ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের চার ম্যাচকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। আফগানিস্তান টেস্টেও জয় ধরে রেখে নতুন খেলোয়াড় দেখবে বাংলাদেশ।
চলতি বছরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সামনে আরও চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই চার ম্যাচকে সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের বক্তব্যেও সেই পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বাশার জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট নিয়েও কোনো ধরনের হালকাভাব দেখাতে চায় না দল। ম্যাচ জয়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মাঠে নামার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) তথ্যেও বাংলাদেশের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচগুলোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে বাংলাদেশের বাকি চার ম্যাচের দুটি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এবং দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে। ফলে সামনে থাকা এই ম্যাচগুলো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করছে বিসিবি।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন।
তার বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, সামনে থাকা ম্যাচগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় দলকে এখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুত রাখা। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ভালো ফলের জন্য দলীয় ভারসাম্য ও প্রস্তুত খেলোয়াড়ের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ICC-এর ৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের দুই টেস্টের সূচিও প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম টেস্ট ২৮ অক্টোবর মিরপুরে এবং দ্বিতীয় টেস্ট ৫ নভেম্বর সিলেটে শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
আফগানিস্তান টেস্টেও জয়ই প্রথম লক্ষ্য
সামনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ নিয়েও পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে দেখার সুযোগ থাকলেও সেটিকে মূলত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ম্যাচ হিসেবে দেখছে না নির্বাচক কমিটি। হাবিবুল বাশারের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাচ জয়ের লক্ষ্যই থাকবে প্রথম অগ্রাধিকার।
বাশার জানিয়েছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে দলের মূল লক্ষ্য থেকে সরে যেতে চায় না বাংলাদেশ। তার মতে, দল বর্তমানে একটি ভালো মোমেন্টামে রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে চায় না।
অর্থাৎ নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি দলের ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়। বরং মূল একাদশের ভারসাম্য বজায় রেখেই সম্ভাবনাময় কয়েকজন ক্রিকেটারকে পর্যবেক্ষণ করার চিন্তা রয়েছে।
তিন-চারজন খেলোয়াড়কে দেখার পরিকল্পনা
প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, আফগানিস্তান টেস্টে তিন-চারজন খেলোয়াড়কে দেখার চেষ্টা করা হবে। তবে তাদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ জেতার বিষয়টিই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
এতে বোঝা যায়, নির্বাচকদের কাছে নতুন ক্রিকেটার যাচাই এবং ফল পাওয়ার লক্ষ্য—দুই বিষয়ই বিবেচনায় রয়েছে। তবে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ম্যাচ জয়কে সামনে রাখা হচ্ছে।
বাশারের ভাষায়, দল তিন-চারজন খেলোয়াড়কে দেখার চেষ্টা করবে, কিন্তু প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে ম্যাচ কীভাবে জেতা যায়, সেটি নিশ্চিত করা।
অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে বেঞ্চের শক্তির বার্তা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন হাবিবুল বাশার। ওই সফরে নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম খেলতে না পারলেও অন্য বোলাররা দায়িত্ব সামলেছেন বলে জানান তিনি।
নাহিদ রানা তখন ভালো করছিলেন, কিন্তু খেলতে পারেননি। একইভাবে শরিফুল ইসলামও মাঠে ছিলেন না। এরপরও বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রধান নির্বাচকের কাছে এটি দলের বেঞ্চ শক্তিশালী হওয়ার একটি ইতিবাচক দিক। অর্থাৎ মূল দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প খেলোয়াড়রা দায়িত্ব নিতে পারছেন—এমন বার্তাই পাওয়া গেছে।
বাশারের মতে, অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করতে পারা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বিষয় এবং এটি দলের শক্তিশালী বেঞ্চের প্রমাণ।
সামনে ধারাবাহিকতার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বর্তমান ছন্দ ধরে রাখা। অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের পারফরম্যান্সের পর সামনে নতুন প্রতিপক্ষ ও ভিন্ন কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজ—দুই ধরনের পরিস্থিতিই দলের সামনে থাকবে। তাই নির্বাচকদের পরিকল্পনায় মূল দলের পাশাপাশি বিকল্প খেলোয়াড়দের প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ICC-এর ১৫ সেপ্টেম্বরের WTC পর্যালোচনায়ও বাংলাদেশের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর ঘরের মাঠের সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাওয়ে সিরিজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
দল নির্বাচন ও ফল—দুই দিকেই নজর
হাবিবুল বাশারের বক্তব্যে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো সামনে থাকা ম্যাচগুলোতে শুধু খেলোয়াড় যাচাই নয়, ফল পাওয়ার দিকেও সমান নজর থাকবে।
একদিকে তিন-চারজন খেলোয়াড়কে দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান টেস্ট থেকে শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ এবং পরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ম্যাচগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চায় বিসিবি।
এ ক্ষেত্রে দলের বেঞ্চ শক্তিশালী থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতিতেও অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করার উদাহরণটি নির্বাচকরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
সামনে চার টেস্টের গুরুত্ব
চলতি বছরে বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাকি চার ম্যাচের মধ্যে দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এবং দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। বিসিবি এই চার ম্যাচকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চাইছে।
তবে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হবে সামনে থাকা ম্যাচগুলো থেকেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সফরে পাওয়া বেঞ্চের শক্তির অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চায় দল।
সব মিলিয়ে নির্বাচক হাবিবুল বাশারের বক্তব্যে ফল, ধারাবাহিকতা এবং খেলোয়াড় যাচাই—এই তিনটি বিষয়ই উঠে এসেছে। তবে অগ্রাধিকারের জায়গায় রয়েছে ম্যাচ জয় এবং সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজগুলোর জন্য দলকে প্রস্তুত রাখা।





