এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (24)
এলএনজি সরবরাহ শুরু, কমতে পারে গ্যাস সংকট
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (21)
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ৩ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (32)
যুক্তরাজ্যের চেভেনিং স্কলারশিপের আবেদন শুরু
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান, ‘তরুণদের ক্ষমা করার’ আহ্বান মোদির

আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান মুখোমুখি, তদন্তে মার্কিন সংস্থা

আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান মুখোমুখি, তদন্ত শুরু করেছে এফএএ ও এনটিএসবি। নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান এবং একটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানের মধ্যে আকাশে নিরাপদ দূরত্ব অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ওয়াশিংটনের আকাশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের মেরিন ওয়ান ও যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আসার ঘটনা কীভাবে ঘটল?

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে অ্যান্ড্রুস বিমান ঘাঁটির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। একই সময়ে কাছাকাছি অবস্থিত রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দর থেকে এনভয় এয়ার পরিচালিত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এমব্রেয়ার ই-১৭০ যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়ন করে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের বিমান বা হেলিকপ্টার চলাচলের সময় আশপাশের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা। তবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সেই ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

যোগাযোগে অস্পষ্টতা ও বিলম্বের কারণে আকাশে দুটি উড্ডয়নযানের দূরত্ব ১ মাইলেরও কমে নেমে আসে।

নিরাপত্তা বিধি কী বলছে?

ফেডারেল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, আকাশে উড্ডয়নরত দুটি যানের মধ্যে অন্তত—

  • আনুভূমিকভাবে ১.৫ মাইল নিরাপদ দূরত্ব অথবা
  • উল্লম্বভাবে ৫০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

তদন্তের অন্যতম বিষয় হচ্ছে, কীভাবে নির্ধারিত নিরাপত্তা সীমার নিচে দুটি উড়োজাহাজ চলে এল এবং সেই সময়ে কোন পর্যায়ে সমন্বয়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

হোয়াইট হাউস কী বলেছে?

ঘটনার পর উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো সময়ই সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না।

তিনি বলেন, মেরিন ওয়ান বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বৈমানিকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং পুরো ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

এফএএর বক্তব্য

মার্কিন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, নিরাপদ দূরত্বের নিচে চলে যাওয়ার সময়ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল উভয় বিমানের পাইলটের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিল

তবে কেন বাণিজ্যিক বিমান চলাচল সময়মতো স্থগিত করা যায়নি এবং যোগাযোগে কোথায় বিলম্ব হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের দুর্ঘটনার পরও কেন উদ্বেগ?

এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে একটি পূর্ববর্তী দুর্ঘটনার কারণে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের একই বিমানবন্দর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বিমান এবং একটি সেনা হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জন নিহত হন। সেই ঘটনার পর এই আকাশসীমায় নিরাপত্তা প্রটোকল আরও কঠোর করা হয়েছিল।

তাই এবার বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তা প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন বিমান চলাচল প্রশাসন।

তদন্তে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে?

প্রাথমিকভাবে তদন্তে যেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—

  • প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার চলাচলের সময় বাণিজ্যিক বিমান কেন উড্ডয়ন করেছে।
  • এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সমন্বয়ে কোনো ঘাটতি ছিল কি না।
  • যোগাযোগে অস্পষ্টতা ও বিলম্বের কারণ।
  • ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী ধরনের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

ট্রাম্পের মেরিন ওয়ান ও যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আসা ঘটনায় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এফএএ ও এনটিএসবির তদন্তের মাধ্যমে কী কারণে নিরাপত্তা দূরত্ব কমে গিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটিই এখন মূল আলোচনার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত