আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (20)
ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় মেসি, বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের নতুন ইতিহাস
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (2)
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আর্জেন্টিনা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (27)
উত্তেজিত হয়ে রেফারিকে কি বলেছিলেন মেসি?
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
কোর্তোয়াকে কেন তুলে নিয়েছিলেন, জানালেন কোচ
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
মেসিদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধাক্কা সুইজারল্যান্ডের

এক জুলাই থেকে আরেক জুলাই, কোর্তোয়ার হাসি থেকে কোর্তোয়ার কান্না

এক জুলাই থেকে আরেক জুলাই, কোর্তোয়ার হাসি থেকে কোর্তোয়ার কান্না, থিবো কোর্তোয়ার চোট স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া, এরপরই বদলে যায় লড়াইয়ের চিত্র।

স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থিবো কোর্তোয়ার চোট শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের ভাগ্যই বদলে দিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া ঊরুর চোটে ৭২ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে তিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তবে তার বিদায়ের পর বদলি গোলকিপার সেনে লামেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে মিকেল মেরিনো গোল করেন এবং বেলজিয়াম বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

এই ঘটনাটি অনেকের কাছেই ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে নেইমারের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে বেলজিয়ামকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন কোর্তোয়া। আট বছর পর আরেক জুলাইয়ে সেই কোর্তোয়ার চোখেই দেখা গেল কান্না।

২০১৮ সালের নায়ক, ২০২৬ সালের বেদনাময় মুহূর্ত

রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে নেইমার জুনিয়রের বাঁকানো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়েছিলেন থিবো কোর্তোয়া। সেই সেভ বেলজিয়ামের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।

সেই ম্যাচে ব্রাজিল সমতায় ফিরতে পারেনি এবং বেলজিয়াম প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছিল।

আট বছর পর স্পেনের বিপক্ষেও কোর্তোয়া আবার নায়ক হওয়ার পথে ছিলেন।

থিবো কোর্তোয়ার চোট বদলে দিল ম্যাচের চিত্র

ইয়ামাল থেকে ওইয়ারজাবাল—সবাইকে আটকে দিচ্ছিলেন কোর্তোয়া

স্পেনের আক্রমণের সামনে শুরু থেকেই দৃঢ় ছিলেন কোর্তোয়া। লামিনে ইয়ামালকে একাধিকবার হতাশ করেন তিনি। পরে প্রায় পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নেওয়া মিকেল ওইয়ারজাবালের শটও ঠেকিয়ে দেন।

মনে হচ্ছিল, আরেকটি অসাধারণ গোলকিপিং প্রদর্শনী উপহার দিতে যাচ্ছেন তিনি।

কিন্তু ম্যাচের মাঝপথেই ঊরুতে চোট পান কোর্তোয়া। চিকিৎসা শেষে মাঠে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি।

৭২ মিনিটে চোখের জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের এই গোলরক্ষক। জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করলেও আবেগ লুকাতে পারেননি।

বদলি গোলকিপারের ভুলে বিদায়

কোর্তোয়ার জায়গায় নামেন সেনে লামেন্স।

তিনি প্রথমে পাউ কুবারসির নিচু শট ঠেকালেও বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। ফিরতি বলে দ্রুত ছুটে এসে গোল করেন স্পেনের বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো।

সেই এক ভুলের মূল্যই দিতে হয় বেলজিয়ামকে। ম্যাচের ফল বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় তাদের।

দ্য অ্যাথলেটিকের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, থিবো কোর্তোয়ার চোট স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হারে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ম্যাচজুড়ে তার একের পর এক সেভই দলকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রেখেছিল।

কেন মাঠ ছাড়তে হলো?

চোট পাওয়ার পরও কোর্তোয়া গোলকিক নেওয়া ছাড়া বাকি দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন। তাই তিনি খেলা চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন।

তবে বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া ঝুঁকি নিতে চাননি।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,

“এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল। এমন ম্যাচে খেলতে হলে শতভাগ ফিট থাকতে হয়। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল, ১০০ শতাংশ ফিট নয়—এমন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে রাখা হবে না। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,

“পুরো বিশ্বকাপজুড়ে কোর্তোয়া অসাধারণ খেলেছে। আমরা চাইনি তার চোট আরও গুরুতর হয়ে উঠুক।”

সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা

কোচের সিদ্ধান্ত চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতার পরিচয় দিলেও ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কারণ কোর্তোয়া নিজে খেলতে চেয়েছিলেন। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের তখনও ১৮ মিনিট বাকি ছিল। সেই সময়টুকু তিনি খেললে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত কি না—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো, কোর্তোয়ার বিদায়ের পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

বিশ্বকাপে কোর্তোয়ার আরেকটি মাইলফলক

এবারের বিশ্বকাপে থিবো কোর্তোয়ার চোট আলোচনায় এলেও তার পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।

এই আসরে তিনি মোট ১০টি সেভ করেছেন।

স্পেন ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২১তম ম্যাচ। গোলকিপারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন শুধু জার্মানির মানুয়েল নয়্যার, যার বিশ্বকাপ ম্যাচ সংখ্যা ২৩।

সামনে কি আরেকটি বিশ্বকাপ?

বর্তমানে কোর্তোয়ার বয়স ৩৪ বছরের বেশি।

২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে তার বয়স হবে ৩৮ বছর।

সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ৪০ বছর বয়সেও কেপ ভার্দের ভোজিনিয়া বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। সেই উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কোর্তোয়াও চাইলে পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন।

সেক্ষেত্রে তিনি নয়্যারকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপারের রেকর্ডও গড়তে পারেন।

তবে তার আগে প্রয়োজন এই হতাশা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরা।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে নেইমারের কান্নার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল থিবো কোর্তোয়ার। আট বছর পর আরেক জুলাইয়ে ফুটবল বিশ্ব দেখল ভিন্ন এক দৃশ্য—চোখের জল নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন সেই কোর্তোয়াই।

স্পেনের বিপক্ষে তার অসাধারণ গোলকিপিং বেলজিয়ামকে লড়াইয়ে রেখেছিল। কিন্তু থিবো কোর্তোয়ার চোট শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতি বদলে দেয়। বদলি গোলকিপারের ভুলের পর বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্বপ্নও শেষ হয়ে যায়।

সর্বাধিক পঠিত