আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
কেন রদ্রিকে কিনতে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
গ্রিজমানের অভাব পূরণ করতে পিএসজি তারকাকে দলে ভেড়াল অ্যাতলেতিকো
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
মেসি-ডি পলের ‘নিষেধাজ্ঞা’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ কোথায়
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
কাসেমিরোকে দলে ভিড়িয়ে বিপদে ইন্টার মায়ামি

এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কারা

এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে কারা,  হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, এমবাপ্পে ও মেসির লড়াই। ডিএজেডএনের পাওয়ার র‌্যাংকিংয়ে কে এগিয়ে?

ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ২০২৫-২৬ মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপে সাফল্য এবং ব্যক্তিগত অর্জন বিবেচনায় ক্রীড়া বিষয়ক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ডিএজেডএন শীর্ষ পাঁচ প্রতিযোগীর একটি পাওয়ার র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। তালিকায় হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি জায়গা পেয়েছেন।

বিশ্বকাপের বছরগুলোতে ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স ঐতিহাসিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর এবারের হিসাবটি আগের তুলনায় কিছুটা জটিল। স্পেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও দলের কোনো একক খেলোয়াড়কে নিশ্চিতভাবে পুরস্কারের একমাত্র দাবিদার বলা যাচ্ছে না। আবার কিছু খেলোয়াড় ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ পারফর্ম করলেও জাতীয় দলের হয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।

বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে বিশ্বকাপের প্রভাব নতুন কিছু নয়। ২০০৬ সালে ইতালিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার পর রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ফাবিও কানাভারো এই পুরস্কার জিতেছিলেন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পর লুকা মদরিচও ব্যালন ডি’অর জেতেন।

এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পর লিওনেল মেসির হাতে ওঠে তার অষ্টম ব্যালন ডি’অর। এসব উদাহরণ থেকেই বোঝা যায়, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় সাফল্য ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ২০২৬ সালের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। স্পেন শিরোপা জিতলেও তাদের দলের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো খেলোয়াড়দেরও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ডিএজেডএনের শীর্ষ ৫

১. হ্যারি কেইন: ধারাবাহিকতায় সবার ওপরে

ডিএজেডএনের পাওয়ার র‌্যাংকিংয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও তৃতীয় সেরা দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে। সেই অভিযানে কেইন করেছেন ৬ গোল।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়েও সফল মৌসুম কাটিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক। দলটির হয়ে বুন্দেসলিগা শিরোপা জিতেছেন তিনি। তবে তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো পুরো মৌসুমজুড়ে অসাধারণ ধারাবাহিকতা।

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এক মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ৭০। এই পরিসংখ্যানই তাকে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়-এ সবার ওপরে জায়গা করে দিয়েছে। বিশ্বকাপ ট্রফি না জিতলেও ব্যক্তিগত গোল এবং ক্লাব সাফল্যের সমন্বয় তাকে শক্তিশালী প্রতিযোগী করে তুলেছে।

২. লামিনে ইয়ামাল: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের অন্যতম নায়ক

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। পুরোপুরি ফিট না থাকলেও স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল।

বার্সেলোনাকে লা লিগা শিরোপা জেতানোর পথেও তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। বিশ্বকাপে তার গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও সামগ্রিক খেলায় তিনি নজর কেড়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের শেষ দিকে যদি ইয়ামাল ক্লাব ফুটবলের মতো আধিপত্য দেখাতে পারতেন, তাহলে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়-এ তিনিই হয়তো প্রথম স্থানে থাকতেন। তবু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে তার অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী।

৩. রদ্রি: বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল বড় শক্তি

তৃতীয় অবস্থানে আছেন ম্যানচেস্টার সিটি ও স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি। ক্লাব পর্যায়ে কিছুটা ছন্দ হারালেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন।

স্পেনের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি রদ্রি জিতেছেন গোল্ডেন বল। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের এই স্বীকৃতি ব্যালন ডি’অরের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক হিসেবে রদ্রির অবস্থান তাকে আলাদা সুবিধা দিচ্ছে। তাই ক্লাব ফুটবলে তার পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন থাকলেও জাতীয় দলের সাফল্য তাকে এখনও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে ধরে রেখেছে।

এমবাপ্পে ও মেসির অবস্থান কতটা শক্ত?

৪. কিলিয়ান এমবাপ্পে: ব্যক্তিগত রেকর্ডে দুর্দান্ত, দলীয় সাফল্যে পিছিয়ে

কিলিয়ান এমবাপ্পে বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে এমবাপ্পের মৌসুম নিঃসন্দেহে অসাধারণ। তবে দলীয় সাফল্যের ঘাটতিই তাকে ডিএজেডএনের তালিকায় চতুর্থ স্থানে রেখেছে।

রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগা কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ—কোনোটিই জিততে পারেনি। অন্যদিকে শক্তিশালী ফ্রান্সও বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত রেকর্ড উজ্জ্বল হলেও ট্রফিশূন্যতা তার অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করেছে।

৫. লিওনেল মেসি: ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের বড় নায়ক

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রধান ভরসা ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। তার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে।

তবে ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মেসি নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না। এদিকে ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও ইউরোপীয় ক্লাবের বাইরে খেলা ব্যালন ডি’অরের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফলে আরও একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ কাটানোর পরও রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অর জেতা মেসির জন্য এবার আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে।

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে শেষ পর্যন্ত কী নির্ধারক হবে?

এবারের লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ক্লাবের ট্রফি নাকি বিশ্বকাপের সাফল্য, কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে?

হ্যারি কেইনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক গোল এবং বুন্দেসলিগা জয় বড় শক্তি। লামিনে ইয়ামাল ও রদ্রির ক্ষেত্রে স্পেনের বিশ্বকাপ জয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এমবাপ্পে ব্যক্তিগত রেকর্ডে এগিয়ে থাকলেও দলীয় ট্রফির অভাব তার জন্য সমস্যা। আর মেসি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেললেও ইন্টার মায়ামির হয়ে তার পারফরম্যান্স ভোটারদের কাছে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

এই কারণে এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়কে একতরফা বলা যাচ্ছে না। ডিএজেডএনের পাওয়ার র‌্যাংকিংয়ে হ্যারি কেইন শীর্ষে থাকলেও লামিনে ইয়ামাল ও রদ্রির মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের সম্ভাবনাও যথেষ্ট শক্তিশালী।

ফুটবলপ্রেমীদের জন্য শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হবে—বিশ্বকাপের সাফল্য কি ক্লাব ফুটবলের ধারাবাহিকতাকে ছাপিয়ে যাবে, নাকি পুরো মৌসুমের গোল ও ব্যক্তিগত রেকর্ডই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।

২০২৫-২৬ মৌসুমের ব্যালন ডি’অর লড়াইয়ে এখনো কোনো একক খেলোয়াড়কে নিশ্চিত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না। হ্যারি কেইনের ধারাবাহিক গোল, লামিনে ইয়ামাল ও রদ্রির বিশ্বকাপ সাফল্য, এমবাপ্পের ব্যক্তিগত রেকর্ড এবং মেসির অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতাটি হয়েছে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ।

ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারের চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। তবে ডিএজেডএনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী আপাতত হ্যারি কেইন রয়েছেন সবচেয়ে এগিয়ে।

সর্বাধিক পঠিত