এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (4)
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি
News Photocard (2)
দাম আরো কমে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
News Photocard (27)
৫ প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন
News Photocard (13)
আমদানি বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আরো সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ
News Photocard (3)
নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি যত

দুর্গাপূজার ছুটিতেও সীমিত পরিসরে চলবে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজার ছুটিতেও সীমিত পরিসরে চলবে আমদানি-রপ্তানি, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সীমিত কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। কাস্টমস হাউস, ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠনকে জানানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা।

শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিতে দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের কাস্টমস নীতি বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিঘ্ন কমানো এবং ছুটির মধ্যেও পণ্য চলাচল অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখার এই সিদ্ধান্ত দেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন সেবা কতক্ষণ চালু থাকবে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।

দুর্গাপূজার ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি চালুর নির্দেশ এনবিআরের

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস নীতি বিভাগ ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) রেজাউল করিম।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর। এর ফলে ছুটির সময় পুরোপুরি কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরিবর্তে নির্ধারিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নির্দেশনায় সীমিত কার্যক্রম বলতে ঠিক কোন কোন সেবা বোঝানো হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। একইভাবে সেবার সময়সূচি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব বণ্টন সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

কোন কোন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনে কার্যক্রম চালু থাকবে?

এনবিআরের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমস হাউস ও স্টেশনের কমিশনারদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, মোংলা ও ভোমরা।

এসব কাস্টমস হাউস ও স্টেশন দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তাই সরকারি ছুটির মধ্যেও সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটকে বিষয়টি জানিয়েছে।

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ছুটির সময় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগাম অবহিত করা হয়েছে। তবে কোন স্টেশনে কী ধরনের সেবা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় উল্লেখ নেই।

বেনাপোল, মোংলা ও ভোমরায় কার্যক্রমের গুরুত্ব

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি বেনাপোল, মোংলা এবং ভোমরার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এসব স্থানে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় সরকারি ছুটির সময় সেবা সচল রাখার বিষয়টি বাণিজ্যসংশ্লিষ্টদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে এই তিন দিনে কতটি চালান প্রক্রিয়াকরণ করা হবে, কী পরিমাণ পণ্য আমদানি বা রপ্তানি হবে কিংবা কতজন ব্যবসায়ী সরাসরি সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এনবিআরের নির্দেশনায় কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনকেও জানানো হয়েছে

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।

নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংক কী ধরনের সেবা চালু রাখবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে—

  • ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)

  • ফরেন চেম্বার অব কমার্স

  • ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার

  • চট্টগ্রাম চেম্বার

  • বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)

এসব সংগঠনকে অবহিত করার মাধ্যমে ছুটির সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলকে আগাম তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাস্টমস সেবা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছুটির তিন দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এনবিআরের নির্দেশনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিও বিবেচনায় নিতে হবে।

দুর্গাপূজার ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি: সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য কী?

এনবিআরের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সরকারি ছুটির কারণে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিঘ্ন কমানো এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখা।

সাধারণত সরকারি ছুটির সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। এমন সময়ে আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখার ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বজায় থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট উদ্যোগের ফলে কতটা সময় সাশ্রয় হবে বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে কোনো পরিমাপযোগ্য তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্গাপূজার ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি চালু রাখার নির্দেশকে তাই ছুটির সময় বাণিজ্যিক সেবা অব্যাহত রাখার একটি প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা যায়। এর বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস, স্টেশন এবং ব্যাংকগুলোর গৃহীত ব্যবস্থার ওপর।

ব্যবসায়ীদের জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?

এনবিআরের নির্দেশনায় কার্যক্রম চালু রাখার কথা বলা হলেও কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো উল্লেখ করা হয়নি। যেমন, নির্দিষ্ট সেবার সময়সূচি, কোন ধরনের চালান বা পণ্য প্রক্রিয়াকরণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো কীভাবে সেবা পরিচালনা করবে।

এ কারণে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমস হাউস, স্টেশন এবং ব্যাংকের কাছ থেকে কার্যক্রমের সময়সূচি জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে নির্দেশনায় উল্লেখ না থাকা কোনো সেবা বন্ধ থাকবে বা চালু থাকবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া গেলে কার্যক্রমের পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।

২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত কী জানা গেল?

এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সীমিত পরিসরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৫ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ছুটির মধ্যেও দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। তবে কোন কোন সেবা কী সময়সূচিতে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় বিস্তারিত তথ্য নেই।

সর্বাধিক পঠিত