এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (27)
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি
News Photocard (21)
চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
News Photocard (12)
বিদ্যুৎ খাতে লোকসান ছাড়াতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা
News Photocard
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী
News Photocard
নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৮ মাস পর নিঝুম হত্যার রহস্য উন্মোচন–দাবি পুলিশের

১৮ মাস পর নিঝুম হত্যার রহস্য উন্মোচন–দাবি পুলিশের, প্রেমের সম্পর্ক, পাকশী রেলস্টেশন ও অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তের তথ্যসহ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে এসেছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ মাস পর কিশোরী নিঝুম খাতুনের (১৭) হত্যার রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মাশরিকুল রহমান জিম (২৩) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিঝুমের সঙ্গে জিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তাকে বেড়ানোর কথা বলে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, সেখানে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে চড় মারেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে রেললাইনের নিচের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন জিম।

ঘটনাটির তদন্তে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেল যুক্ত হওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় একটি মরদেহের পুরোনো তথ্যের সঙ্গে নিখোঁজ নিঝুমের তথ্যের যোগসূত্র পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিঝুম হত্যার রহস্য উন্মোচনে পুলিশের তদন্ত

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন নিঝুম খাতুন। নিখোঁজের প্রায় এক মাস পর, একই বছরের ৮ এপ্রিল তার মা তাসলিমা খাতুন মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

দীর্ঘ সময় ধরে মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় পরে তাসলিমা খাতুন অপহরণ মামলা করেন। এরপর নিখোঁজের কারণ ও অবস্থান শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেল।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ ও অপরাধ শনাক্তকরণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তদন্তের একপর্যায়ে মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মাশরিকুল রহমান জিমকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিম নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান। ফলে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই এখন পর্যন্ত ঘটনাটির বিবরণ সামনে এসেছে।

নিঝুমকে যেভাবে পাকশী এলাকায় নেওয়ার দাবি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিঝুমের সঙ্গে জিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বেড়ানোর কথা বলে তিনি নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যান।

পুলিশের দাবি, পাকশী এলাকায় যাওয়ার পর দুজনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম নিঝুমকে চড় মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জিম জানিয়েছেন।

এরপর নিঝুমকে রেললাইনের নিচে থাকা একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে জিম স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে তিনি চলে যান।

এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে তদন্তকারী দল জিমকে সঙ্গে নিয়ে পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত ঘটনাস্থল শনাক্ত করে।

২০২৫ সালের মার্চেই উদ্ধার হয়েছিল অজ্ঞাত মরদেহ

তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাকশী রেলস্টেশন এলাকার ওই স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল।

সে সময় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পরও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি পাবনার আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় দাফন করা হয়েছিল।

এই তথ্যই পরবর্তী সময়ে নিঝুমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুরোনো মরদেহের ছবি থেকেই পরিচয় শনাক্ত

নিঝুম হত্যার রহস্য উন্মোচনের তদন্তে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটে সংরক্ষিত পুরোনো তথ্য ও ছবি ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশ জানায়।

তদন্তকারী দল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের আর্কাইভে সংরক্ষিত ওই মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে মাশরিকুল রহমান জিম মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অর্থাৎ, নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানে চলা তদন্তের সঙ্গে প্রায় একই সময়ের একটি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্যের যোগসূত্র তৈরি হয়। পুলিশি তদন্তে জিমের দেওয়া তথ্য এবং সংরক্ষিত ছবির মাধ্যমে সেই যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই পর্যায়ে নিঝুমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ একই ঘটনার অংশ কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান জানিয়েছেন, মাশরিকুল রহমান জিম আদালতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া বক্তব্যের পর তদন্তকারী দল জিমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল শনাক্ত করে এবং পুরোনো মরদেহের ছবি সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়।

তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি পুলিশের বক্তব্যের অংশ হিসেবে এসেছে। একই সঙ্গে ওসি জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও কী তথ্য বা প্রমাণ সামনে আসে, সেটিই মামলার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

১৮ মাস পর নিখোঁজের ঘটনার সূত্র

২০২৫ সালের ১৩ মার্চ নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা ৮ এপ্রিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় তিনি অপহরণ মামলা করেন। দীর্ঘ সময় পর তদন্তে মাশরিকুল রহমান জিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাকশী এলাকার একটি পুরোনো মরদেহের তথ্য সামনে আসে।

এখানে তদন্তের সময়রেখাটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে নিঝুমের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও অপহরণ মামলা, এরপর জেলা পুলিশের সাইবার ইনভেস্টিগেশন সেলের তদন্ত এবং শেষ পর্যায়ে জিমকে জিজ্ঞাসাবাদ—এই ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত, যাচাই এবং অপরাধ শনাক্তকরণ তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।

তদন্ত এখনো চলমান

নিঝুম হত্যার রহস্য নিয়ে পুলিশের দাবি অনুযায়ী তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এলেও মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। মাশরিকুল রহমান জিমের দেওয়া বক্তব্য, ঘটনাস্থল শনাক্তকরণ এবং সিআইডির আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করা মরদেহের ছবির ভিত্তিতে পরিচয় শনাক্ত—এসব তথ্য তদন্তের বর্তমান পর্যায়ের অংশ।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ ঈশ্বরদী থেকে যে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেটিকেই পোশাক দেখে নিঝুমের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেছেন জিম। তবে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমানও জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। ফলে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি ও আদালতসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত