শাহরুখ খানের সম্পদ এক বছরে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি কম দেখানো হলেও ২০২৬ হুরুন তালিকায় তিনি ভারতের শীর্ষ ধনী অভিনেতার অবস্থান ধরে রেখেছেন।
২০২৬ সালের হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে শাহরুখ খানের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১০ হাজার কোটি রুপি। এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি।
ফলে দুই বছরের তালিকার মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তবে এটি সরাসরি আয় বা লোকসানের হিসাব নয়। বরং তালিকায় ব্যবহৃত সম্পদের মূল্যায়ন পরিবর্তনের কারণেও এমন পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
হুরুনের তালিকা মূলত সম্পদ ও ব্যবসায়িক মালিকানার আনুমানিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট সম্পদের হিসাবেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
কেন কমেছে শাহরুখ খানের সম্পদের হিসাব

শাহরুখ খানের সম্পদ কম দেখানোর বিষয়টি বুঝতে হলে হুরুনের মূল্যায়ন পদ্ধতির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির সম্পদের হিসাব কেবল হাতে থাকা নগদ অর্থের ভিত্তিতে করা হয় না। ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, কোম্পানির মূল্য, বিনিয়োগ, জমি-বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক মূল্যও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শাহরুখের ক্ষেত্রে রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। পাশাপাশি জমি-বাড়ি, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সম্পদের মূল্যও তার মোট সম্পদের হিসাবের অংশ।
তাই কোনো একটি ব্যবসা বা ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে পরিবর্তন এলে পুরো সম্পদের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে ২০২৫ সালের ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি থেকে ২০২৬ সালে ১০ হাজার কোটি রুপিতে নামার তথ্যকে সরাসরি ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি নগদ ক্ষতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
এর আগে প্রকাশিত হুরুন গ্লোবাল রিচ লিস্টে শাহরুখ খানের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৮০০ কোটি রুপি ধরা হয়েছিল।
অভিনেতাদের তালিকায় অন্যদের অবস্থান
২০২৬ সালের তালিকায় শাহরুখ খানের পর অভিনেতাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ হাজার কোটি রুপি।
অমিতাভ বচ্চনের ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় সম্পদের হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। ২০২৬ সালের হিসাবে সেটি বেড়ে ৪ হাজার কোটি রুপি হয়েছে।
অভিনেতাদের তালিকায় এরপর রয়েছেন সালমান খান। তার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি রুপি।
হৃতিক রোশনের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি রুপি। ২০২৫ সালের তালিকায় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৬০ কোটি রুপি। হৃতিকের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফিটনেস ও জীবনধারাভিত্তিক ব্র্যান্ড এইচআরএক্স।
তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন জুহি চাওলা ও কারাণ জোহর
২০২৬ সালের তালিকায় জুহি চাওলা ও কারাণ জোহরের নাম নেই। অথচ ২০২৫ সালের তালিকায় তারা দুজনই ছিলেন।
২০২৫ সালের তালিকায় জুহি চাওলার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি। একই তালিকায় কারাণ জোহরের সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৮০ কোটি রুপি।
এবার তাদের নাম না থাকার বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে আলাদা কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ অনুমান করার সুযোগ নেই।
চলচ্চিত্র ব্যবসার অন্য ধনীদেরও জায়গা
হুরুনের তালিকায় শুধু অভিনয়শিল্পীরাই নন, চলচ্চিত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।
‘রামায়ণ’ সিনেমার প্রযোজক নমিত মালহোত্রার বাবা নরেশ মালহোত্রার আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি রুপি। এছাড়া প্রযোজক ভূষণ কুমার, রনি স্ক্রুওয়ালা ও কালানিথি মারানের নামও তালিকায় রয়েছে।
এতে বোঝা যায়, তালিকাটি শুধু অভিনয় পেশার আয়ের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়নি; চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সম্পদের মূল্যায়নও এতে গুরুত্বপূর্ণ।
শাহরুখের পরবর্তী সিনেমা ‘কিং’
সম্পদের হিসাবের পাশাপাশি শাহরুখ খানের ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’।
সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত এই সিনেমায় শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও সুহানা খান। সিনেমাটিতে রাঘব জুয়াল, জয়দীপ আহলাওয়াত, আরশাদ ওয়ারসি ও জ্যাকি শ্রফকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে।
উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটি আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।
ফলে ২০২৬ সালের হুরুন তালিকায় সম্পদের মূল্যায়ন কমে যাওয়ার খবরের পাশাপাশি শাহরুখের নতুন সিনেমা নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে।
সম্পদের হিসাব আর বাস্তব লোকসান এক নয়
শাহরুখ খানের সম্পদ নিয়ে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের হিসাবের পার্থক্যটি আলোচনায় আসার মূল কারণ হলো সংখ্যাটি—২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তবে এই পার্থক্যকে সরাসরি এক বছরে শাহরুখের ব্যক্তিগত লোকসান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
হুরুনের হিসাব বিভিন্ন ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সম্পদের আনুমানিক মূল্যায়নের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার মূল্যায়ন বদলালে তালিকায় থাকা সম্পদের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।
২০২৬ সালের হিসাবে ১০ হাজার কোটি রুপি সম্পদের মূল্যায়ন নিয়ে শাহরুখ খান এখনও অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন। একই সঙ্গে অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও হৃতিক রোশনের মতো তারকারাও তালিকায় উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হিসেবে উঠে এসেছেন।





