‘ভালো না খেললে আমাকে বাদ দিন’—ভারতীয় নির্বাচকদের কি এমন বার্তা দিয়েছেন রোহিত, মোহাম্মদ কাইফের দাবি, পারফর্ম না করলে নির্বাচকরাই তাকে বাদ দিন—এমন বার্তাই দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক।
ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ কাইফ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দাবি করেছেন, রোহিত শর্মা এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার কথা ভাবছেন না। বরং তার অবস্থান হলো—যদি তিনি প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারেন, তাহলে তাকে দলে রাখবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন ভারতীয় নির্বাচকরাই। সম্প্রতি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিতের অবস্থান নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই কাইফ এ মন্তব্য করেন।
রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন আলোচনা?

ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোহিত শর্মা থাকবেন কি না, তা নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারতীয় নির্বাচকদের পরিকল্পনায় তার নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস এবং এনডিটিভিসহ ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, গত ১৯ জুলাই লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডের আগে রোহিতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটিই ভারতের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ হতে পারে।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তাকে রাখা হয়নি বলেও জানানো হয়েছিল। তবে পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এ ধরনের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করে।
রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোহাম্মদ কাইফের বক্তব্য
এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মোহাম্মদ কাইফ বলেন, রোহিতের মানসিকতা এখনো ইতিবাচক। তিনি ক্রিকেট উপভোগ করছেন এবং খেলা চালিয়ে যেতে চান।
কাইফের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিত যেন নির্বাচকদের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন—তিনি যদি ভালো খেলতে না পারেন, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদেরই। নিজের পক্ষ থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তিনি নির্বাচকদের মূল্যায়নের ওপর আস্থা রাখছেন।
কাইফের মতে, রোহিতের এই অবস্থান তার আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ ও লর্ডসের ইনিংস
কাইফ মনে করেন, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোহিত শর্মার ১১০ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস তার বর্তমান মানসিকতারই বড় উদাহরণ।
তার মতে, ওই ইনিংসের মাধ্যমে রোহিত দেখিয়েছেন যে তিনি এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। তবে পরবর্তী সিরিজে তিনি দলে থাকবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত।
টিম ম্যানেজমেন্টের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত
রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা কেন থামছে না?
মোহাম্মদ কাইফ মনে করেন, শুধু মাঠে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দিলেই হবে না। টিম ম্যানেজমেন্টেরও উচিত রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার অবস্থান জানানো।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকেই বলেন যে রোহিতকে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় তিনি আছেন কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
কাইফের মতে, যদি এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হতো, তাহলে চলমান সব জল্পনার অবসান ঘটত।
আগের অবসর সিদ্ধান্তের সঙ্গে এবারের পার্থক্য
রোহিত শর্মার ক্যারিয়ারের আগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তুলে ধরেন মোহাম্মদ কাইফ।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর রোহিত নিজেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এরপর অস্ট্রেলিয়া সফরে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ান।
কাইফের মতে, ওই দুই ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রোহিত নিজেই। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার তিনি নিজের পরিবর্তে নির্বাচকদের ওপর সেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিতে চাইছেন।
বিসিসিআইয়ের ভূমিকার প্রশংসা
মোহাম্মদ কাইফ বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তার মতে, লর্ডসের ম্যাচের আগে যে ধরনের আলোচনা তৈরি হয়েছিল, বোর্ড যদি পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যা না দিত, তাহলে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়ে যেত।
বিসিসিআইয়ের ব্যাখ্যার ফলে অন্তত বিতর্ক আরও বড় আকার ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ হয়নি। বিসিসিআইও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় তার অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে মোহাম্মদ কাইফের বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিত এখনো ক্রিকেট চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে তিনি মনে করেন, নিজের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করে তাকে দলে রাখা বা বাদ দেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচকদেরই হওয়া উচিত।
এ কারণে ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আপাতত থামছে না। ভবিষ্যতে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তই এ বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর দিতে পারে।





