এইমাত্র

আরও খবর

News Photocard
অ্যামাজনে বিধ্বস্ত বিমানটি যেভাবে রূপান্তরিত হয়েছিল কার্গোতে
News Photocard (24)
‘ওরা বাবাকে মেরে ফেলতে চাইছে’—ইমরান খানের ছেলের শঙ্কা
News Photocard (21)
চীনে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা
News Photocard (18)
মালয়েশিয়ার নথিহীন বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের বিশেষ নির্দেশনা
News Photocard (15)
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলা, পাল্টা মার্কিন অভিযানে ৩ ট্যাংকার ধ্বংস

ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর উদ্যোগ, ঢাকায় শুরু হচ্ছে বৈঠক

ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা ফের চালুর উদ্যোগ, ঢাকায় শুরু হচ্ছে বৈঠক, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আগামী মাসে ফের চালুর সম্ভাবনা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসসহ দুই দেশের আন্তর্দেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করা নিয়ে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী বার্ষিক আন্ত সরকারি রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম) শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একমত হলে আগামী মাস থেকেই কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা নিয়ে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

আইজিআরএম ভারত ও বাংলাদেশের একটি বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় ফোরাম। এই বৈঠকে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ আন্ত সীমান্ত ট্রেন পরিচালনা, রেল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে।

এর আগে আইজিআরএমের বৈঠক নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পর এবারই প্রথম বার্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে ট্রেনগুলো কবে নাগাদ ফের চালু হবে। তবে বৈঠকে সমঝোতা হলে আগামী মাস থেকেই তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

কোন তিনটি ট্রেন ফের চালুর পরিকল্পনা

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পুনরায় রেল যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনায় মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনটি ট্রেনই ভিন্ন ভিন্ন সীমান্ত ও রুট দিয়ে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরকে যুক্ত করে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস

গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচল করে মৈত্রী এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় নেয়।

এবার মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার প্রস্তাব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে এই রুটের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বন্ধন এক্সপ্রেস

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কলকাতা ও খুলনার মধ্যে চলাচল করে বন্ধন এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এবং এতে সময় লাগে সাড়ে ৫ ঘণ্টা।

দুই দেশের আন্তঃসীমান্ত যাত্রী পরিবহনে এই ট্রেনটিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বন্ধ থাকা পরিষেবা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় এটিও রয়েছে।

মিতালী এক্সপ্রেস

২০২১ সালে চালু হওয়া মিতালী এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে চলাচল করে। হলদিবাড়ি-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে চলা এই ট্রেনটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় নেয়।

মিতালী এক্সপ্রেসের একটি রেক ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় আটকে পড়েছিল। পরে গত ডিসেম্বরে সেটি ভারতে ফিরে যায়।

নতুন যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ

চলমান তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ নতুন একটি আন্তর্দেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দিতে যাচ্ছে।

প্রস্তাবিত নতুন রুটটি হবে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত। অর্থাৎ পুরোনো ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর আলোচনার পাশাপাশি নতুন একটি যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় আসতে যাচ্ছে।

তবে নতুন ট্রেনটি কবে চালু হবে বা কীভাবে পরিচালিত হবে—এ বিষয়ে SOURCE NEWS TEXT-এ বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

ট্রেনের পাশাপাশি রেল প্রকল্প ও পণ্য পরিবহন নিয়ে আলোচনা

আইজিআরএম বৈঠকে শুধু যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয় নয়, স্থগিত থাকা বিভিন্ন রেল প্রকল্প এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও আলোচনায় থাকবে।

এর মধ্যে ঢাকার কমলাপুর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুর পর্যন্ত দুটি নতুন রেললাইন নির্মাণকাজের বিষয় রয়েছে।

দুই দেশের রেল যোগাযোগের সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এসব বিষয় বৈঠকের আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।

ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ

বাংলাদেশকে নতুন ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ সরবরাহের বিষয়টিও দুই দেশের রেল সহযোগিতার আলোচনায় রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারত ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ সরবরাহ করছে।

এরই মধ্যে ১৯টি কোচের প্রথম রেক ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের কোচগুলো ২০২৬ সালের জুন থেকে যুক্ত হতে শুরু করবে বলে SOURCE NEWS TEXT-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালে বন্ধ হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা

ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা ২০২৪ সালে বন্ধ হওয়ার পর এবারই প্রথম আইজিআরএমের বার্ষিক বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসছে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা আন্তর্দেশীয় ট্রেন চালু, নতুন রুটের প্রস্তাব, রেল অবকাঠামো এবং পণ্য পরিবহন নিয়ে আলোচনা করবেন। বৈঠকে কোনো সমঝোতা হলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পথ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে রাজশাহী-কলকাতা নতুন যাত্রীবাহী ট্রেনের প্রস্তাব এবং স্থগিত রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা দুই দেশের রেল যোগাযোগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবার সম্ভাব্য পুনরারম্ভ

বর্তমানে মূল বিষয় হলো দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের আলোচনার ফলাফল। ৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঐকমত্য হলে আগামী মাস থেকেই কলকাতা ও নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন পুনরায় চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে।

মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেসের পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা নতুন ট্রেনের প্রস্তাব, রেললাইন নির্মাণ এবং নতুন কোচ সরবরাহ—সব মিলিয়ে বৈঠকটি দুই দেশের রেল সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ট্রেনগুলো ঠিক কবে পুনরায় চলাচল শুরু করবে, তা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুই দিনের আইজিআরএম বৈঠক। মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা নতুন ট্রেন, রেল অবকাঠামো এবং পণ্য পরিবহন নিয়েও আলোচনা হবে।

দুই দেশের প্রতিনিধিরা একমত হলে আগামী মাস থেকেই তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রেন ফের চলাচল শুরু করতে পারে। ফলে বৈঠকের সিদ্ধান্তই এখন ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্দেশীয় রেল যোগাযোগ পুনরারম্ভের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত