আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
স্পেনের জয়ে যা লিখলেন শাকিব-বুবলী-অপু
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
বিটিএসের কনসার্টে শ্রোতার ঢল, ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (18)
ট্রাম্প, বিবার ও শাকিরার উপস্থিতিতে নজিরবিহীন এক বিশ্বকাপ ফাইনাল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
আদনান আল রাজীবের সিনেমার নায়ক সিয়াম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
বিশ্বকাপের হাফটাইমে তারকাখচিত জমজমাট আয়োজন

বিশ্বকাপের হাফটাইমে পারফর্ম করে বিটিএস, শাকিরা, ম্যাডোনারা কি টাকা পেলেন

বিশ্বকাপের হাফটাইমে পারফর্ম করে বিটিএস, শাকিরা, ম্যাডোনারা কি টাকা পেলেন, বিশ্বকাপ হাফটাইম শোতে ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও বিটিএস পারফর্ম করেও নেননি পারিশ্রমিক। জানুন এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের কারণ।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো সুপার বোলের আদলে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ বিশ্বকাপ হাফটাইম শো। স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে মঞ্চ মাতান ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন ‘টেড ল্যাসো’ সিরিজের তারকা জেসন সুডেইকিস ও ব্রেন্ডন হান্ট এবং শিশুদের জনপ্রিয় চরিত্র ‘দ্য মাপেটস’। এত বড় তারকাখচিত আয়োজন হলেও পারফর্ম করা কোনো শিল্পীই পারিশ্রমিক নেননি।

বিশ্বকাপ হাফটাইম শোতে নতুন অধ্যায়

ফুটবল বিশ্বকাপে হাফটাইম শো ছিল একেবারেই নতুন সংযোজন। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএলের সুপার বোল বহু বছর ধরে তারকাবহুল হাফটাইম শোর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মাইকেল জ্যাকসন, প্রিন্স, বেয়ন্সে, রিহানা, লেডি গাগা ও কেনড্রিক লামারের মতো শিল্পীরা সেখানে পারফর্ম করেছেন।

সেই ধারণা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবার এমন আয়োজন করে ফিফা। এবারের বিশ্বকাপও ছিল নানা দিক থেকে ঐতিহাসিক। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করে প্রতিযোগিতাটি।

আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের সঙ্গে উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় ক্রীড়া ও বিনোদন সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে যুক্ত করা।

মঞ্চে ছিলেন ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএস

ফাইনালের বিরতিতে ম্যাডোনা তাঁর জনপ্রিয় গান ‘মিউজিক’ পরিবেশন করেন। স্টেডিয়ামের নিচের টানেল থেকে তাঁর নাটকীয় মঞ্চে ওঠার দৃশ্য দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পারফরম্যান্সের সময় তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো ও রোনালদিনিও।

শাকিরাও অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন। একই মঞ্চে পারফর্ম করে দর্শকদের মাতান কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবার এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।

অনুষ্ঠানে বিনোদনের আরও একটি মাত্রা যোগ করেন ‘টেড ল্যাসো’ সিরিজের অভিনেতা জেসন সুডেইকিস ও ব্রেন্ডন হান্ট। পাশাপাশি শিশুদের জনপ্রিয় চরিত্র ‘দ্য মাপেটস’ও ছিল আয়োজনের অংশ।

ফুটবলের ১৫ মিনিটের বিরতি হলো প্রায় ২৭ মিনিট

বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করে বিরতির এই বিশেষ আয়োজন। সাধারণ ফুটবল ম্যাচে হাফটাইমের বিরতি থাকে ১৫ মিনিট। কিন্তু বিশেষ বিশ্বকাপ হাফটাইম শো আয়োজনের কারণে এবারের ফাইনালে বিরতি বেড়ে প্রায় ২৭ মিনিটে দাঁড়ায়।

এতে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এত দীর্ঘ বিরতি ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলেছে।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্লেষক ওয়েন রুনি বলেন, তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিল্পীদের পছন্দ করেন। তবে হাফটাইম শোটি তাঁর ভালো লাগেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

এক পক্ষ মনে করে, এই আয়োজন বিশ্বকাপকে আরও বৈশ্বিক বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অন্য পক্ষের মতে, ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর সঙ্গে এমন দীর্ঘ বিরতি মানানসই নয়।

৫ তারকার পারিশ্রমিক ছিল শূন্য

ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার কিংবা বিটিএস—প্রত্যেকেই বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এবং বড় অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য তাঁদের বিপুল পারিশ্রমিকের কথা জানা যায়। ব্যক্তিগত কনসার্ট বা করপোরেট অনুষ্ঠানে তাঁদের পারফরম্যান্সের জন্য লাখ লাখ, এমনকি কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

তাই বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া মঞ্চে তাঁদের পারিশ্রমিক নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তবে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা কোনো শিল্পীকেই অর্থ দেওয়া হয়নি। ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও বিটিএসসহ অংশ নেওয়া শিল্পীরা স্বেচ্ছায় পারফর্ম করেছেন।

অর্থাৎ, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চগুলোর একটিতে পারফর্ম করেও তাঁরা সরাসরি কোনো পারিশ্রমিক নেননি।

কেন পারিশ্রমিক নিলেন না শিল্পীরা?

এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কেবল বিনোদন দেওয়া ছিল না। বিশ্বকাপ হাফটাইম শো ছিল গ্লোবাল সিটিজেনের সঙ্গে ফিফার একটি সামাজিক উদ্যোগের অংশ।

শিল্পীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই পারফর্ম করেন, যাতে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং ফুটবল খেলার সুযোগ বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

ফলে শিল্পীদের অংশগ্রহণকে শুধু একটি বিনোদনমূলক পারফরম্যান্স হিসেবে দেখা হয়নি। এর সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক একটি বার্তাও যুক্ত ছিল।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো হাফটাইম শো ঘোষণার সময় বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল ম্যাচের এই আয়োজন শুধু আনন্দের উপলক্ষ হবে না। এর মাধ্যমে শিক্ষা, ঐক্য ও মানবিকতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সুপার বোলের মডেল অনুসরণ করল বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপের এই আয়োজনের সঙ্গে সুপার বোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। সুপার বোলের হাফটাইম শোতেও অনেক সময় শিল্পীরা সরাসরি পারিশ্রমিক পান না।

সেখানে সাধারণত এনএফএল শোর প্রযোজনা ব্যয় বহন করে। আর শিল্পীরা পান বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রচারণার সুযোগ। বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই ধরনের ধারণা দেখা গেছে।

ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও বিটিএসের মতো শিল্পীদের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে পারফর্ম করা নিজেই ছিল বিশাল বৈশ্বিক প্রচারের সুযোগ। একই সঙ্গে তাঁদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে একটি সামাজিক উদ্যোগের বার্তাও বিশ্বজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ফাইনালের ফুটবল ও বিনোদনের দ্বৈত আলোচনা

২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়। ম্যাচটি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির ও রক্ষণাত্মক ছিল। নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে পারেনি।

এরপর অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয় পায়।

তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি বিরতির অনুষ্ঠানও আলোচনার বড় অংশ হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার এমন বড় আকারের হাফটাইম শো আয়োজন করায় এটি ক্রীড়া ও বিনোদন—দুই ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

কেউ মনে করেন, আধুনিক বিশ্বকাপকে আরও বিনোদননির্ভর করে তুলতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। আবার অনেকে মনে করেন, ফুটবল ম্যাচের নিজস্ব ছন্দ ও ঐতিহ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বিশ্বকাপ হাফটাইম শো নিয়ে আগ্রহ কেন এত বেশি?

বিশ্বকাপ ফাইনাল এমনিতেই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার সঙ্গে যখন ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার ও বিটিএসের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা যুক্ত হন, তখন অনুষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি আলোচনায় আসে।

তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শিল্পীদের পারিশ্রমিক না নেওয়া। তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একই সঙ্গে বিনোদন এবং সামাজিক উদ্যোগের বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক আয়োজনের মূল্যায়ন

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের বিশ্বকাপ হাফটাইম শো ফুটবল বিনোদনের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় তৈরি করেছে। একদিকে ছিল বিশ্বসেরা ফুটবল তারকাদের লড়াই, অন্যদিকে ছিল আন্তর্জাতিক সংগীত ও বিনোদন জগতের বড় তারকাদের উপস্থিতি।

যদিও দীর্ঘ বিরতি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে, তবু এই আয়োজনের সামাজিক উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। শিল্পীরা পারিশ্রমিক না নিয়ে পারফর্ম করেছেন এবং এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ নিয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগকে সামনে আনা হয়েছে।

ফলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের এই হাফটাইম শো শুধু তারকাদের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, পারিশ্রমিক ছাড়াই একটি সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত