এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (20)
দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন হচ্ছে কাল
News Photocard (30)
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
News Photocard (21)
ভুয়া স্পন্সরে ইতালিতে ‘শ্রমদাস’ বানানোর ফাঁদ
News Photocard (12)
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (9)
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণঃ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সমন্বয় হলে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব

পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন : যুক্ত হচ্ছে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়া, ৭ নভেম্বর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান

পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন করছে সরকার। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযুদ্ধ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, ৭ নভেম্বর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নতুন পাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হবে।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উদ্যোগে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এনসিটিবির একটি নথি অনুযায়ী, বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে মোট ১৪টি সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত পাঠ রয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের পরিবর্তনগুলো মূলত বিদ্যমান বইয়ের সংযোজন ও পরিমার্জন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতে খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে না। বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমকে সামনে রাখা হচ্ছে।

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে কী কী পরিবর্তন

পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজনের অন্যতম দিক হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয় নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। শ্রেণিভেদে একই বিষয় সংক্ষেপে অথবা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী

এনসিটিবির নথিতে জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ বা ‘আমরা বিদ্রোহ করলাম’ এবং স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত বিষয় যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি সংক্ষেপে এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।

পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী যুক্ত হবে। একই সঙ্গে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ রচনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এ ধরনের পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নতুন পাঠের সুযোগ তৈরি করবে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন পাঠ

মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও বেশ কিছু নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ রাখা হবে। অষ্টম শ্রেণির বইয়ে থাকবে ‘মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্স’ বিষয়ক অনুচ্ছেদ।

নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিলের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া বৈঠকের বিষয়ও রাখা হচ্ছে।

এর ফলে পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকেও নতুন পাঠের আওতায় আনা হচ্ছে।

৭ নভেম্বর ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওপরের শ্রেণির বইগুলোতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতা বিপ্লব’-এর ইতিহাস পর্যায়ক্রমে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে ‘১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান’ শিরোনামে একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অর্থাৎ, ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজনে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও স্থান পাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানও থাকছে নতুন পাঠে

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী করে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের কথাও আগে জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি, আন্দোলন চলাকালে হত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হবে।

এনসিটিবির নথিতে চতুর্থ শ্রেণির বইয়ে ‘শহীদ আনাসের গল্প’ এবং নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, নবম-দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের গুম, হত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনী ব্যবস্থা, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের বিষয়ও তুলে ধরা হবে।

পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজনের পাশাপাশি গুরুত্ব পাবে প্রযুক্তি

২০২৭ সালের পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বাড়তি গুরুত্ব। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য চারটি নতুন বই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা এবং ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বিষয়ক বই আসবে। ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য থাকবে ‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘আনন্দের সাথে শেখা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে দুটি বই।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘তৃতীয় ভাষা’ নামে নতুন একটি পাঠ যুক্ত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং উদীয়মান প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যও যুক্ত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে এআই, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং ও সাইবার সিকিউরিটির মতো আধুনিক বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম নিয়ে কাজ শুরু করবে এনসিটিবির ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিশন কোর কমিটি’। চলতি মাস থেকেই এ কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম একদিনে পরিবর্তন করা যায় না; এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ফলে ২০২৭ সালের পরিবর্তনগুলো মূলত বিদ্যমান বইয়ের সংযোজন ও পরিমার্জনের মধ্যে থাকলেও ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

এখানেই ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন এবং ২০২৮ সালের সম্ভাব্য শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের মধ্যে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়। প্রথম ধাপে বিদ্যমান বইয়ে নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, আর পরবর্তী ধাপে শিক্ষাক্রমের কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবর্তনের পরিধি

২০২৭ সালের বইয়ে ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বইয়ের পরিবর্তনের পরিধি একই সঙ্গে ইতিহাস ও আধুনিক দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।

একদিকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, ৭ নভেম্বর, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এআই, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি ও কারিগরি শিক্ষার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বইয়ের পরিবর্তনকে ঘিরে সরকারের উদ্যোগে ইতিহাস ও সমকালীন ঘটনাবলির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। এনসিটিবির নথিতে মোট ১৪টি সংযোজন ও পরিমার্জনের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রম নিয়ে আরও বিস্তৃত কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

সর্বাধিক পঠিত