আরও খবর

News Photocard (24)
‘ওরা বাবাকে মেরে ফেলতে চাইছে’—ইমরান খানের ছেলের শঙ্কা
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (15)
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা, পাল্টা মার্কিন অভিযানে ৩ ট্যাংকার ধ্বংস
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, জরুরি অবস্থা জারি
News Photocard (9)
ফ্রান্সের উসকানিতেই সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, অভিযোগ নাইজার সরকারের

চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা

চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে চীনে। এপেক সম্মেলনে দুই নেতার সাক্ষাতের পাশাপাশি রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও আছে।

চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা এপেক সম্মেলনকে ঘিরে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুজনই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে মস্কো। সুযোগ তৈরি হলে সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন নেতাকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি মস্কো। তবে এ ধরনের বৈঠকের প্রস্তুতি এখনো শুরু হয়নি।

ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, এপেক সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের জন্য আলাদা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করবে মস্কো। এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে ট্রাম্পের সঙ্গেও পুতিনের বৈঠক হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এপেক সম্মেলন ঘিরে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে ইউরি উশাকভ বলেন, এপেক সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে সুযোগ তৈরি হলে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের জন্য আলাদা বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

উশাকভের ভাষ্য, পুতিনের কর্মসূচিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও থাকবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি ও সময়ের সুযোগ হলে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক হলে সেখানে কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। উশাকভ জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয় বৈঠকের সময় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, মস্কো পুতিনের জন্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করছে এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা

শুধু দ্বিপক্ষীয় পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক নয়, রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, এমন একটি বৈঠকের ধারণা রয়েছে। তবে সেটিকে এখনই প্রস্তুতি পর্যায়ে চলে গেছে বলা ঠিক হবে না।

তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াবকভ বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণাটি ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু বাস্তবে বৈঠক আয়োজনের জন্য এখনো কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি।

রিয়াবকভের মতে, এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রথমেই আলোচনার বিষয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈঠক থেকে কী ধরনের ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে, সেটিও আগে স্পষ্ট করতে হবে।

তিনি মনে করেন, শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরনের বৈঠক আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়া, ভারত ও চীনের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের কাঠামোর উদাহরণ দেন।

তবে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি বলেও জানান রিয়াবকভ।

ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে মস্কোর অবস্থান

রিয়াবকভ বলেন, তিনি কোনো সম্ভাবনাই পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি তথ্য দেওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই।

অর্থাৎ, মস্কো সম্ভাবনাটি খোলা রাখলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়নি। ফলে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক এবং সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক—দুটিই আপাতত সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যোগাযোগে আস্থার প্রসঙ্গ

এদিকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও মন্তব্য করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

রুশ সংবাদমাধ্যম ভেস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেসকভ বলেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনারের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশের প্রতিফলন।

পেসকভের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি পথ তৈরি হয়েছে এবং সেই পথে আস্থা বাড়ছে। তাঁর মতে, বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াটিই এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে আস্থার পরিবেশ থাকার প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যখন মনে করেন যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বার্তা অন্য পক্ষের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, তখন দীর্ঘ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়ে থাকে।

এই বক্তব্যের ফলে সম্ভাব্য পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইউক্রেনের প্রস্তাবও আলোচনায়

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগের পাশাপাশি ইউক্রেন থেকেও নতুন একটি প্রস্তাব এসেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় রুশ শহরগুলোতে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে প্রস্তুত কিয়েভ।

এ অবস্থায় চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুতিন ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব আরও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের নিয়ে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণাটিও সামনে রয়েছে।

তবে উৎসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য এখনো কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। ফলে এর আয়োজন হবে কি না, কিংবা হলে কোন বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এপেক সম্মেলনকে ঘিরে কূটনৈতিক নজর

এপেক সম্মেলন ঘিরে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নজর কেড়েছে। বিশেষ করে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক হলে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণা বাস্তবায়িত হলে সেটি আলাদা গুরুত্ব বহন করতে পারে। তবে রুশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, এমন বৈঠকের আগে আলোচনার এজেন্ডা ও প্রত্যাশিত ফলাফল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে রিয়াবকভের বক্তব্যও উঠে এসেছে যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হবে আলোচনার বিষয়বস্তু কী হবে এবং বৈঠক থেকে কী ফলাফল প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এপেক সম্মেলনে পুতিন ও ট্রাম্পের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে এবং সুযোগ হলে তাঁদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। মস্কো একই সঙ্গে পুতিন ও শি চিনপিংয়ের বৈঠকের ব্যবস্থাও করতে চায়।

অন্যদিকে, রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ধারণা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সেটির জন্য এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়নি। ফলে সম্ভাব্য বৈঠকগুলোর পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও পরিস্থিতির ওপর।

এদিকে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে ক্রেমলিনের বক্তব্য এবং ইউক্রেনের সাময়িক বিমান হামলা বন্ধের প্রস্তাব—দুই ঘটনাই বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

চীনে অনুষ্ঠেয় এপেক সম্মেলনকে ঘিরে পুতিন-ট্রাম্প বৈঠক এবং রাশিয়া-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়ে আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। মস্কো দুই নেতার সম্ভাব্য সাক্ষাতের সুযোগ খোলা রেখেছে। একই সঙ্গে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের ধারণাও পুরোপুরি নাকচ করেনি।

তবে এখন পর্যন্ত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের কোনো প্রস্তুতি শুরু হয়নি। তাই এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কোন বৈঠক বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে বা সেখানে কী বিষয়ে আলোচনা হবে। এপেক সম্মেলন যত এগিয়ে আসবে, এসব কূটনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আরও স্পষ্টতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত