রুশ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের সিদ্ধান্তে ব্রেন্টের দাম ১০৭.৯২ ডলারে নামলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিল করার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৯২ সেন্টে নেমে আসে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা এই দরপতনের অন্যতম কারণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা এখনো বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাজারে দরপতনে ভূমিকা রেখেছে।
তবে রুশ জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা এখনো নিশ্চিত বাস্তবতা নয়। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি, কার্যকর থাকার মেয়াদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির প্রকৃত সরবরাহ কতটা বাড়ে।
রুশ জ্বালানি সরবরাহের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৯৪ সেন্ট কমে যায়। শতকরা হিসাবে এই পতন ছিল ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এতে ব্রেন্টের দাম দাঁড়ায় ১০৭ ডলার ৯২ সেন্টে।
এর আগে শুক্রবার লেনদেন শেষে ব্রেন্টের দাম গত ১৯ মের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পর দরপতনের চিত্র দেখা গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও কমেছে। সোমবার এ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ১০০ ডলার ৫৮ সেন্টে নেমে আসে।
শুক্রবার লেনদেন শেষে ডব্লিউটিআইয়ের দাম গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে।
তবে এক দিনের দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যহ্রাসের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ এখনো সীমিত। কারণ, জ্বালানি সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি—দুটিই তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে কী পরিবর্তন এসেছে

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে গ্রাহাম আইনের আওতায় আরোপ করা কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিল করা হয়। ট্রাম্প আগের মাসে এই আইনে সই করেছিলেন।
ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কয়েকজন আইনপ্রণেতার উদ্যোগে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। নতুন নির্বাহী আদেশের ফলে সেই আইনের আওতায় আরোপিত কিছু বিধিনিষেধে পরিবর্তন এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা মূল্যায়ন করতে ট্রাম্প সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নেবেন।
এই মূল্যায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য শুধু রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা নয়; একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্ববাজার ও অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
রুশ জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুনির্দিষ্ট শর্ত এবং সময়সীমা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তি ও ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এর আগে একটি চুক্তি করেন ট্রাম্প। ওই চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করবে।
ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, চলতি মাসে প্রায় ২৩ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানির মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে রাশিয়ার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জ্বালানি সরবরাহকে চাপে ফেলছে।
তবে ঘোষিত রপ্তানির পরিমাণ ও বাস্তবে সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। রপ্তানি কার্যক্রমের অগ্রগতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ওপর এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের ক্ষতি করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফলে জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় কেন বাড়ছে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছিল। ওই অঞ্চলে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার মধ্যে গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়।
গত মে মাসের পর এই প্রথম তেলের দাম ওই পর্যায়ে ওঠে। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, উৎপাদনকেন্দ্র থেকে ভোক্তাদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানোর সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হলে উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি পাওয়ার প্রত্যাশা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেই স্বস্তি আবার চাপের মুখে পড়তে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কমেছে
জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ার কারণে গত সপ্তাহে সাত দিনের গড় হিসাবে প্রতিদিন তেল সরবরাহের পরিমাণ কমে প্রায় ৮৫ লাখ ব্যারেলে দাঁড়ায়। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন সরবরাহের পরিমাণ ছিল দুই কোটি ব্যারেলের বেশি।
অর্থাৎ, দুই সপ্তাহের এই তুলনায় দৈনিক সরবরাহে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াটাই স্বাভাবিক।
কেপলার আরও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে পরিবহনব্যবস্থা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং বাজারের প্রত্যাশার ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া থেকে সম্ভাব্য অতিরিক্ত রপ্তানি কতটা ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে, তা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতির ওপর।
তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা কমেছে কেন
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে। তাঁর মূল্যায়নে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা এবং সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়া।
তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলে কিছু বিনিয়োগকারী সেই মূল্যবৃদ্ধি থেকে অর্জিত মুনাফা নিশ্চিত করতে বিক্রি করতে পারেন। এতে নতুন কোনো বড় সরবরাহ পরিবর্তন ছাড়াও বাজারে দাম কমতে পারে।
তবে ওয়াটারার সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় দেশটি থেকে জ্বালানি রপ্তানি বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া পরস্পরবিরোধী বার্তা বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিস্তারিত শর্ত এবং এর মেয়াদ পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ বাড়বে বলে নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
এই মূল্যায়ন বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। নীতিগত সিদ্ধান্ত সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে, কিন্তু বাস্তবে কতটা জ্বালানি বাজারে আসবে, তা নির্ধারিত হবে সিদ্ধান্তের প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির মাধ্যমে।
হুতিদের ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে মিসর জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও সামনে এনেছে। অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে উদ্বেগও বাড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ইতিমধ্যে কমে যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এর সঙ্গে নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি যুক্ত হলে তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ডিজেলসহ জ্বালানি রপ্তানি বাড়লে বাজারে সরবরাহের কিছু ঘাটতি পূরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য রপ্তানি বৃদ্ধিকে সরাসরি সমতুল্য হিসেবে দেখা যাবে না। জ্বালানির ধরন, সরবরাহের গন্তব্য এবং বাস্তব রপ্তানির পরিমাণ—সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ববাজারে তেলের ভবিষ্যৎ দামের জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
প্রথমত, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের আওতায় নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের বিস্তারিত শর্ত এবং মেয়াদ স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ৬০ দিনের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা ঘোষিত পরিমাণ অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয় কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ঘোষিত রপ্তানি কার্যক্রম বাস্তব সরবরাহে রূপ নিলে বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার তথ্য দেখাচ্ছে, পরিবহনঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
চতুর্থত, বিনিয়োগকারীদের আচরণও স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামায় ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সোমবারের দরপতনের পেছনে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সুতরাং, সোমবারের মূল্যপতনকে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সম্মিলিত প্রভাব হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহসংকটের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
সামগ্রিকভাবে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক শিথিলের সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তেলের দাম কমবে কি না, তা নির্ভর করবে রাশিয়ার প্রকৃত রপ্তানি, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির স্পষ্টতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।





