আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (13)
ফের বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
দাম আরো কমে যত ‍টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
বিশ্ববাজারে বেড়েছে সোনার দাম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনে নতুন কাঠামো চালু

আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেনে নতুন কাঠামো চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় ৩০০ ডলার পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা আরও সহজ হবে।

দেশের ডিজিটাল আর্থিক অবকাঠামোকে আরও আধুনিক করা, বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো চালু করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। নতুন নির্দেশনার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনা করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বৈধ বৈদেশিক লেনদেনকে আরও সহজ, নিয়ন্ত্রিত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি হবে।

আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো কী?

নতুন আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা দিতে পারবে।

এর ফলে বৈধ বৈদেশিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা ব্যাংকের মাধ্যমে আরও সহজে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকের তদারকিতে সব লেনদেন সম্পন্ন হওয়ায় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) খোলার সুযোগ

সার্কুলারে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়প্রাপ্ত গ্রাহকদের জন্য ব্যাংকগুলো ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট খুলতে পারবে।

প্রতিটি ডিভিএ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একটি মাস্টার ডিভিএ বা সেটেলমেন্ট হিসাবের অধীনে উপ-হিসাব হিসেবে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেনের ওপর ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বজায় থাকবে।

এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হওয়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণও কার্যকর থাকবে।

কোন কোন খাতে ব্যবহার করা যাবে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সুবিধার আওতায় দেশের বাসিন্দারা বিভিন্ন বৈধ বৈদেশিক ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • ব্যক্তিগত সফর ব্যয়
  • চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয়
  • সরকারি সফরের ব্যয়
  • তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা গ্রহণ
  • ভিসা প্রসেসিং ফি
  • সদস্যপদ নবায়নের অর্থ প্রদান
  • অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের মূল্য পরিশোধ

এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আন্ত সীমান্ত অনলাইন পেমেন্ট করা যাবে।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য কী সুবিধা?

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও নতুন আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো নির্দিষ্ট সুবিধা দিয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকৃত বৈদেশিক ব্যবসায়িক ব্যয়ের জন্য এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

এটি বৈদেশিক ব্যবসায়িক লেনদেনকে আরও সহজ ও নিয়মতান্ত্রিক করতে সহায়ক হবে।

স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তায় কঠোর নির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর জন্য একাধিক নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা দিয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • ডিভিএ-সংক্রান্ত সব লেনদেনের মিরর লেজার সংরক্ষণ।
  • অংশীদার ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী (সিডিপিএসপি)-এর সঙ্গে রিয়েল-টাইম সংযোগ স্থাপন।
  • ডিভিএতে অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ দেশে সমন্বয় করা।

এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেওয়াইসি ও অর্থপাচার প্রতিরোধে জোর

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোরভাবে—

  • গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি)
  • গ্রাহক যথাযথ যাচাই (সিডিডি)
  • অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি)

সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধান অনুসরণ করতে হবে।

এর মাধ্যমে বৈধ লেনদেন নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধেও জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর জন্য পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর আওতায় আন্ত সীমান্ত বৈদেশিক অর্থ প্রেরণ সেবা চালু করতে আগ্রহী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

এ শর্ত পূরণের পরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নতুন সেবা চালু করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা আন্ত সীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার একটি নতুন পদক্ষেপ। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈধ বৈদেশিক লেনদেন, অনলাইন পেমেন্ট এবং নির্দিষ্ট খাতে ডিজিটাল ব্যয় পরিচালনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো, কেওয়াইসি, সিডিডি এবং এএমএল/সিএফটি বিধান অনুসরণের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বাধিক পঠিত