আরও খবর

News Photocard (3)
দুপুরের মধ্যে দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
News Photocard
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ২২ মামলা, ২৭৫ আসামির ২০৪ জনই পলাতক
News Photocard (30)
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের তিরস্কার করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
News Photocard (21)
মাদক নিয়ন্ত্রণের কর্মকর্তারাই জড়াচ্ছেন মাদক কারবারে
News Photocard
পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি আজ? যা জানা গেল

প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন

প্রধানমন্ত্রী কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, সফরসঙ্গী চার মন্ত্রীসহ ৩৫ জন, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্যে গণতন্ত্র, শান্তি, জলবায়ু ও উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন নিউইয়র্ক সফরের কর্মসূচি ও সফরসঙ্গীদের বিষয়ে রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর। সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য দেওয়া।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্ক সফরে থাকছেন মোট ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন রয়েছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে। সাধারণ বিতর্কের নির্ধারিত সময় ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

এটি জাতিসংঘের চলমান ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই পর্বে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।

সফরসঙ্গী ৩৫ জন, থাকছেন চার মন্ত্রী

পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর-এর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী রয়েছেন।

সফরসঙ্গী মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন—

  • অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
  • আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

এ ছাড়া সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।

অর্থাৎ, সফরটি শুধু সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; রাজনৈতিক পরিসরের প্রতিনিধিও এতে যুক্ত থাকছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পাঁচটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দুটি ইভেন্ট

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ উচ্চপর্যায়ের মোট পাঁচটি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এর বাইরে বাংলাদেশ সম্মেলনের ফাঁকে দুটি ইভেন্টের আয়োজন করেছে।

সফরের সময় কম হলেও এসব কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে পাঁচটি বৈঠক ও দুটি ইভেন্টের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়নি।

রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনার অংশ

প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচির মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রসচিব। এর মাধ্যমে নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও আলোচনায় থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

তবে এসব বৈঠকে নির্দিষ্ট কোন কোন দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বা বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল কী হবে—এ বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যের বাইরে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রসচিব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হবে কি না, সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় যুক্ত বা বাদ পড়তে পারে। অর্থাৎ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দেননি।

এই বক্তব্যের ফলে এ মুহূর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য বলা যাচ্ছে না। পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে নতুন সরকারের প্রথম অংশগ্রহণ

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। তাঁর মতে, এই সফরের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বও এবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ওপর রয়েছে। জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি এবং তাঁর সভাপতিত্বে অধিবেশনের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্রসচিব এই বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের বলে উল্লেখ করেন।

বিরল মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ পররাষ্ট্রসচিবের

আসাদ আলম সিয়ামের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবার প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।

জাতিসংঘের তথ্যও নিশ্চিত করছে যে ২০২৬–২৭ মেয়াদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের সময়সূচি

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সফরের প্রধান সময়সূচি হলো—

২১ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

২৪ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন।

২৫ সেপ্টেম্বর রাতে: নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের প্রকাশিত সূচিতেও ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং ২২–২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য সফরের আলোচ্য বিষয়

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেগুলো মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

এর মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা।

এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারও বক্তব্যের অংশ হবে। ফলে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের মূল আলোচনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের পাশাপাশি বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও স্থান পাচ্ছে।

সফরের বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়েও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা থাকার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রেক্ষাপট

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের থিম হলো ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।

সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং পরে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময় বিশ্বনেতারা বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার নিয়ে বক্তব্য দেবেন।

এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা থেকে শুরু করে জলবায়ু, শান্তি, উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার পর্যন্ত একাধিক বিষয় উঠে আসবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন, যাঁদের মধ্যে চারজন মন্ত্রী রয়েছেন।

সফরে পাঁচটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সুশাসনসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার আলোচনায় থাকবে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন, বহুপক্ষীয় সফরের কর্মসূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো একই অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন। জাতিসংঘের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন তিনিই।

সর্বাধিক পঠিত