এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (5)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (33)
ভয় ধরিয়েছে বিশ্বব্যাংক সতর্ক থাকার পক্ষে সবাই
News Photocard (28)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত
News Photocard (1)
দাম কমার পর নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (11)
কমল সোনার দাম, ভরি কত?

বিদেশে ভ্রমণকারীদের কাছে ডলার বিক্রির সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

ডলার বিক্রির সীমা বাড়িয়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিদেশগামী ভ্রমণকারীরা এখন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার থেকে বেশি নগদ ডলার নিতে পারবেন।

বিদেশ ভ্রমণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো একজন বিদেশগামী ভ্রমণকারীকে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নগদ বিক্রি করতে পারবে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একজন বিদেশগামী নাগরিক একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা ১ হাজার ডলার বাড়িয়ে ৩ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের সময় নগদ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে—এমন বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হলো।

ডলার বিক্রির সীমা কেন বাড়ানো হলো

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার মূল বিষয় হলো বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আগে একজন বিদেশগামী নাগরিক মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার এনডোর্স বা নোট ও মুদ্রা আকারে সংগ্রহ করতে পারতেন।

এখন সেই ডলার বিক্রির সীমা ৩ হাজার মার্কিন ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় একজন ভ্রমণকারী একবারে আরও ১ হাজার মার্কিন ডলার বেশি নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি বিদেশগামী যাত্রীদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে যেসব ভ্রমণকারী তাদের প্রযোজ্য ভ্রমণ কোটার মধ্যে নগদ মুদ্রা নিতে চান, তাদের জন্য নতুন সীমাটি গুরুত্বপূর্ণ।

আগের সীমা ছিল ২ হাজার ডলার

নতুন নির্দেশনার আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার থেকে বিদেশগামী একজন নাগরিক একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার নিতে পারতেন। বৃহস্পতিবারের সার্কুলারের মাধ্যমে সেই সীমা ৩ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

পরিবর্তনটি হিসাব করলে দেখা যায়, একবারে নগদ ডলার সংগ্রহের অনুমোদিত পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ আগের ২ হাজার ডলারের সঙ্গে আরও ১ হাজার ডলার যুক্ত হয়েছে।

তবে এই পরিবর্তনকে একজন ব্যক্তির মোট বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়ার সীমা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিষয়টি কী

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একজন গ্রাহকের প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ তার ভ্রমণ কোটার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার নোট ও মুদ্রা আকারে বিক্রি করা যাবে।

অর্থাৎ, নতুন ডলার বিক্রির সীমা ৩ হাজার মার্কিন ডলার হলেও একজন ভ্রমণকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩ হাজার ডলার পাওয়ার অধিকারী—এমনটি বলা হয়নি। তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এখানে এককালীন নগদ বিক্রির সীমা এবং ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিষয়টি আলাদা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা মূলত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির সর্বোচ্চ সীমা পরিবর্তন করেছে।

বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য কী পরিবর্তন হলো

নতুন নিয়মের ফলে বিদেশ ভ্রমণের আগে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীরা আগের তুলনায় বেশি নমনীয়তা পাবেন।

আগে যেখানে একবারে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়ার সুযোগ ছিল, এখন সেখানে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে যেসব বিদেশগামী নাগরিকের ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটায় পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তারা নতুন সীমার আওতায় বেশি নগদ ডলার সংগ্রহ করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের আরেকটি দিক হলো নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জার ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, নতুন ব্যবস্থায় বিদেশগামী নাগরিকদের মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে আরও বেশি সুবিধা ও নমনীয়তা তৈরি হবে।

একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার

নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো একবারে নগদ ডলার বিক্রির সীমা। লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো এখন একজন বিদেশগামী ভ্রমণকারীকে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নগদ বিক্রি করতে পারবে।

এর আগে এই সীমা ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। ফলে একবারে অনুমোদিত নগদ ডলারের পরিমাণ ১ হাজার মার্কিন ডলার বেড়েছে।

তবে ভ্রমণকারীর প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশের বিষয়টি বহাল থাকছে। তাই নতুন সীমা মানেই সবার জন্য একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে কী বলা হয়েছে

৮ অক্টোবর জারি করা সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ বিদেশগামী নাগরিকদের জন্য মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন বিদেশগামী ভ্রমণকারীকে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত নগদ বিক্রি করা যাবে। এর আগে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই সঙ্গে জানিয়েছে, একজন গ্রাহকের প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ তার ভ্রমণ কোটার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে অন্যান্য অবাধে বিনিময়যোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার নোট ও মুদ্রা আকারে বিক্রি করা যেতে পারে।

এতে বোঝা যায়, নতুন ব্যবস্থায় নগদ ডলার সংগ্রহের এককালীন সীমা বাড়লেও ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার কাঠামোকে বিবেচনায় রেখেই বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করা হবে।

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নতুন নির্দেশনার গুরুত্ব

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কারণে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে নগদ ডলার সংগ্রহের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভ্রমণকারীদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য বিদেশগামী নাগরিকদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে আরও সুবিধা ও নমনীয়তা তৈরি করা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম ও নির্দেশনা নিয়মিতভাবে সংশোধন ও হালনাগাদ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত নির্দেশনাতেও বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে।

ভ্রমণকারীদের জন্য মূল বিষয়গুলো

নতুন নির্দেশনার পর বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে নগদ ডলার কেনার সর্বোচ্চ সীমা এখন ৩ হাজার মার্কিন ডলার।

দ্বিতীয়ত, এর আগে এই সীমা ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ একবারে নগদ ডলার সংগ্রহের অনুমোদিত সীমা ১ হাজার ডলার বেড়েছে।

তৃতীয়ত, একজন গ্রাহকের প্রযোজ্য বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ বিবেচনা করা হবে।

চতুর্থত, সংশ্লিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন সীমা থাকলেও বাস্তবে কত বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যাবে, তা ব্যক্তির প্রযোজ্য ভ্রমণ কোটা ও মুদ্রার প্রাপ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সবশেষে, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন ব্যবস্থায় বিদেশগামী নাগরিকদের মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে আরও সুবিধা ও নমনীয়তা তৈরি হবে।

সামগ্রিকভাবে কী দাঁড়াল

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তে বিদেশগামী ভ্রমণকারীদের জন্য মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে একবারে নগদ ডলার সংগ্রহের সীমা ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় একবারে আরও ১ হাজার ডলার বেশি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হলো।

তবে এই সুবিধা ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অবশিষ্ট অংশ ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নতুন ডলার বিক্রির সীমা বাড়লেও প্রত্যেক ভ্রমণকারী সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নির্দেশনায় দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের নগদ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে আরও সুবিধা ও নমনীয়তা তৈরি করা। ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে নগদ ডলার সংগ্রহের নিয়মে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত