আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (31)
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর সরকার
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
যে কারণে ৬ দিন ধরে ডুবে আছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা কতটা বাস্তব, কতটা প্রস্তুত নেতা-কর্মীরা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (7)
বন্যায় বিপর্যস্ত আট জেলা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
প্রবাসীরা পাসপোর্ট নিয়ে মহাযন্ত্রণায়

টানা বৃষ্টি কত দিন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

টানা বৃষ্টি কত দিন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর, আগামী আরও পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে । ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ ও কয়েক অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানুন।

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি আগামী অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

টানা বৃষ্টি: কী বলছে আবহাওয়া অধিদপ্তর?

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এর পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো লঘুচাপের প্রভাব নেই। মূলত সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত বৃষ্টি হয়েছে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল—

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ৫৬১ মিলিমিটার
  • ঢাকা বিভাগ: ১৮২ মিলিমিটার
  • রাজশাহী বিভাগ: ১৬৩ মিলিমিটার
  • রংপুর বিভাগ: ১৩৬ মিলিমিটার
  • খুলনা বিভাগ: ১২৫ মিলিমিটার
  • সিলেট বিভাগ: ৯৮ মিলিমিটার
  • বরিশাল বিভাগ: ৩৯ মিলিমিটার
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ২১ মিলিমিটার

এই টানা বৃষ্টি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে অন্তত সাত জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসা এবং উপকূলীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে বেড়িবাঁধ কেটে দেওয়ার কারণে এ উন্নতি দেখা গেছে।

তবে দেশের অভ্যন্তর ও উজানে ভারি টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

কেন্দ্রটির নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান কালের কণ্ঠকে জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সিলেট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে।

কোন কোন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে?

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বৃহত্তর চট্টগ্রামের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে ধীরগতিতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

নদীগুলোর মধ্যে—

  • মাতামুহুরী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি কমেছে।
  • হালদা, সাঙ্গু, মুহুরী ও ফেনী নদীর পানি বেড়েছে।
  • লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

সাঙ্গু নদীর বান্দরবান পয়েন্টে পানি ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। অন্যদিকে দোহাজারী পয়েন্টে পানি ৪ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।

মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিংগা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে ছিল।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পরিস্থিতি

সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী—

  • ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
  • মারকুলি পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার কমলেও পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।
  • হবিগঞ্জের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি ৫৯ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
  • মৌলভীবাজার পয়েন্টে মনু নদীর পানি ৪২ সেন্টিমিটার কমলেও বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপরে অবস্থান করছিল।

এ ছাড়া সারি, গোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও বাড়ছে নদীর পানি

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উভয়ই দেশের টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া ও বন্যা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত