এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (27)
মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন ইশরাক,মাদক বিরোধী অভিযান নিয়ে অবস্থানে অনড়
News Photocard (15)
বাংলাদেশে ৪৫ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা কানাডার
News Photocard (12)
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি, বাড়ছে ঋণের চাপ
News Photocard
দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক
News Photocard
কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: বুকিংয়ের নথি আছে, খোঁজ নেই তুহিনের পরিবারের

বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, সহায়তা নিয়ে অভিযোগ

বিদেশের কারাগারে বাংলাদেশি বন্দি ১৫ হাজার ২১৩ জন। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ভারতে বন্দির সংখ্যা বেশি। কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে অভিযোগের পর ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিদেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক ১৫ হাজার ২১৩ বাংলাদেশির আইনি সহায়তা, কনস্যুলার সেবা ও দেশে ফেরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা বন্দি রয়েছেন। তাঁদের পরিবারের একাংশ বাংলাদেশি মিশন থেকে কার্যকর সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বন্দিদের মুক্তি, ক্ষমা ও সাজা কমানোর বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনাও করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিদেশের কারাগারে বাংলাদেশি বন্দি: কোন দেশে কতজন?

বিভিন্ন দেশের কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের মধ্যে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ভারতে বন্দির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে কয়েকটি দেশের বন্দিদের সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের জেদ্দায় ৫ হাজার ৪৮০ জন বাংলাদেশি আটক ছিলেন। মালয়েশিয়ায় বন্দি বাংলাদেশির সংখ্যা ২ হাজার ২১৭ এবং ভারতে ১ হাজার ৪৪৪। এ ছাড়া থাইল্যান্ডে ১২৭ বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বরাত দিয়ে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৫০০।

এই পরিসংখ্যান বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংরক্ষণ, আইনি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে বিভিন্ন দেশে বন্দি হওয়ার কারণ এক নয়। কোথাও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, আবার কোথাও ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। ফলে সব বন্দির ক্ষেত্রে একই ধরনের সহায়তা বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করা সম্ভব নয়।

সৌদি আরবে বন্দিদের সহায়তা নিয়ে অভিযোগ

সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে কয়েকটি অভিযোগ সামনে এসেছে। সিলেটের তিন ভাই আব্দুর রহমান, রিয়াজ উল্লাহ ও মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, তাঁরা সৌদি আরবে প্রায় নয় মাস কারাগারে ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও কার্যকর সহায়তা পাননি বলে তাঁদের অভিযোগ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা দেশে ফেরার আগে তাঁদের মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশে মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঘটনাটি বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য কূটনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনে।

বিদেশে কেউ আটক হলে তাঁর পরিবারের পক্ষে স্থানীয় আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং কারা কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা কঠিন হতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ, বন্দির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে সিলেটের তিন ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিশনের বিস্তারিত জবাব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। তাই অভিযোগের নির্দিষ্ট কারণ বা মিশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, উঠেছে নতুন প্রশ্ন

সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা কনস্যুলার সহায়তা এবং বন্দিদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি গোপনীয় স্মারকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় ওই দুই বাংলাদেশির নাম ছিল। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য তালিকায় উল্লেখ ছিল না।

এই তথ্যের ভিত্তিতে বন্দিদের আইনি অবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনা, মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে যথাযথ ফলোআপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিশেষ করে গুরুতর সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে তাঁদের মামলার বর্তমান অবস্থা, আপিলের সুযোগ এবং স্থানীয় আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্ট স্মারকে মৃত্যুদণ্ডের তথ্য না থাকার কারণ কী, কিংবা এ বিষয়ে আগে কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।

হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির এই দাবি বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনে।

বাংলাদেশি মিশনগুলো কী ধরনের সহায়তা দেয়?

বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন জানিয়েছে, তারা বন্দিদের সহায়তায় কারাগার পরিদর্শন, আইনি সহায়তার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ করে থাকে। তবে সহায়তার ধরন সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, মামলার প্রকৃতি এবং বন্দির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

মালয়েশিয়ায় নিয়মিত আটককেন্দ্র পরিদর্শন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় প্রতি সপ্তাহে আটককেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় বন্দি বাংলাদেশিদের প্রায় ৭০ শতাংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত মামলায় আটক রয়েছেন।

এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিদেশে বাংলাদেশিদের আটকের একটি বড় অংশ অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা বৈধ অবস্থানের শর্ত পূরণ না করার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থানীয় অভিবাসন আইন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে বন্দিদের আইনি অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া সহায়ক হতে পারে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির মামলা ও পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় সবার ক্ষেত্রে একই সমাধান প্রযোজ্য হবে না।

থাইল্যান্ডে সাজা শেষ হওয়ার আগে প্রত্যাবাসনের সীমাবদ্ধতা

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা জহির ইমাম জানিয়েছেন, দেশটির আইন অনুযায়ী সাজা শেষ হওয়ার আগে বন্দিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায় না।

তবে বন্দির পরিবার অনুরোধ জানালে অথবা বন্দি নিজে আপিল করলে আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি জানান।

এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর বিষয়টি কেবল কূটনৈতিক অনুরোধের ওপর নির্ভর করে না। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সাজা কার্যকরের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ কারণে বন্দিদের বিষয়ে সহায়তা দিতে হলে তাঁদের মামলার ধরন, সাজা, আপিলের সুযোগ এবং প্রত্যাবাসনের আইনি শর্ত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকা প্রয়োজন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বক্তব্য

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তি, ক্ষমা এবং সাজা কমানোর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, বন্দিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সমন্বয় এই প্রক্রিয়ার অংশ।

তবে বাংলাদেশি মিশন থেকে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরাসরি তাঁর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে অভিযোগ জানানোর জন্য আরও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে।

বিদেশে বন্দি কোনো ব্যক্তির পরিবারের জন্য কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, কী নথি জমা দিতে হবে এবং কত সময়ের মধ্যে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যাবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকলে যোগাযোগের জটিলতা কমতে পারে। তবে এমন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি চালু রয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বন্দিদের তথ্য সংরক্ষণে অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা

বিদেশে বন্দি বাংলাদেশিদের তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পিত ডেটাবেজে বন্দিদের পরিচয়, পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য, অপরাধের ধরন এবং সাজার মেয়াদ সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পাশাপাশি, কারও সাজা শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্দিদের তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ এবং সাজা শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মিশন ও সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় সহজ করার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব বন্দির সাজা শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে আগাম তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি, পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে ডেটাবেজটি কবে চালু হবে, কোন দপ্তর এর তথ্য হালনাগাদ করবে এবং বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশি মিশন কীভাবে এতে যুক্ত হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

বন্দিদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের গুরুত্ব

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেছেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের মামলাগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য যথাযথ আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এবং প্রত্যাবাসনের পর পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব বন্দির পরিস্থিতি এক রকম নয়। অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আটক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসা, অবস্থানের বৈধতা ও প্রত্যাবাসনের নিয়ম মুখ্য হতে পারে। অন্যদিকে, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়া, আইনজীবীর সহায়তা এবং আপিলের সুযোগ বিবেচনা করতে হয়।

এ ছাড়া দেশে ফিরে আসার পর একজন অভিবাসী কীভাবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করাই সব সমস্যার সমাধান নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনের সহায়তাও বিবেচনায় রাখা দরকার।

বিদেশের কারাগারে বাংলাদেশি বন্দি: সামনে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশের কারাগারে আটক ১৫ হাজার ২১৩ বাংলাদেশির তথ্য শুধু বন্দির সংখ্যা নয়, বরং তাঁদের আইনি অবস্থার হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ, কনস্যুলার সহায়তা এবং দেশে ফেরার প্রক্রিয়া নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

প্রথমত, বন্দিদের সঠিক ও হালনাগাদ তালিকা থাকা জরুরি। দ্বিতীয়ত, গুরুতর সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের মামলার অগ্রগতি ও আইনি অবস্থার নিয়মিত পর্যালোচনা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, পরিবারগুলো যেন সহজে সংশ্লিষ্ট মিশন বা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত অনলাইন ডেটাবেজ এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে তথ্য কতটা নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করছে তার ওপর।

একই সঙ্গে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ও ফৌজদারি অপরাধের মামলার মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক চ্যানেলে মুক্তি, ক্ষমা ও সাজা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ এবং মানবাধিকার সংগঠনের পর্যালোচনার দাবি এই কার্যক্রমের বাস্তব ফলাফল মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সর্বাধিক পঠিত