আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সরাসরি দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো বলা হয়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার কথা।

মায়ামি বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয়

অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা শুধু দুর্ঘটনাস্থলেই প্রভাব ফেলেনি; মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

ফ্লাইটঅ্যাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দিনের শেষ নাগাদ ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়। একই সময়ে প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

পরিস্থিতির কারণে কিছু ফ্লাইট মায়ামি থেকে ২০০ মাইলেরও বেশি উত্তরে অবস্থিত অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে দুর্ঘটনার প্রভাব বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় ধরে দেখা যায়।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অবতরণের বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি জানিয়েছে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান জেনিফার হোমেন্ডির নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল মায়ামিতে পাঠানো হচ্ছে।

বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তকারীরা প্রথমে দেখবেন বিমানটি নির্ধারিত ল্যান্ডিং জোনের মধ্যে অবতরণ করেছিল কি না। যদি বিমানটি রানওয়ের অনেকটা ভেতরে গিয়ে অবতরণ করে থাকে, তাহলে কেন পাইলটরা অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে ওঠার সিদ্ধান্ত নেননি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের পাইলট ও বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ স্টিভ অ্যারোইয়ো জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত বোয়িং ৭৬৭ দুজন পাইলট—একজন পাইলট ও একজন কো-পাইলট—দিয়ে পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে অতিরিক্ত পাইলট প্রয়োজন হতে পারে।

সাবেক মার্কিন পরিবহন বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল মেরি শিয়াভো বলেন, অবতরণের ভিডিওতে বিমানটিকে রানওয়ের ওপর দীর্ঘ সময় আকাশে ভাসতে দেখা গেছে বলে মনে হয়েছে। এরপর সেটি রানওয়েতে অবতরণ করে।

রানওয়ে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন

মেরি শিয়াভো আরও উল্লেখ করেন, মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়া বিমান থামানোর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ‘ইঞ্জিনিয়ারড অ্যারেস্টিং সিস্টেম’ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফএএ জানিয়েছে, দেশটির ১২০টির বেশি বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা শত শত মানুষের জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে মায়ামি বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা তদন্তের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে। এটি দুর্ঘটনার কারণ ছিল—এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি।

অ্যামাজনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের পরবর্তী ধাপ

অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনটিএসবি তদন্তকারী দল পাঠানোর পর দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে থাকবে বিমানটির অবতরণের অবস্থান, রানওয়েতে চলাচলের পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে বিমানের কার্যক্রম।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা-র নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে সামনে যেসব প্রশ্ন

এই দুর্ঘটনার তদন্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিমানটি নির্ধারিত ল্যান্ডিং জোনে অবতরণ করেছিল কি না, রানওয়ের কতটা অংশ অতিক্রম করেছিল এবং কেন অবতরণ বাতিল করে পুনরায় আকাশে ওঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় বজ্রঝড় ও দমকা বাতাসের প্রভাব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

বিমানটির বয়স প্রায় ৩২ বছর হলেও কেবল বয়সের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করা যায় না। কারণ বিমানটি ২০১৫ সালে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়েছিল। তাই তদন্তকারীরা বিমানটির অবতরণ পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করেই দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ করবেন।

মানবন্দরে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরের কার্যক্রমেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল এবং প্রায় ৩২৫টি ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিমানটি মূলত যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৬৭ হিসেবে তৈরি হলেও ২০১৫ সালে কার্গো বিমানে রূপান্তর করা হয়েছিল। এখন এনটিএসবি নেতৃত্বাধীন তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, অবতরণের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাবসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত