আরও খবর

News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (15)
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা
News Photocard (12)
উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিলসহ নিষিদ্ধ যেসব বিষয়
News Photocard (6)
গুমের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, কোটি টাকা জরিমানা
News Photocard
ঢাকার যানজট নিরসনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৪ বাস টার্মিনাল

বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ

বেনজীরকে ফেরত দিতে ৪ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইল দুবাই পুলিশ, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, আইনি ভিত্তি ও নথি নিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়।

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে তাকে দেশে ফেরানোর আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া নিয়ে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশে পৌঁছানো ওই চিঠির জবাব প্রস্তুতে বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে চার বিষয়ে ব্যাখ্যা

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই পুলিশের চিঠিতে বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কোন আইনের আওতায় এবং কী প্রক্রিয়ায় তাকে ফেরত নিতে চায়।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই। ফলে এমন পরিস্থিতিতে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর আইনি ভিত্তি কী হবে, সেটিই দুবাই কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

এ ছাড়া আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি ও কার্যকারিতা নিয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন সমন্বয় করছে, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে দুবাই পুলিশ।

পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে দুবাই পুলিশের চিঠি

আজকের পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুবাই পুলিশের চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে চিঠিটির জবাব তৈরির কাজ চলছে।

পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করছে দুদক। বেনজীর আহমেদের মামলার তদন্ত ও প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নথিপত্র সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুবাই পুলিশের চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত জবাব পাঠানো সম্ভব হলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে।

কীভাবে শুরু হয় বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর উদ্যোগ

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানায় যে দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।

এর পর বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রত্যর্পণ চায়। এ জন্য দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়।

ওই নথিতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ।

বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

দুদকের নথিতে কী রয়েছে

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত নথিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুবাই পুলিশের ব্যাখ্যা চাওয়ার পর এসব নথির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াগুলোও পুনরায় সমন্বয় করছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে, সেটি স্পষ্ট করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার বর্তমান অবস্থা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ২০২৪ সালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক।

তদন্তের পর আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ মে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি দেশ ছাড়েন।

পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

দুবাইয়ে আটকের পেছনে কী তথ্য ছিল

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে আটকের পেছনে তার কয়েকজন সাবেক সহযোগীর দেওয়া তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ব্যবসায়িক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে ওই সহযোগীরা দুবাই পুলিশকে তথ্য দেন বলে জানা গেছে। পরে একটি শপিং মল থেকে তাকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও দুবাই পুলিশের বিবেচনায় ছিল।

প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এখন বাংলাদেশের করণীয়

দুবাই পুলিশের চিঠির জবাব প্রস্তুত করাই এখন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান কাজ। প্রত্যর্পণের আইনি ভিত্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কার্যকারিতা এবং প্রক্রিয়াগত সমন্বয় নিয়ে দুবাই পুলিশের প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে।

দুদকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সমন্বয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

দুবাই পুলিশের চিঠির দ্রুত ও সন্তোষজনক জবাব দেওয়া গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে চূড়ান্ত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের দেওয়া ব্যাখ্যা ও আইনি নথিপত্রের ওপর।

বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে রয়েছে। দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে তাকে ফেরানোর বিষয়ে সম্মতি দিলেও প্রত্যর্পণের আইনি কাঠামো ও প্রক্রিয়া নিয়ে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সেই ব্যাখ্যার জবাব প্রস্তুত করছে।

দুদকের নথি, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলের রেড নোটিশ—সবকিছু সমন্বয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন বাংলাদেশের জবাবের পর দুবাই কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

সর্বাধিক পঠিত