এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (17)
বিদেশে ভ্রমণকারীদের কাছে ডলার বিক্রির সীমা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক
News Photocard (5)
দেশের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
News Photocard (28)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত
News Photocard (1)
দাম কমার পর নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (11)
কমল সোনার দাম, ভরি কত?

ভয় ধরিয়েছে বিশ্বব্যাংক সতর্ক থাকার পক্ষে সবাই

ভয় ধরিয়েছে বিশ্বব্যাংক সতর্ক থাকার পক্ষে সবাই, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি, ব্যাংকিং, রাজস্ব ও কর্মসংস্থানের সংকট তুলে ধরেছে। এখন প্রয়োজন সতর্ক ও কার্যকর সংস্কার।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং, রাজস্ব ও জ্বালানি—বিভিন্ন খাতে চাপের মধ্যে রয়েছে। সদ্য প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি ও সরকারি বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি সংকুচিত হয়েছে এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা দ্রুত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর নীতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থনীতির প্রধান সূচকে চাপ

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি কমার অন্যতম বড় কারণ বিনিয়োগের সংকোচন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির বাস্তবায়নও রেকর্ড নিচু পর্যায়ে নেমেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা তাদের সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদন করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমিয়েছে, কেউ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে, আবার কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।

বিনিয়োগে স্থবিরতা, আস্থার সংকট

ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগের পরিবেশ। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মনে করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্রের সঙ্গে বড় ধরনের দ্বিমতের জায়গা নেই।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনের তথ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

ফজলুল হকের মতে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। নতুন গ্যাসক্ষেত্রগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতি ও কৌশলের সংস্কারও দরকার। যেসব খাতে গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম, সেসব খাতে বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদও পরিস্থিতিকে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সরকার এলে আস্থা ফিরবে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, বেসরকারি খাত চাঙ্গা হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও এখনো তার কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন দেখা যায়নি।

তিনি প্রশাসনিক সংস্কার, সরকারি সেবার মান বাড়ানো এবং ব্যবসার খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতি-ঘুষ বাড়লে বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে শিল্প খাতের দুর্বল অবস্থার কথাও উঠে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ। তবে ওই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। করোনা মহামারির পর কোনো প্রান্তিকে শিল্প খাতে এটিই প্রথম সংকোচন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাসের সরবরাহ সংকট। মোট চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে। কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্র এবং মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর বেশি নির্ভরতার কারণে কোনো একটি স্থাপনায় সমস্যা দেখা দিলে সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ব্যবসায়ী মহলের মতে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া শিল্পে উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন। ফলে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে জ্বালানি অবকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের চাপ

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরেই মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। গত আগস্টে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির একাধিক দফা মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপকে উঁচুতে ধরে রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

এর প্রভাব পড়েছে দারিদ্র্যেও। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে।

ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আয়, ক্রয়ক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানের বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ব্যাংক খাতের দুর্বলতা বড় ঝুঁকি

অর্থনীতির আরেকটি বড় উদ্বেগের জায়গা ব্যাংক খাত। বিশ্বব্যাংক বলছে, ব্যাংক খাতের ভঙ্গুরতা কাটেনি এবং ঝুঁকি এখনো অটুট রয়েছে। সংস্থাটি ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২০ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক মূলধনও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। অথচ ন্যূনতম নিয়ন্ত্রক হার ১০ শতাংশ থাকার কথা।

এদিকে ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ প্রবৃদ্ধি জুনে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।

এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, ব্যাংকিং ব্যবস্থার অর্থের প্রবাহে সরকারি খাতের উপস্থিতি বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল রয়েছে। এর প্রভাব বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর পড়ছে।

রাজস্ব আয় কম, বাড়ছে বাজেটের চাপ

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতাকেও অর্থনীতির বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আদায় ছিল জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন।

রাজস্ব আয় কম থাকায় বাজেট ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠেছে। এর ফলে সরকারের উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার সক্ষমতাও চাপে পড়েছে।

অর্থনীতির গতি কমে গেলে ব্যবসা ও কর্মসংস্থান কমে, আর ব্যবসা ও আয় কমলে সরকারের রাজস্ব আদায়েও চাপ পড়ে। ফলে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও রাজস্ব—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিদেশি বিনিয়োগেও দুর্বলতা

উচ্চ সুদের হার ও জ্বালানি সংকটের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সংকুচিত হয়েছে। একই সময়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই ১৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ।

আমেরিকান চেম্বার অ্যামচেমের সাবেক সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বিনিয়োগের পরিবেশকে অনুকূল নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো প্রয়োজন।

তিনি অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং বন্দর কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিদেশি বিনিয়োগ শুধু অর্থ নিয়ে আসে না; এর সঙ্গে প্রযুক্তি, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়।

অর্থনীতিবিদদের প্রস্তাব: সংস্কার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুনঃসম্পৃক্ততা

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেস ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অধ্যাপক ড. বিরূপাক্ষ পাল বিশ্বব্যাংকের প্রবৃদ্ধির তথ্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

তিনি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন—কী পরিবর্তন করা প্রয়োজন তার পরিকল্পনা বা হোমওয়ার্ক, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুনঃসম্পৃক্ততা।

এদিকে ফজলুল হক বিনিয়োগ বাড়াতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংক শিল্প-কারখানা চালু করতে প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা না থাকায় এই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাংকগুলোর রক্ষণশীল মনোভাব পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রেমিট্যান্স এখনো অর্থনীতির বড় ভরসা

অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে দুর্বলতার মধ্যেও একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে রেমিট্যান্সের কথা বলেছে বিশ্বব্যাংক। গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

তবে রেমিট্যান্সের অর্থ কতটা বিনিয়োগে যাচ্ছে, সেই বিষয়েও নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ। তিনি রেমিট্যান্স প্রবাহের পেছনে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি নিয়েও সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, অর্থ বিনিয়োগে ব্যবহার না হলে রেমিট্যান্সের অর্থনৈতিক সুফল সীমিত থাকতে পারে।

সামনে করণীয় কী

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে আসা চিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যাগুলো একক কোনো খাতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, বিনিয়োগ সংকোচন, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আয়, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য এবং বিদেশি বিনিয়োগের পতন—সবগুলো বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এ কারণে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় একটি বিষয় বারবার উঠে এসেছে—অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ব্যবসাবান্ধব নীতি, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, ব্যাংক খাতের সংস্কার, সরকারি সেবার ব্যয় ও জটিলতা কমানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং কার্যকর প্রশাসনিক সংস্কার অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গেলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে যে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়—সেটিই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন।

সর্বাধিক পঠিত