আরও খবর

News Photocard (3)
দুপুরের মধ্যে দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
News Photocard (30)
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
News Photocard (21)
মাদক নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তারাই জড়াচ্ছেন মাদক কারবারে
News Photocard
পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি আজ? যা জানা গেল
News Photocard (9)
জিপিএ ৫ পেয়েও প্রথম ধাপে কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ২২ মামলা, ২৭৫ আসামির ২০৪ জনই পলাতক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে নতুন চিত্র সামনে এসেছে। ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ২২ মামলা, ২৭৫ আসামির ২০৪ জনই পলাতক, কারাগারে আছেন ৭১ জন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বেঞ্চে বর্তমানে ২২টি মামলার বিচার চলছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুম, আটক, নির্যাতন, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা এসব মামলায় মোট আসামি ২৭৫ জন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে ২০৪ জনই পলাতক এবং গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ৭১ জন।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন এসব মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় যেকোনো সময় হতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় আসামি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজন। চার আসামিই পলাতক।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা ও ২০৪ আসামির পলাতক থাকা

বিচারাধীন ২২ মামলায় ২৭৫ আসামির মধ্যে ২০৪ জনের পলাতক থাকা মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরছে। বাকি ৭১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন মামলাগুলোতে একদিকে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা রয়েছে; অন্যদিকে রয়েছে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ।

মামলাগুলোর ধরনও এক নয়। গুম, কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ, জঙ্গি দমনের নামে হত্যাকাণ্ড এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান—বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ এসব মামলার আওতায় এসেছে।

একটি মামলার রায় যেকোনো সময়

বিচারাধীন ২২ মামলার মধ্যে একটি মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং সেটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা ওই মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজন আসামি রয়েছেন।

গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। মামলার চার আসামিই পলাতক।

এই মামলার রায়ের দিকে তাই সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি রয়েছে। তবে রায়ের নির্দিষ্ট তারিখ সোর্সে উল্লেখ করা হয়নি।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছয় মামলার বিচার

বিচারাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার বিচার চলছে।

এর মধ্যে দুটি মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন বা টিএফআই সেল এবং ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। ওই দুটি মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

এ ছাড়া শাপলা চত্বরের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ড, কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’, গাজীপুরের জয়দেবপুর এবং টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এভাবে বিচারাধীন মামলাগুলোর একটি অংশ আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা ঘটনাকে কেন্দ্র করে, আরেকটি অংশ চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ নিয়ে এগোচ্ছে।

ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এর আওতায় মামলা

চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ৩৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এর অধীনে ১০টি মামলা রয়েছে—এগুলো বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার সামগ্রিক হিসাবের অংশ।

মামলাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গুমসংক্রান্ত ১১টি মামলা রয়েছে। কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে রয়েছে দুটি মামলা। জঙ্গি দমনের নামে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে রয়েছে একটি মামলা। আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রয়েছে ৩০টি মামলা।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় বা ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

আরও ৪৪ মামলার তদন্ত চলছে

বিচারাধীন মামলার পাশাপাশি আরও ৪৪টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলায় আসামি ১৪৪ জন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করেই এসব মামলার তদন্ত হচ্ছে।

এর মধ্যে গুমসংক্রান্ত মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুমের মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অচিরেই ১১টি গুমসংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে তদন্ত সংস্থা।

বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মামলাগুলোতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আড়াই শতাধিক নিখোঁজ ব্যক্তির অভিযোগ

গুমের অভিযোগ ঘিরে আরও একটি মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া আড়াই শতাধিক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনাও রয়েছে।

এটি তদন্তাধীন মামলাগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নতুন মামলাটির বিস্তারিত অভিযোগ, আসামির সংখ্যা বা বিচার শুরুর সময় সম্পর্কে সোর্সে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিচার ও তদন্ত—দুই পর্যায়েই কার্যক্রম

বর্তমান চিত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে দুটি পর্যায়ে দেখা যায়—একদিকে ২২টি মামলার বিচার চলছে, অন্যদিকে ৪৪টি মামলার তদন্ত চলছে।

বিচারাধীন ২২ মামলায় মোট ২৭৫ আসামির মধ্যে ২০৪ জন পলাতক এবং ৭১ জন কারাগারে আছেন। অন্যদিকে তদন্তাধীন ৪৪ মামলায় আসামি ১৪৪ জন।

ফলে ট্রাইব্যুনালের সামনে একই সময়ে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন—দুই ধরনের বিপুলসংখ্যক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গুমের অভিযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত দ্রুত শেষ করার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বিচারাধীন একটি মামলার রায় যেকোনো সময় হতে পারে। মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার আসামির ওই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষা চলছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন মামলাগুলোর পাশাপাশি তদন্তাধীন মামলাগুলোর অগ্রগতিও নজরে থাকবে। বিশেষ করে গুমসংক্রান্ত ১১টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দাখিলের কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া আড়াই শতাধিক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা নতুন মামলাটিও পরবর্তী সময়ে বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো সোর্সে চূড়ান্ত মামলা নম্বর, আসামির তালিকা বা বিচার শুরুর তারিখ উল্লেখ নেই।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা নিয়ে সামগ্রিক চিত্রে তাই একদিকে ২২টি মামলার চলমান বিচার, অন্যদিকে ৪৪টি মামলার তদন্ত এবং গুমের অভিযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সময়ে ২৭৫ বিচারাধীন আসামির মধ্যে ২০৪ জনের পলাতক থাকা বিচারপ্রক্রিয়ার একটি উল্লেখযোগ্য বাস্তবতা হিসেবে উঠে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত