এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (4)
এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
ব্রাজিল নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের চেষ্টা, মার্কিন ২ কর্মকর্তার ভিসা বাতিল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
পদত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যা বললেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত

প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত, পারমাণবিক শক্তি ও নির্ভরযোগ্য এআই খাতে নতুন পরিকল্পনা করছে দুই দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সচিব এস পল কাপুর জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের অংশীদারত্ব বাড়ছে। হুভার ইনস্টিটিউটে ভারতবিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই সহযোগিতা সম্প্রসারণের অন্যতম লক্ষ্য।

দুই দেশ এখন নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং অন্যান্য নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও যৌথভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতার নতুন দিক

হুভার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এস পল কাপুর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মুলফোর্ডও অংশ নেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নির্ভরযোগ্য এআই এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দুই দেশ।

প্রতিরক্ষা খাতে বড় অংশীদারত্ব

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে সই করে। এই কাঠামোর উদ্দেশ্য হলো স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত।

দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০০২ সাল থেকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।

ভারতের কেনা গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে—

  • অ্যাপাচি যুদ্ধ হেলিকপ্টার
  • চিনুক পরিবহন হেলিকপ্টার
  • সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান
  • সি-১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান
  • পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান
  • এম৭৭৭ হাউইটজার কামান

এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের মাধ্যমে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে।

স্থল থেকে সাইবার—বহুমাত্রিক সহযোগিতা

নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে শুধু প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে না। স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের পাশাপাশি মহাকাশ এবং সাইবার ক্ষেত্রেও যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি যৌথ উন্নয়ন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে বাড়ছে আগ্রহ

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়ছে।

মার্কিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো ভারতে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ খুঁজছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে।

ভারত সরকার ‘শান্তি’ আইন পাস করার পর এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। ওই আইনের মাধ্যমে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতাসংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ যাচাই করতেই মার্কিন প্রতিনিধিদলটি ভারত সফর করে।

বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের সম্ভাবনা

পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতাসংক্রান্ত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত সরকার কিছু নিয়ম শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক খাতের প্রতিনিধিরা নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগের সুযোগ পর্যালোচনা করেছেন।

তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, নির্দিষ্ট প্রকল্প বা কোনো চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

নির্ভরযোগ্য এআই ও আধুনিক প্রযুক্তিতে যৌথ পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নির্ভরযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।

এস পল কাপুরের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নির্ভরযোগ্য এআই এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দুই দেশ।

এআইসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নতুন সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে এআই সহযোগিতার আওতায় নির্দিষ্ট প্রকল্প, প্রযুক্তি বা বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে উৎসে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কর্মসংস্থান ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্য

এস পল কাপুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাড়তে থাকা সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়লে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রযুক্তি ও শিল্পভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তাদের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সঙ্গে এখন পারমাণবিক শক্তি এবং এআইয়ের মতো নতুন ক্ষেত্র যুক্ত হচ্ছে।

ফলে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল প্রচলিত নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং প্রযুক্তি, জ্বালানি, অর্থনীতি এবং সরবরাহব্যবস্থাকেও অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতা এমন সময়ে বাড়ছে, যখন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি এবং সরবরাহব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগ ও প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য এআই এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।

তবে এসব সহযোগিতার আওতায় ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দিষ্ট প্রকল্প নেওয়া হবে বা কোন সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের দিকে এগোচ্ছে।

এস পল কাপুরের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অংশীদারত্ব যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

গত বছরের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামো এবং পারমাণবিক খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিক তুলে ধরছে।

ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রযুক্তি সহযোগিতা কীভাবে বাস্তব প্রকল্প ও নতুন চুক্তিতে রূপ নেয়, তা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের পরবর্তী অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত