শান্তি আলোচনার চেষ্টার মধ্যেই ইরানে আবার হামলার হুমকি। ট্রাম্পের প্রতিনিধি সফর বাতিলে নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে বড় চাপ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান কেন্দ্র করে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চললেও একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সফর বাতিল, অন্যদিকে ইসরায়েলের নতুন হামলার হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বৈঠকের মধ্য দিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান নতুন গতিতে প্রবেশ করে। তবে একই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করলে কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান ও পাকিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
- প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
- সেনাপ্রধান আসিম মুনির
- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার
- জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি
ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
পাকিস্তান ও ইরান উভয় পক্ষই আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান এখনও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।
মার্কিন অবস্থান ও নতুন জটিলতা
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলেছে।
তেহরান দাবি করেছে—
- ইরানের ওপর আর কোনো হামলা হবে না
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিশ্চয়তা
- নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
- ক্ষতিপূরণ প্রদান
অন্যদিকে ওয়াশিংটন এই দাবিগুলোতে পুরোপুরি একমত হয়নি।
যুদ্ধবিরতি থেকে নতুন উত্তেজনা
এর আগে ৩৯ দিনের সংঘর্ষের পর ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই অস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
পরবর্তীতে ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এরপর থেকেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান অচলাবস্থায় পড়ে।
আরাগচির বক্তব্য ও তেহরানের অবস্থান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৈঠক শেষে জানান, পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগকে তেহরান মূল্যায়ন করে।
তিনি বলেন, ইরান কোনো “অযৌক্তিক দাবি” মানবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আন্তরিকতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
এই মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নতুন ধাক্কা
হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে যাবে। কিন্তু পরে ট্রাম্প সফর বাতিল করে বলেন, দীর্ঘ ফ্লাইটের প্রয়োজন নেই এবং সব “কার্ড” এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ইসরায়েলের হুমকি ও যুদ্ধ আশঙ্কা
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা।
এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান প্রক্রিয়াকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
ইরানের পাল্টা সতর্কতা
ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, নৌ অবরোধ চলতে থাকলে তারা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা
সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা পাকিস্তান ব্যর্থ হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় সংকট দেখা দিতে পারে।




