২৫% মালিকানা চেয়েছিলেন ধোনি, রাজি হয়নি চেন্নাই সুপার কিংস, ফ্র্যাঞ্চাইজি ৫.৫ শতাংশ অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিলেও হয়নি সমঝোতা।
মহেন্দ্র সিং ধোনি ও চেন্নাই সুপার কিংসের দীর্ঘ সম্পর্কের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানায় বড় অংশীদারত্ব চাওয়ার খবর সামনে এসেছে। নিউজ১৮-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ধোনি প্রথমে চেন্নাই সুপার কিংসের ২৫ শতাংশ মালিকানা চেয়েছিলেন। পরে সেই দাবি কমে ২০ শতাংশে এলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ৫.৫ শতাংশ অংশীদারত্বের প্রস্তাব দেয়। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া মনে করেন, চেন্নাই সুপার কিংসের বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় এত বড় অংশীদারত্ব দেওয়া বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নয়। এদিকে এশিয়া নেট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধোনি বিনা মূল্যে মালিকানা নিতে চাননি; বরং নিজের অর্থ দিয়ে অংশীদারত্ব কিনতে চেয়েছিলেন।
ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা চাওয়ার খবর কেন গুরুত্বপূর্ণ

আইপিএলের শুরু থেকেই চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ধোনির সম্পর্ক। ২০০৮ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম আসর থেকেই তিনি দলটির সঙ্গে আছেন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শুধু দলের অধিনায়ক হিসেবেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই সুপার কিংস পাঁচবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই সময়ে দলটি দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টির শিরোপাও জিতেছে।
এই দীর্ঘ সম্পর্কের কারণে ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা চাওয়ার খবর ক্রিকেটাঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মালিকানার অংশীদারত্ব আর ক্রিকেটীয় অবদানের মূল্যায়ন—দুটি বিষয়কে একইভাবে দেখা হয় না। আকাশ চোপড়ার বক্তব্যেও সেই পার্থক্যই উঠে এসেছে।
ধোনির প্রস্তাব থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজির অবস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধোনির প্রাথমিক দাবি ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব। পরে সেই দাবি কমে ২০ শতাংশে আসে।
অন্যদিকে, ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব ছিল মাত্র ৫.৫ শতাংশের। অর্থাৎ দুই পক্ষের প্রত্যাশার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান ছিল।
এই ব্যবধানের কারণেই শেষ পর্যন্ত আলোচনা সমঝোতায় পৌঁছায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ধোনির পক্ষ থেকে মালিকানার দাবি কীভাবে এবং কোন শর্তে করা হয়েছিল, সে বিষয়ে উৎস প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।
আকাশ চোপড়ার মতে, এত বড় অংশীদারত্ব সহজ নয়
ধোনির মালিকানার দাবির বিষয়ে আকাশ চোপড়া চেন্নাই সুপার কিংসের বর্তমান বাজারমূল্যের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারকথা হলো, ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মূল্য বিবেচনায় ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব অত্যন্ত বড় অঙ্কের সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আকাশ চোপড়া বলেন, এত বড় অঙ্কের মালিকানা কাউকে দেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়। ধোনির মতো একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সম্পর্ক এবং তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও মালিকানার এত বড় অংশ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কেউ কাউকে ৪০ কোটি ডলার দেয় না।’ তাঁর বক্তব্যে মূলত চেন্নাই সুপার কিংসের বর্তমান মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা দাবির আর্থিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
ধোনি বিনা মূল্যে মালিকানা চাননি
ধোনির মালিকানা চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে এশিয়া নেট নিউজের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, ধোনি বিনা মূল্যে চেন্নাই সুপার কিংসের অংশীদারত্ব চাননি।
বরং নিজের অর্থ দিয়ে অংশীদারত্ব কিনতেই তিনি আগ্রহী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি কেবল ক্রিকেটারের অবদানের বিনিময়ে মালিকানা পাওয়ার দাবি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ব্যবস্থাপনা বিভাগ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখেছে বলে মনে হচ্ছে। এ কারণেই ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসেনি।
২০২৭ আইপিএলের আগে বাড়তে পারে মতবিরোধ
মালিকানার অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধের বিষয়টি ২০২৭ আইপিএলের আগে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ধোনির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাই মালিকানা নিয়ে বর্তমান অমীমাংসিত অবস্থান ভবিষ্যতে তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
উৎস প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতা না হলে ধোনি আইপিএলে আর কখনো খেলবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি।
চোটের কারণে ২০২৬ আইপিএলে খেলতে পারেননি ধোনি
২০২৬ সালের আইপিএলেও ধোনিকে মাঠে দেখা যায়নি। চোটের কারণে তিনি এবারের আসরে খেলতে পারেননি।
উৎস প্রতিবেদনে তাঁর বয়স ৪৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এমনিতেই আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে চেন্নাই সুপার কিংসের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা চাওয়ার প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। ধোনির দাবি ২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এলেও ফ্র্যাঞ্চাইজির ৫.৫ শতাংশ প্রস্তাবের সঙ্গে তা মেলেনি।
চেন্নাই সুপার কিংস ও ধোনির সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে ধোনির সম্পর্ক আইপিএলের প্রথম আসর থেকেই। তাঁর নেতৃত্বেই দলটি পাঁচবার আইপিএল শিরোপা জিতেছে এবং দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টির শিরোপা অর্জন করেছে।
তাই মাঠের পারফরম্যান্স ও নেতৃত্বের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মালিকানার বিষয়টি আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত হওয়ায় সেখানে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ধোনি ও চেন্নাই সুপার কিংসের মধ্যে মালিকানা নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা চাওয়ার খবর সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রস্তাব ছিল ৫.৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ধোনি বিনা মূল্যে মালিকানা নিতে চেয়েছিলেন—এমন তথ্যও উৎস প্রতিবেদনে নেই। বরং নিজের অর্থ দিয়ে অংশীদারত্ব কেনার আগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
২০২৭ আইপিএলের আগে এই মতবিরোধ কোন পর্যায়ে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে উৎস প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
মহেন্দ্র সিং ধোনি ও চেন্নাই সুপার কিংসের সম্পর্ক আইপিএলের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় ২৫ শতাংশ অংশীদারত্ব চাওয়ার খবর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে। তবে ধোনির দাবি কমে ২০ শতাংশে এলেও চেন্নাইয়ের ৫.৫ শতাংশ প্রস্তাবের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি।
চোটের কারণে ২০২৬ আইপিএলে খেলতে না পারা ধোনিকে ঘিরে এখন মালিকানা ও ভবিষ্যৎ—দুই বিষয়েই আলোচনা চলছে। তবে এ মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হলো, ধোনির ২৫ শতাংশ মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি।





