আরও খবর

News Photocard (21)
চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (15)
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা, পাল্টা মার্কিন অভিযানে ৩ ট্যাংকার ধ্বংস
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, জরুরি অবস্থা জারি
News Photocard (9)
ফ্রান্সের উসকানিতেই সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, অভিযোগ নাইজার সরকারের

‘ওরা বাবাকে মেরে ফেলতে চাইছে’—ইমরান খানের ছেলের শঙ্কা

ইমরান খানের ছেলের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে ছেলে কাসিমের বিস্ফোরক অভিযোগ। কারাগারে বাবার চিকিৎসা, একাকীত্ব ও যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের নিরাপত্তা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কাসিম খান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, কারাগারে তার বাবাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কাসিমের বক্তব্যের পর ইমরান খানের কারাবাস, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা মূলত তার কারাবন্দি অবস্থাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। কাসিমের অভিযোগ অনুযায়ী, ইমরানকে একাকী বন্দিত্বে রাখা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

কাসিম খানের গুরুতর অভিযোগ

সাক্ষাৎকারে কাসিম খান তার বাবার পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কারাগারে ইমরান খানকে এমনভাবে রাখা হচ্ছে, যাতে তাকে ধীরে ধীরে নীরব করে দেওয়া যায় এবং জনজীবন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়।

কাসিমের অভিযোগ, তার বাবা পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তি হওয়ায় তাকে থামানোর জন্য এমন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইমরান খানকে কারাগারে রেখে তার প্রভাব কমানোর চেষ্টা চলছে।

তবে এগুলো কাসিম খানের অভিযোগ। পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ফলে ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে পরিবারের বক্তব্য ও সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কার ৩টি দিক

ইমরানের পরিবারের অভিযোগে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এগুলো হলো কারাগারে একাকী বন্দিত্ব, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা।

একাকী বন্দিত্ব নিয়ে উদ্বেগ

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগারে ইমরান খানকে একাকী বন্দিত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় এভাবে থাকার বিষয়টি তার পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাসিমের বক্তব্যে বোঝা যায়, পরিবারের কাছে শুধু কারাবন্দিত্বই উদ্বেগের বিষয় নয়; বরং কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তাকে কারাগারে রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের প্রশ্ন

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে তার পরিবার আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়।

তবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ফলে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পরিবার ও সরকারের অবস্থান আবারও আলোচনায় আসে।

ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় তাই চিকিৎসা ব্যবস্থার বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত

ইমরানের পরিবারের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগের সুযোগ সীমিত থাকা।

কাসিম খান ও তার ভাই সুলাইমান খান—দুজনই বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে, যেখানে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, যোগাযোগের এই সীমাবদ্ধতা ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হাসপাতাল নির্দেশ

ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে বিষয়টি এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

আদালতের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিশ্চিত করা।

কিন্তু আদালতের নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ফলে ইমরানের চিকিৎসা এবং কারাগারে তার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

পরিবারের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সুলাইমানের উদ্বেগও প্রকাশ

ইমরানের আরেক ছেলে সুলাইমান খানও তার বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। অর্থাৎ শুধু কাসিম নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও ইমরানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত।

তবে তাদের উদ্বেগের পাশাপাশি সরকারের বক্তব্যও বিবেচনায় রয়েছে। পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ মানছে না।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইমরানের কারাবাস নিয়ে দুটি ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে—একদিকে পরিবারের উদ্বেগ ও অভিযোগ, অন্যদিকে সরকারের অস্বীকৃতি।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে ইমরান খান

ইমরান খানের পরিচয় শুধু পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, তিনি দেশটির অন্যতম সফল ক্রিকেট অধিনায়কও।

১৯৯২ সালে তার নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে। সেই বিশ্বকাপ জয় পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান খানের নেতৃত্বেই পাকিস্তান ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে।

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ইমরান খান রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

তবে তার প্রধানমন্ত্রিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২২ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোটে হেরে তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান।

২০২৩ সালে গ্রেপ্তার, এখন আদিয়ালা কারাগারে

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সোর্স নিউজ অনুযায়ী, বর্তমানে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আছেন। তার কারাবন্দি জীবনকে ঘিরে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তার স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার বিষয়টি সেই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।

পাকিস্তানের রাজনীতি ও ক্রিকেটে নতুন আলোচনা

ইমরান খান পাকিস্তানের রাজনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তেমনি ক্রিকেটেও তার ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ফলে তার কারাবন্দি জীবন নিয়ে যেকোনো নতুন বক্তব্য সহজেই রাজনৈতিক ও ক্রীড়া—দুই অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

কাসিম খানের সাম্প্রতিক মন্তব্যও এর ব্যতিক্রম নয়। বাবাকে নিয়ে তার উদ্বেগের বক্তব্য প্রকাশের পর ইমরানের কারাগারের পরিবেশ, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে সরকারের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের বক্তব্যই বিবেচনায় রাখা জরুরি।

ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা: সামনে কী

ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে কাসিম খানের বক্তব্য মূলত তার বাবার কারাবন্দি অবস্থা ও স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের উদ্বেগকে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের হাসপাতাল-সংক্রান্ত নির্দেশ এবং তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপোড়েনও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে। ফলে ইমরানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

শিগগিরই এই পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে তার চিকিৎসা, কারাবন্দি অবস্থার ব্যবস্থাপনা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।

ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান বাবার কারাবন্দি জীবন ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাতে পাকিস্তানের রাজনীতি ও ক্রিকেট—দুই অঙ্গনেই নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের মধ্যে একাকী বন্দিত্ব, চিকিৎসা এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাই ইমরান খানের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের অভিযোগ এবং সরকারের বক্তব্য—উভয় দিকই গুরুত্বপূর্ণ।

ইমরান খান ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক এবং পরবর্তীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তার কারাবন্দি জীবনকে ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিই আবারও তাকে পাকিস্তানের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত