এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (20)
দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন হচ্ছে কাল
News Photocard (8)
পাঠ্যবইয়ে বড় সংযোজন : যুক্ত হচ্ছে শহীদ জিয়া-খালেদা জিয়া, ৭ নভেম্বর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান
News Photocard (30)
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : এমপি গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
News Photocard (21)
ভুয়া স্পন্সরে ইতালিতে ‘শ্রমদাস’ বানানোর ফাঁদ
News Photocard (12)
ভারতীয় ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

রাঙামাটির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে আটকা সহস্রাধিক পর্যটক। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর, রোববার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হুমকি ও ভয়ভীতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

অবরোধের ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আগে থেকে সাজেকে অবস্থান করা পর্যটকদের ফিরে যাওয়ার পথে সমস্যা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন পর্যটকদের সাজেকে প্রবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকার দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অন্যদিকে, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকালের নির্ধারিত নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে পারেননি। পরিস্থিতি বিবেচনায় দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাঁদের বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কেন শুরু হলো

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে ১০ অক্টোবর, শনিবার, অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির কারণ ব্যাখ্যা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট কমিটির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিজয় কান্তি চাকমার বক্তব্য

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেছেন, জেএসএসের নাম ব্যবহারকারী ব্যক্তিদের অত্যাচার ও কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে তাঁদের দাবি। এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

কমিটির এই অবস্থান থেকে বোঝা যায়, অবরোধের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ। তবে কর্মসূচি কত দিন চলবে, তা সরকারের পদক্ষেপ ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করতে পারে।

সড়কে যান চলাচল বন্ধ, বিভিন্ন স্থানে অবরোধ

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালানো এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হয়।

এর ফলে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালার দিকে যাওয়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথে চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

সাজেক দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেই সড়কপথে যাতায়াতের ওপর নির্ভর করেন। তাই সড়কে অবরোধ সৃষ্টি হলে শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল নয়, পর্যটকদের আগমন ও ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থাও সরাসরি প্রভাবিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সাজেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধে আটকা সহস্রাধিক পর্যটক

সাজেকে বর্তমানে সহস্রাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয়। তাঁদের মধ্যে অবরোধ শুরুর আগেই যাঁরা পর্যটনকেন্দ্রটিতে পৌঁছেছিলেন, তাঁরাও চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন।

সাজেক পর্যটনকেন্দ্রের লাইনম্যান মো. ইয়াছিন আরাফাত জানান, শনিবার সরকারি নিরাপত্তা বহর বা স্কর্টের সঙ্গে ছোট-বড় গাড়ি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। এসব যানবাহনে সহস্রাধিকেরও বেশি পর্যটক সেখানে পৌঁছান।

পরদিন সকালে অবরোধ শুরু হওয়ায় পর্যটকদের স্বাভাবিকভাবে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নির্ধারিত নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে সড়কপথে বের হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়া এখন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন পর্যটকদের যাত্রা নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের ফেরানোর পরিকল্পনা

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয় জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে সকালে নির্ধারিত স্কর্টের সঙ্গে পর্যটকেরা সাজেক ত্যাগ করতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পর্যটকদের সাজেক থেকে বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন পর্যটকদের প্রবেশের বিষয়ে বাঘাইহাট সেনাজোন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবে।

এ বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দুপুরে পর্যটকদের বের করে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও সবাই নিরাপদে বের হতে পেরেছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

চাই থোয়াই চৌধুরী জয় আরও বলেছেন, বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের কোনো শঙ্কা নেই। এটি কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতির বক্তব্য। পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমের চূড়ান্ত অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।

পর্যটন ও স্থানীয় যোগাযোগে কী প্রভাব পড়তে পারে

সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকদের যাতায়াত সরাসরি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে নতুন পর্যটকদের আগমন, আগে থেকে বুকিং করা ভ্রমণ এবং পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

তবে অবরোধের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ, বাতিল হওয়া বুকিংয়ের সংখ্যা কিংবা স্থানীয় ব্যবসায় কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এ মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিমাণ উল্লেখ করা সমীচীন নয়।

পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ। গণ অধিকার রক্ষা কমিটি এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ দাবি করেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে কী জানা গেছে

১১ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, নতুন পর্যটকদের প্রবেশের বিষয়ে বাঘাইহাট সেনাজোন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানিয়েছেন সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি চাই থোয়াই চৌধুরী জয়। ফলে সড়ক কখন পুরোপুরি চালু হবে এবং অবরোধ কবে প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ, সড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং আটকে পড়া পর্যটকদের প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন করা।

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার সমাধান নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

সর্বাধিক পঠিত