রাবিতে ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের তিন দফা দাবি, মামলা, গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিলসহ দ্রুত ব্যবস্থা চেয়েছেন তারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
সাংবাদিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সোমবারের মধ্যে মামলা করা হবে—এমন আশ্বাস পাওয়ার পর রাতের মতো কর্মসূচি থেকে ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা, প্রশাসন, নোটিশ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
হামলার পর যে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পর সাংবাদিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো মূলত হামলার আইনি ব্যবস্থা, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
১. মামলা ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
সাংবাদিকদের প্রথম দাবির মধ্যে রয়েছে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা। একই সঙ্গে সোমবার বেলা ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকেরা মনে করছেন, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণেই মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
২. ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিলের দাবি
দ্বিতীয় দাবিতে অভিযুক্তদের শিক্ষাগত অবস্থার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেসব অভিযুক্ত এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।
অন্যদিকে, যেসব অভিযুক্তের পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিলের দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এমন অভিযুক্ত কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হন, তাহলে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে।
এই দাবির মাধ্যমে সাংবাদিকেরা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুধু আইনি নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পর্যায়েও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
৩. প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবি
তৃতীয় দাবির অংশ হিসেবে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকেরা চেয়েছেন, এসব বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত রাতের মধ্যেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হোক। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কী ঘটেছিল জিয়াউর রহমান হলের সামনে
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন দাবি জানান। তাদের দাবির মধ্যে মামলা, গ্রেপ্তার এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো ছিল।
হামলার ঘটনার পরই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে রাতে জরুরি সভায় বসে তারা নিজেদের দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
যেসব সাংবাদিক আহত হয়েছেন
হামলার ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের পরিচয় প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঘটনাটির পরিধি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
তবে অভিযোগ ওঠার বিষয়টি এবং প্রশাসনের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ—দুই বিষয়কে আলাদাভাবে দেখা জরুরি। প্রতিবেদনে হামলার ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার কথা বলা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার আশ্বাস দিয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটিই এখন ঘটনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে রয়েছে।
প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি থেকে ফিরে সাংবাদিকেরা
হামলার ঘটনার পর সাংবাদিকেরা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবারের মধ্যে হামলার ঘটনায় মামলা করা হবে। এই আশ্বাস পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা রাতের মতো তাদের কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
অর্থাৎ, তাৎক্ষণিকভাবে সাংবাদিকদের কর্মসূচি স্থগিত হলেও তাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন এখনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিয়ে পরবর্তী নজর
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে দ্রুত মামলা ও গ্রেপ্তার, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিল এবং অশিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয় রয়েছে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘটনাটির সময়রেখা
- ৪ অক্টোবর, রাত সাড়ে ৮টা: জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
- ৪ অক্টোবর রাত: সাংবাদিকেরা জরুরি সভায় বসে তিন দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
- দাবির মধ্যে: মামলা, গ্রেপ্তার, ছাত্রত্ব ও সনদ বাতিল এবং অশিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয় উঠে আসে।
- প্রশাসনের আশ্বাস: সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
- এরপর: প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর সাংবাদিকেরা রাতের মতো কর্মসূচি থেকে ফিরে যান।
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের দাবিগুলোতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের পরবর্তী আইনি নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবারের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই আশ্বাসের পর সাংবাদিকেরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি থেকে সরে এলেও তিন দফা দাবির বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।





