কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন এর ঘটনায় উখিয়ার ইনানীতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারজনের মরদেহ। আগুনের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে রিসোর্টের টয়লেট থেকে। আগুন থেকে বাঁচতে তাঁরা সেখানে আশ্রয় নিয়ে পানি ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।
কক্সবাজার রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ানোয় উদ্ধারকাজ, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
কক্সবাজার রিসোর্টে আগুন: টয়লেট থেকে উদ্ধার চারজনের মরদেহ

ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রিসোর্টের টয়লেটের ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ওই চারজন প্রাণ বাঁচাতে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে পানি ব্যবহার করে আগুনের তাপ বা ধোঁয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন তাঁরা। তবে তাঁদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির এই দিকটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে থাকা মানুষের নিরাপদে বের হওয়ার সুযোগ কতটা ছিল, তা তদন্তে বিবেচনায় আসতে পারে। তবে টয়লেটে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন তাঁদের জীবন রক্ষা করতে পারেনি, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরও নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কখন ও কোথায় আগুন লাগে
শনিবার সকাল ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। রিসোর্টটি কাঠের তৈরি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। তবে আগুন দ্রুত ছড়ানোর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিস বা পুলিশের কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।
অর্থাৎ, সকাল ৮টার দিকে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যে রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে একে একে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য সামনে আসে।
প্রথম দিকে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।
ছয় কক্ষে ছিলেন ১৬ পর্যটক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে রিসোর্ট ছেড়ে চলে যান। এরপর বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন।
তবে তাঁদের সবাই অগ্নিকাণ্ডের সময় কক্ষের ভেতরে ছিলেন না। পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কয়েকজন পর্যটক শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
আগুন লাগার পরপরই রিসোর্টের ভেতরে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে অবস্থানরত সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে মরদেহ উদ্ধারের তথ্য প্রকাশিত হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।
রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকদের সংখ্যা, কক্ষের বিন্যাস এবং আগুন লাগার সময় কে কোথায় ছিলেন—এসব তথ্য অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রত্যেক পর্যটকের অবস্থান এবং উদ্ধার কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে নারী ও পাঁচ বছর বয়সী শিশু
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালের স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নারী এবং একটি পাঁচ বছর বয়সী শিশু রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁদের মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে নিহত ১০ জনের মধ্যে বাকি তিনজনের পরিচয় তখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে চেষ্টা চলছে।
পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি প্রত্যেকের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিসোর্টের টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া চারজনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁরা কী পরিস্থিতিতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।
আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন কীভাবে লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে আগুনের সূত্রপাত কোথায়, কীভাবে তা ছড়িয়ে পড়েছে এবং রিসোর্টের ভেতরের পরিস্থিতি কেমন ছিল—এসব বিষয়ে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়িয়ে পড়লে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঠিক বিবরণ বোঝা কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই তদন্তের ফল প্রকাশের আগে অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
রিসোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে যেসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ
এই অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের বের হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিনিরাপত্তার কী ব্যবস্থা ছিল, জরুরি বহির্গমনপথের অবস্থা কেমন ছিল কিংবা আগুন শনাক্ত করার কোনো ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত নেই।
তাই রিসোর্টটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে আগুন লাগার পর পর্যটকদের উদ্ধার কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা কোন পথে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং টয়লেটে আশ্রয় নেওয়া চারজনের ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বুঝতে সহায়তা করতে পারে।
একই সঙ্গে কাঠের তৈরি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সময় এবং উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় আগুনের বিস্তার বা প্রাণহানির কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য তদন্তের ফল প্রয়োজন।
উদ্ধারকাজ ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং সকাল ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম আগুন নেভানোর সময় সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।
এদিকে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
নিহতদের মধ্যে বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টাও চলছে। ফলে পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
কক্সবাজার রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো, ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে চারজনের মরদেহ টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করেছে। অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত, উদ্ধার পরিস্থিতি এবং তদন্তের ফলের দিকে নজর রাখতে হবে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রকাশ করাই এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।





