ডাকভোট ইস্যুতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের হুমকি ট্রাম্পের, ২০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিকের ডাকভোট গণনা নিয়ে বিচার বিভাগের সতর্কতা, মামলা ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে। প্রশাসনের দাবি, ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তি ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। এসব ভোট গণনা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘনে সহায়তার অভিযোগে আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আইন, ভোটার যাচাই এবং কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সহকারী আইন উপদেষ্টা পিটার বলিঞ্জারকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়াকে কথিত অ-মার্কিন নাগরিক ভোটারদের তালিকা যাচাই করতে বলেছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্পের কারাদণ্ডের হুমকি: ২০ হাজারের বেশি ডাকভোট নিয়ে বিরোধ

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এসব ভোট গণনা করা হলে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবাই যে সত্যিই অ-মার্কিন নাগরিক এবং তাঁরা সবাই ভোট দিয়েছেন—এমন কোনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটার শুক্রবার প্রকাশিত চিঠিতে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া অপরাধ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ জেনেশুনে এ ধরনের কাজে সহায়তা করলেও তা বেআইনি।
এই অবস্থান থেকে বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভোটগুলো গণনা বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকা এবং আইনগতভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থান যাচাই করা এবং তাঁদের ভোটের আইনগত বৈধতা নির্ধারণের বিষয়টি এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।
ট্রাম্পের কারাদণ্ডের হুমকি ও বিচার বিভাগের আইনি পদক্ষেপ
ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ কয়েক দিনের ধারাবাহিকতার অংশ। বিচার বিভাগ প্রথমে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক ভোটারদের তালিকা যাচাই করতে বলে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা ও মামলা
বিচার বিভাগ এর আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কথিত অ-মার্কিন নাগরিক ভোটারদের তালিকা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল। এ নির্দেশের সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও ছিল।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, বিচার বিভাগ ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার লক্ষ্য ছিল সংশ্লিষ্ট ভোটগুলো গণনা বন্ধ করা। পরদিন শুক্রবার পাঠানো চিঠিতে ম্যাককটার আবারও কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এই ধারাবাহিক পদক্ষেপে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে মামলার ফলাফল বা আদালত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তা প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ম্যাককটারের চিঠিটি শেয়ার করেন। সেখানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে লেখেন, তাঁদের সবাইকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে যেতে হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য নির্বাচনী বিরোধটিকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে। তবে এটি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও হুমকি; সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের কোনো চূড়ান্ত আদালতের রায় হিসেবে একে বিবেচনা করা যাবে না।
ক্যালিফোর্নিয়া কেন ভোটার তালিকা যাচাইয়ে আপত্তি জানাচ্ছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা আপত্তি জানিয়েছেন মূলত তালিকা তৈরির পদ্ধতি এবং ভোটারদের তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে।
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ম্যাককটার শার্লি ওয়েবার ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধন ও রেকর্ড বিভাগের প্রধান ডিন লোগানকে চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সরকার যাঁদের সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তাঁদের একটি তালিকা কাউন্টি কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি পেনড্রাইভে তালিকাটি সরবরাহ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কাছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালট পাঠানো হয়েছিল।
কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আইন উপদেষ্টা ডওয়েন আর. হ্যারিসন বৃহস্পতিবার জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধ রাখা কাউন্টির পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্যের মূল কারণ ছিল, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে তালিকাটি প্রস্তুত করেছে, তা যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেনি।
শুক্রবারের চিঠিতে ম্যাককটার পাল্টা দাবি করেন, তালিকা তৈরির সময় বিচার বিভাগ অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে যাচাই করেছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকার তালিকাটিকে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করছে; অন্যদিকে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও ব্যাখ্যা চেয়েছে।
এই মতবিরোধের সমাধানে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি, নাগরিকত্বের নির্ভুল প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শার্লি ওয়েবারের আপত্তি
ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবারের কার্যালয় এ বিষয়ে নতুন করে মন্তব্য না করে আগে দেওয়া একটি বিবৃতি দেখার পরামর্শ দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে ওয়েবার বলেন, বিচার বিভাগ অঙ্গরাজ্যগুলোর সুরক্ষিত ভোটার-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থাও কমিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আইন উপদেষ্টার কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এখানে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে দুটি পৃথক উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য অবৈধ ভোট ঠেকানোর কথা বলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলছেন, ভোটারদের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ এবং তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নির্ভুল।
ট্রাম্পের কারাদণ্ডের হুমকি ও ভোটার নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিতর্ক
ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে জুলাই মাসে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রশাসন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি অ-মার্কিন নাগরিকের বিষয়ে প্রমাণ পেয়েছে। তবে ওই ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো সংখ্যা দেননি।
এই দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক ২০ হাজারের বেশি ডাকভোটের অভিযোগের পার্থক্য রয়েছে। একটি দাবি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নিয়ে, অন্যটি ডাকযোগে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে। তাই দুটি সংখ্যাকে একই অর্থে ব্যবহার করা বা সব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবৈধ ভোটদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা যথাযথ হবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অতীতে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ব্যবস্থায় ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু ব্যক্তিকেও অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
এ কারণে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের উদ্যোগে নির্ভুলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকা মানেই তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারের তৎপরতা
জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ বাড়িয়েছে।
রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল অনুযায়ী, ভোটার তালিকা পর্যালোচনার কাজ দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর চাপ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর অন্তত ৪৭টি অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেছে। এসব তালিকা দ্রুত পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে বিরোধটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। কারণ, এখানে শুধু ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রশ্ন নয়, কেন্দ্রীয় সরকার কতটা তথ্য চাইতে পারে এবং অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, সেই বিষয়ও সামনে এসেছে।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কী গুরুত্বপূর্ণ?
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে বিচার বিভাগের চিঠি, মামলা এবং ট্রাম্পের কারাদণ্ডের হুমকি নির্বাচনী পরিবেশে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:
তালিকার নির্ভুলতা: সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য, তা যাচাই করা।
ভোটের বৈধতা: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সত্যিই ভোট দিয়েছেন কি না এবং তাঁদের ভোট আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করা।
আইনি প্রক্রিয়া: নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি ও মামলার অগ্রগতি পরিষ্কার হওয়া।
ভোটারদের আস্থা: অবৈধ ভোট প্রতিরোধের পাশাপাশি যোগ্য ভোটারদের অধিকার ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু প্রশাসনিক অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। বিচার বিভাগের মামলা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি আদালতের সিদ্ধান্ত এবং যাচাই করা তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এই বিরোধের তাৎপর্য
ট্রাম্প প্রশাসন ভোট জালিয়াতি প্রতিরোধকে তাদের পদক্ষেপের প্রধান যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। বিপরীতে, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখা নির্বাচনী প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দেওয়ার আইনগত যোগ্যতা নিশ্চিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ভুল শনাক্তকরণের কারণে যোগ্য নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন না হওয়াও জরুরি।
ট্রাম্পের কারাদণ্ডের হুমকি নিয়ে বিতর্কের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের ওপর। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের আপত্তি এবং নির্বাচনের আগে ভোটার যাচাইয়ের বৃহত্তর উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয়ই বিরোধটির মূল অংশ।





