এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard (24)
প্রি-পেইড মিটারে রিচার্জ নিয়ে জরুরি নির্দেশনা
News Photocard (7)
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি
News Photocard (3)
দেশের বাজারে আজ সোনার ভরি কত
News Photocard (22)
দুর্গাপূজার ছুটিতেও সীমিত পরিসরে চলবে আমদানি-রপ্তানি
News Photocard (4)
দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতি, পাঁচ মাসে মিলেছে ৫৬১ কোটি টাকা

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতিতে পাঁচ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে উদ্যোক্তারা পেয়েছেন মাত্র ৫৬১ কোটি। কর্মসংস্থান ও কারখানা চালুর লক্ষ্য নিয়ে বাড়ছে সংশয়।

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে ধীরগতির কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের লক্ষ্য বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ কলকারখানা ও সেবা খাত পুনরায় চালু করার জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে পাঁচ মাসে উদ্যোক্তারা ঋণ পেয়েছেন মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। বরাদ্দের ৩ শতাংশও বিতরণ না হওয়ায় বন্ধ শিল্প চালু, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রণোদনা প্যাকেজটির আওতায় ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সুদ সরকার বহন করার কথা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ঋণ বিতরণের ধীরগতি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণে কেন ধীরগতি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ করা ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে পাঁচ মাসে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। একই খাতে আরও ৯২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিতরণ করা অর্থের পরিমাণ এবং প্রক্রিয়াধীন ঋণ যোগ করলেও বরাদ্দের তুলনায় অগ্রগতি সীমিত। এতে যেসব উদ্যোক্তা আর্থিক সংকটের কারণে কারখানা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখতে পারেননি, তাঁদের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর গতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি বাড়ানো। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সময়মতো না পেলে অনেক উদ্যোক্তার পক্ষে উৎপাদন শুরু করা কঠিন হতে পারে।

তবে ঋণ বিতরণ কম হওয়ার পেছনে শুধু ব্যাংকের অনীহা নয়, ঋণগ্রহীতার আর্থিক অবস্থা, জামানত, পুরোনো ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনি শর্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

৬২ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজে কত ঋণ বিতরণ হয়েছে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১৫টি তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।

বিতরণ করা অর্থ ও প্রক্রিয়াধীন ঋণ মিলিয়ে মোট পরিমাণ ১৪ হাজার ৫১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৬২ হাজার কোটি টাকার সামগ্রিক প্যাকেজের তুলনায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি এখনো এক-চতুর্থাংশের নিচে।

প্রণোদনা প্যাকেজের বিভিন্ন তহবিল থেকে অর্থ বিতরণের চিত্রেও খাতভেদে পার্থক্য রয়েছে। কিছু তহবিলে তুলনামূলক বেশি অর্থ বিতরণ হলেও বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য নির্ধারিত তহবিলে অগ্রগতি অনেক কম।

এই পার্থক্য দেখায়, একটি বড় প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেই সব খাতে সমানভাবে ঋণ পৌঁছে যায় না। তহবিলের শর্ত, ব্যাংকের মূল্যায়নপ্রক্রিয়া এবং উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা অর্থ বিতরণের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

কোন খাতে কত টাকা বিতরণ করা হয়েছে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন খাতে অর্থ বিতরণের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।

  • প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন তহবিল: ৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা।

  • কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিশেষ তহবিল: ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

  • ছোট ও মাঝারি শিল্পের চলতি মূলধন: প্রায় ৯০৮ কোটি টাকা।

  • সৃজনশীল অর্থনীতি: ৫০০ কোটি টাকা।

  • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড: ২৯৩ কোটি টাকা।

  • বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি: ২০০ কোটি টাকা।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। তবে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য বরাদ্দ করা ২০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় বিতরণের পরিমাণ খুবই সীমিত।

বিশেষ করে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় মূলধন না পেলে যন্ত্রপাতি সচল করা, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন শুরু এবং কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনার মতো কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ঋণ বিতরণের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ: ঋণ পেতে বাধা জামানত ও পুরোনো মামলা

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কারখানা পুনরায় চালু করতে অর্থের প্রয়োজন হলেও ব্যাংকগুলো সহজে নতুন ঋণ দিতে চাইছে না। তাঁদের মতে, জামানতের শর্ত এবং অতীতের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নতুন করে অর্থায়ন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্যোক্তাদের যুক্তি, কোনো কারখানা চালু করা সম্ভব হলে উৎপাদন ও বিক্রি বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হতে পারে। কিন্তু প্রাথমিক অর্থায়ন না পেলে উৎপাদন শুরু করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

এখানে উদ্যোক্তাদের মূল উদ্বেগ হলো, আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেই সহায়তা পেতেই যদি দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে উদ্যোগটির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে দেরি হতে পারে।

তবে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকেরও ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয় রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলে তার উৎপাদন ও বিক্রি বাড়বে কি না, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা তৈরি হবে কি না এবং জামানত পর্যাপ্ত কি না—এসব বিষয় যাচাই করা ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মামলা প্রত্যাহারের শর্তে উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তা

বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আরেকটি জটিলতা হলো পুরোনো মামলা প্রত্যাহারের শর্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৯ জুলাইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়ার আগে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে করা পুরোনো মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

এই শর্ত নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, মামলা প্রত্যাহার করার পরও ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে তাঁরা আইনি পদক্ষেপ থেকে সরে এসে নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

এ কারণে ব্যবসায়ীরা মামলা প্রত্যাহারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লিখিত নীতিগত সম্মতির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকের অবস্থান আগে থেকে লিখিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা নিশ্চয়তা পেতে পারেন।

এই বিষয়টি শুধু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঋণ পাওয়ার শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে উদ্যোক্তারা আবেদন করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। ফলে বরাদ্দ করা অর্থ অব্যবহৃত থেকে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

ব্যাংকারদের বক্তব্য: ঋণ অনুমোদনের আগে যাচাই জরুরি

অন্যদিকে ব্যাংকাররা বলছেন, খেলাপি ঋণের চাপের মধ্যে নতুন ঋণ দেওয়ার আগে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা, জামানত এবং সংশ্লিষ্ট কারখানা পুনরায় চালু করার বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যাংকগুলোর দৃষ্টিতে, শুধু কারখানা বন্ধ রয়েছে বলেই ঋণ দেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে কি না, নতুন ঋণ পরিশোধের মতো আয় তৈরি করতে পারবে কি না এবং ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা—এসব বিষয় মূল্যায়ন করতে হয়।

এই যাচাইপ্রক্রিয়ার কারণে ঋণ অনুমোদনে সময় লাগছে বলে ব্যাংকারদের বক্তব্য। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় তাঁরা প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো পাচ্ছেন না।

ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে একটি মৌলিক সমস্যা স্পষ্ট হচ্ছে: উদ্যোক্তাদের দ্রুত অর্থায়ন প্রয়োজন, আর ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার আগে আর্থিক ঝুঁকি কমাতে চায়। এই দুই প্রয়োজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা না গেলে ঋণ বিতরণের গতি বাড়ানো কঠিন হতে পারে।

ঋণ বিতরণ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব

প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে কয়েকটি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ঋণ পাওয়ার শর্ত সহজ করা।

  • ঋণের আবেদন দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তি করা।

  • উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে, এমন কারখানাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

  • মামলা প্রত্যাহারের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লিখিত নীতিগত সম্মতির ব্যবস্থা করা।

ব্যবসায়ীদের মতে, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রকৃত অর্থে উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত অর্থায়ন পেতে পারে। এতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে।

তবে ঋণের শর্ত সহজ করার পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রয়োজনও রয়েছে। কারণ ঋণ বিতরণের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়নযোগ্য?

প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হওয়া এবং নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

বন্ধ কারখানা চালু হলে সেখানে কর্মী নিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু অর্থায়ন বিলম্বিত হলে এসব কার্যক্রমও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এখানে ঋণ বিতরণের পরিমাণের পাশাপাশি অর্থ ব্যবহারের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ। কতটি বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলো, কতজন কর্মী কাজে ফিরলেন এবং কত নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হলো—এসব তথ্যের মাধ্যমে উদ্যোগটির বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

উৎসে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে পাঁচ মাসে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। ফলে এই খাতে দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা, বন্ধ শিল্প পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবে ঋণ বিতরণের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলে ঘোষিত লক্ষ্যের সুফল পেতে বিলম্ব হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত করা যায়, উদ্যোক্তাদের জন্য শর্ত কতটা বাস্তবসম্মত রাখা যায় এবং ব্যাংকের ঝুঁকি মূল্যায়ন কীভাবে কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত সম্পর্কে স্পষ্টতা এবং ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে লিখিত নীতিগত অবস্থান উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর জন্যও আর্থিকভাবে সক্ষম ও পুনরায় উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, বন্ধ শিল্পে ঋণ বিতরণের ধীরগতি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বরাদ্দ করা অর্থ দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারলে বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত